জানুয়ারি ৩১, ২০২০ ১৩:০১ Asia/Dhaka
  • নির্বাচন কমিশনের ওপর সব রাজনৈতিক দলের আস্থার ইতিহাস নেই‌: সিইসি

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩১ জানুয়ারি শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

প্রথমে বাংলাদেশে:

  • বাড়াবাড়ি করবে না পুলিশ -দৈনিক প্রথম আলো
  • করোনাভাইরাস আতঙ্কে প্রমোদতরী বন্দী ৭০০০ পর্যটক-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • নির্বাচন কমিশনের ওপর সব রাজনৈতিক দলের আস্থার ইতিহাস নেই‌: সিইসি-দৈনিক কালেরকণ্ঠ
  • চীন থেকে ফিরছেন ৩৬১ বাংলাদেশি, ১৪ দিন রাখা হবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে: দৈনিক যুগান্তর
  • এইচটি ইমামের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়: বিএনপি দৈনিক ইত্তেফাক
  • কেন্দ্র দখল নয় পাহারা দিব: ইশরাক-দৈনিক মানবজমিন
  • ধানের শীষের করুণ পরাজয় দেখছেন জয় –দৈনিক  নয়া দিগন্ত

ভারতের খবর:

  • জামিয়ার বন্দুকবাজকে সংবর্ধনা দিতে চায় হিন্দু মহাসভা, ‘কে টাকা জোগাল’, প্রশ্ন রাহুলের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • ১০ ঘণ্টার অপারেশনে অভিযুক্ত সুভাষকে খতম করল পুলিশ, জনতার গণপিটুনিতে মৃত অভিযুক্তের স্ত্রী-দৈনিক আজকাল
  • মমতা-কেজরির ‘বন্ধুত্ব’, দিল্লি বিধানসভা ভোটে আপকে সমর্থন তৃণমূলের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

শ্রোতাবন্ধুরা-এবার বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

বাড়াবাড়ি করবে না পুলিশ -দৈনিক প্রথম আলো

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় পুলিশকে বাড়াবাড়ি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার জানান, সবাইকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছেন, এবারের নির্বাচনে পুলিশ কোনো বাড়াবাড়ি আচরণ করবে না। পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকেও বিরত থাকবে তারা। তবে পুলিশের উদ্বেগ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নিয়ে। যেসব ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন, সেসব স্থানে সহিংস ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। এ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

আগামীকাল শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ২ হাজার ৪৬৮টি কেন্দ্রে একটানা ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতকাল থেকেই মাঠে নামতে শুরু করেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫০ হাজার সদস্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, আপাতত কোথাও কোনো ঝুঁকি তিনি দেখছেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মহানগরের সব উপকমিশনারকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে তাঁদের কঠোর হতেও বলা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্র ও এর আশপাশে যেকোনো ধরনের সহিংস তৎপরতা দমন করা হবে বলে তিনি জানান।

সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই পুলিশের ধরপাকড়ের আশঙ্কা করছিলেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা। তবে গতকাল পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযানের খবর পাওয়া যায়নি। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে মাত্র ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ গতকাল সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি বলেন, বাইরের ভোটারদের ঢাকা ছাড়তে হবে। আবার ঢাকাবাসীদের বাইরে বের হওয়ার সময় ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। কাউন্সিলর নির্বাচনের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দিতে বলেন। কোনো ছিনতাইকারী বা ম্যানহোলের ঢাকনাচোরকে ভোট না দেওয়ার জন্যও ভোটারদের আহ্বান জানান তিনি।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রার্থীদের মধ্যে সংক্ষুব্ধ যে কেউ অন্যায়–অবিচারের অভিযোগ করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এত দিন পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার চলেছে। অনেক প্রার্থীর পক্ষে তাঁদের আত্মীয়স্বজনেরা প্রচারে অংশ নিয়েছেন। আমরা আশা করব, এবার আপনারা ঢাকা ছেড়ে চলে যাবেন। অপ্রয়োজনীয় ঢাকা সফর নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’ ঢাকা ছেড়ে না গেলে র‍্যাব কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অবশ্য র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেছেন, কাউকে জেলে পোরা র‍্যাবের উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত ভোটাররা যেন ঠিকঠাক ভোট দিতে পারেন, সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জরুরি প্রয়োজন, চিকিৎসা, চাকরির সাক্ষাৎকার বা বিদেশযাত্রার জন্য বাসা থেকে বের হওয়ায় কোনো সমস্যা নেই।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ঢাকায় প্রবেশের যে কথা বলেছেন, সে সম্পর্কে র‍্যাবের কাছে কি খবর আছে, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি। বেনজীর বলেন, রাজনীতিবিদদের কথার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি মন্তব্য করা থেকে বরাবর বিরত থাকছেন। এ দফাতেও তা–ই থাকবেন। তবে সব ধরনের ঝুঁকি ও আশঙ্কা তলিয়ে দেখা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও খেয়াল রাখা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী যেখানে যে আইন প্রযোজ্য, সেখানে সে আইন প্রয়োগ করা হবে। বিরোধীদলীয় প্রার্থীরা ধরপাকড়ের যে আশঙ্কার কথা বলছেন সে সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘ওরা আশঙ্কা করতে থাক, আমরা নির্বাচন করি।’

র‍্যাবের পাঁচটি ব্যাটালিয়নই আজ শুক্রবার থেকে কাজ করার কথা। নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত র‍্যাবের বিশেষ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এই কাজে বোম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিচৌকি থাকবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, প্রবেশপথ ও ভোটকেন্দ্রের আশপাশে বিশেষ নজর থাকবে র‍্যাবের। ঢাকায় ১২৯টি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। প্রার্থীদের র‍্যাব মহাপরিচালক আইনকানুন মেনে চলার অনুরোধ করেছেন। কেউ গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করলে র‍্যাব তাৎক্ষণিকভাবে নিবৃত্ত করবে বলেও জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাস আতঙ্কে প্রমোদতরী বন্দী ৭০০০ পর্যটক-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

করোনভাইরাসে একজন আক্রান্তের শঙ্কার পর ইতালির একটি প্রমোতরীতে প্রায় ৭ হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন। রোমের সিভিটাভেচিয়া বন্দরের কাছাকাছি ইতালিয়ান সংস্থা কোস্টা ক্রোসিয়ারের এক প্রমোদতরীতে ছিলেন চীন শাসনাধীন ম্যাকাউয়ের এক দম্পতি। স্ত্রীর জ্বরে আক্রান্ত হলে জাহাজে থাকা তিনজন চিকিৎসক ও একজন নার্স তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান।

ইতালিয়ান কোম্পানি কোস্টা ক্রোসেয়ারে নিশ্চিত করেছে কোস্টা মেরালডা নামের ওই প্রমোদতরীতে তাদের মালিকাধাধিন। যাত্রী ও ক্রুসদস্যসহ বর্তমানে অবরুদ্ধ ওই জাহাজটিতে প্রায় ৭ হাজার মানুষ রয়েছেন। কোম্পানিটির মুখপাত্র বলেছেন, ‘সেখানে ম্যাকাউয়ের এক নারীর আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ 

প্রমোদতরীটি দক্ষিণ ইতালির সাভোনা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর দক্ষিণ ফ্রান্সের মারসেইলি, স্পেনের বার্সেলোনা ও পালমা বন্দরে যাত্রাবিরতির পর সিভিটাভেচিয়া বন্দরে পৌঁছায়। স্থানীয় সংবাদ সংস্থ এএনএসএ বলছে, বিকেলের মধ্যেই পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে। ৫৪ বছর বয়সী নারী ও তার স্বামীকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ওপর সব রাজনৈতিক দলের আস্থার ইতিহাস নেই‌: সিইসি-দৈনিক কালেরকণ্ঠ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর সব রাজনৈতিক দলের আস্থা ছিল, এমন ইতিহাস নেই‌।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে ইভিএম মেশিন বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন কমিশনের ওপর রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ফিরে আসবে কি না এমন  প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আস্থার বিষয়টা নির্ভর করে মানুষের মন-মানসিকতার ওপর। বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের ওপর সব রাজনৈতিক দলের আস্থা ছিল, এমন ইতিহাস নেই‌। তাই সেসব নিয়ে আমরা ভাবছি না।’

ইভিএম প্রসঙ্গে কে এম নূরুল হুদা বলেন, এবারের নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। নতুন এই পদ্ধতির জন্য ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের যথেষ্ট প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই জানিয়ে আগামী শনিবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক হবে বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

চীন থেকে ফিরছেন ৩৬১ বাংলাদেশি, ১৪ দিন রাখা হবে নিবিড় পর্যবেক্ষণে: দৈনিক যুগান্তর

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই আজ চীন থেকে দেশে ফিরছেন ৩৬১ বাংলাদেশি। তাদের দেশে ফেরানোর পর ১৪ দিন আলাদাভাবে আশকোনা হজ ক্যাম্পে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হবে।

শুক্রবার সকালে করোনাভাইরাস নিয়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। সেখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও উপস্থিত ছিলেন। তারা এ তথ্য জানান।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে হটলাইন চালু করা হয়েছে। চীন থেকে যারা দেশে আসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের আজ ফেরানো হচ্ছে। ৩৬১ জনকে আজ দেশে আনা হচ্ছে। এজন্য একটি বিশেষ ফ্লাইট বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাচ্ছে। ফ্লাইটটি শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গতকাল চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য সুযোগ পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাদের ফেরত আনার কথা বলেন। এছাড়া যারা চীনে অবস্থান করছেন, তারা যদি দেশে ফিরে আসতে চান, তাদের ফিরিয়ে আনা হবে বলেও আশ্বাস দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনার পর ১৪ দিন আশকোনা হজক্যাম্পে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই দুই সপ্তাহ সময়টাতে তাদের সঙ্গে দেখা করতে পরিবার যেন ভিড় না করেন, সে বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। সেখানে বাংলাদেশিদের চিকিৎসা, থাকা ও শুশ্রূষার যাবতীয় দায়দায়িত্ব সরকার নেবে বলেও জানান দুই মন্ত্রী।

৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর গত একমাসে প্রায় গোটা চীনে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১৩ জন মারা গেছেন। বিশ্বের আরও ১৯টি দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এরই মধ্যে এই ভাইরাস ঘিরে বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

যে উহানে করোনাভাইরাসের সন্ধান প্রথম পাওয়া গেছে, সেই উহান শহরেরই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চার থেকে পাঁচশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছেন। তারা সেখানে আতঙ্কের সঙ্গে দিনানিপাত করছেন। তারা দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

এইচটি ইমামের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়: বিএনপি দৈনিক ইত্তেফাক

বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়ে এইচটি ইমামের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তারা একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সব কাজগুলো করছেন এবং কোনো পর্যবেক্ষক তারা রাখতে চাচ্ছেন না-এটা তারই একটা নিদর্শন।

বৃহস্পতিবার গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে ফখরুল একথা বলেন। তিনি বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই তারা এটা করেছিলেন, তারা অবজারভারদের আসতে দেননি, সরকার তাদের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাদের মূল যে একটা পরিকল্পনা তারা ফলস্ ইলেকশন করবে, কারচুপি করবে, ফলাফল তাদের পক্ষে নেবে । পুরো প্রশাসনকে ব্যবহার করে তারা এটা করেছিলো। এবার তারা সেই উদ্দেশ্যেই এইসব কথাগুলো বলছে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর নির্বাচনে কমিশনের গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের এই মন্তব্য করেন। ফখরুল বলেন, গতবারও যে দেশ থেকে পর্যবেক্ষক এসেছিলো, তারা বলেছি যে, নির্বাচনটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। ঠিক একইভাবে তারা যখন নির্বাচন অবজারভ করতে চান সেখানে তারা(সরকার) বাধা দিচ্ছেন। এটাতে প্রমাণিত হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্যটা একই আছে, তারা নির্বাচনটা নিয়ন্ত্রণ করতে চান । নির্বাচনটা তাদের পক্ষে নিয়ে আসতে চান।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে তারা ধ্বংস করে ফেলেছে । নির্বাচন কমিশন এতো অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন যে, তাদের যে স্বাধীনতাকে প্রয়োগ করতে পারছেন না । সংবিধান সম্মত যে অধিকারগুলো রয়েছে তা প্রয়োগ করতে পারছেন না।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপেতে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়া খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্র দখল নয় পাহারা দিব: ইশরাক-দৈনিক মানবজমিন

বিএনপি কেন্দ্র দখল নয়, পাহারা দেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণে দলটির মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আজ শুক্রবার বেলা বারোটায় গুলশানের বে টাওয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি।ইশরাক হোসেন বলেন, জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা তাদের রায় দিবে। তাই তাদের ভোট দেয়ার জন্য আমাদের দলের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় সব করা হবে। আমরা প্রত্যেকটা কেন্দ্র পাহারা দিব, দখলমুক্ত রাখবো এবং ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করব।এখন পর্যন্ত যে পরিবেশ ভোটাররা ভোট দিতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নে ইশরাক হোসেন বলেন, সেটা আগামীকাল দেখা যাবে। ২০১৫ সালের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ব্যালটে সিল মেরেছিল ক্ষমতায় মেয়র হয়েছিল। এবার জনগণের প্রশ্ন এবার কিভাবে সিল মারবে? এবারতো ইভিএমে ভোট। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি ভোটের দিন আটটার আগে ইভিএম মেশিন খোলা হবে। যদিও এসব বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।তারপরেও দেখা যাক কি হয়।আপনারা কতগুলো কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৪০০ কেন্দ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছি। কিন্তু এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।তিনি বলেন, একটা বিষয় আমার কাছে খুব অবাক লেগেছে গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর উপর হামলা হয়েছে। কিন্তু আমি সেখানে গিয়ে দেখলাম অল্প কয়েকটা মিডিয়া ছাড়া কেউ ছিল না। আজকে গুরুত্বসহকারে এটা প্রচার করা হয়নি। কালকে সারাদিন প্রচার করা হল কোন এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে সে নাকি আমার লোক। একটা অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু একজন সিনিয়র নেতাকে এইভাবে মারা হলো শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে সেটা নিয়ে মিডিয়ার কোন তৎপরতা আমরা দেখিনি। তাই আমি গণমাধ্যমের সকলকে অনুরোধ জানাবো আপনারাই আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল। আপনারা জনগণের কাছে সঠিক তথ্যটা তুলে ধরুন। এটাই আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ।প্রতিনিধি দল সঙ্গে আপনার কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, এটা আমাদের পূর্ব নির্ধারিত একটা বৈঠক ছিল। তারা প্রত্যেকটা প্রার্থীর সাথে দেখা করেছেন। কথা বলেছেন। আমাদের মতামত জানার জন্য বসেছেন। আমি আমাদের আমার বিষয়গুলো তাদের কাছে তুলে ধরেছি। আমার কাছে জানতে চেয়েছেন সার্বিক বিষয়টা কেমন ছিল। কিছুদিন আগে আমাদের প্রচারণায় হামলা হয়েছে এ বিষয়ে আমি তাদের অবহিত করেছি। এবং আগামীকাল ভোটের দিন আমাদের কি কি শঙ্কা রয়েছে এসব তারা জানতে চেয়েছেন। ইভিএমের ব্যাপারে আমাদের আমাদের শঙ্কা রয়েছে। ঢাকার বাইরে থেকে লোক জড়ো করে সরকারদলীয় লোকেরা যে কেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছে এসব বিষয়ে আমি তাদের অবহিত করেছি। পূর্বেতো তারাতো দেখেছে গত জাতীয় নির্বাচনে কি কি ঘটনা ঘটেছিল।এসব বিষয় জানার পর তারা কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কিনা জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, গতকালকে বেশ কয়েকটি সংবিধান সংস্থা বিবৃতি দিয়েছে। আর আগামীকাল ভোটের দিন তারা বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে যাবেন বলে আমাকে জানিয়েছে।খবর এসেছে পুরনো মামলার কথা বলে বিভিন্ন ওয়ার্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে এ বিষয়ে আপনি কিছু জানেন কিনা বা নির্বাচন কমিশনের কোনো অভিযোগ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী বলেন, আমরা সবই জানি। সব তথ্যই আমাদের কাছে এসেছে। এই পর্যন্ত আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনেক অভিযোগ দিয়েছি, কমিশনে অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু এর কোনো প্রতিকার পাইনি। তাই আমি মনে করি এখন আর তাদের কাছে এগুলো জানিয়ে কোন লাভ হবেনা। এর পেছনে আমি সময় অপচয় করতে চাচ্ছি না। এখন শুধু আগামীকালকের ভোট নিয়ে ভাবছি। পোলিং এজেন্ট নিশ্চিত করা এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে সে ব্যবস্থার বিষয় নিয়েই ভাবছি।

ধানের শীষের করুণ পরাজয় দেখছেন জয় –দৈনিক  নয়া দিগন্ত

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিএনপির দুই প্রার্থীর করুণ পরাজয় দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তার জরিপ অনুযায়ী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

একটি জরিপের ফলাফল ভোটগ্রহণের দুদিন আগে বৃহস্পতিবার নিজের ফেইসবুক পাতায় শেয়ার করেছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, ‘এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় শুধু নিশ্চিতই নয়, ব্যাপক ব্যবধানে জয়ও নিশ্চিত।’

প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয় বলেছেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র নির্বাচন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে এই জনমত জরিপটি করা হয়েছিল। দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে উত্তরের ১৩০১ জন ও দক্ষিণের ১২৪৫ ভোটারের মতামত নিয়ে এই জরিপটি চালানো হয়।

‘জরিপটি করা হয় সামনাসামনি, অর্থাৎ অনলাইনের মাধ্যমে নয়। মক ব্যালট এর মাধ্যমে এই জরিপটি করার কারণে আমরা বা জরিপকারী কারোরই জানার সুযোগ থাকে না কে কাকে ভোট দিল।’

‘জরিপ করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল পদ্ধতি এটি’- এ মন্তব্য করে তিনি লিখেছেন, ‘নির্ভয়ে, নির্দ্বিধায় মানুষ জরিপে অংশগ্রহণ করতে পারে। তারপরেও যারা কোনো অপশনই বেছে নেয় না, তাদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাই কম। কারণ সাধারণত কোনো নির্বাচনেই ১০০% ভোট পড়ে না। এই জরিপের ফলাফল ভুল হওয়ার সম্ভাবনা +-৩%।’এর আগে সংসদ নির্বাচনসহ কয়েকটি নির্বাচনের আগে নিজের উদ্যোগে পরিচালিত জরিপের ফল জানিয়েছিলেন জয়, যার সাথে ভোটের ফল অনেকটাই মিলে গিয়েছিল। এবার ঢাকা সিটি ভোটের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো যখন তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল, তখনই নতুন জরিপটি চালানো হয় বলে জানান জয়।

তিনি বলেন, ‘তাই জরিপের সাথে আসল ফলাফলের কিছুটা পার্থক্য হতেই পারে। তারপরেও সেই পার্থক্য ৫-১০% এর বেশি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম।’ ‘কারণ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ১০% এর বেশি ভোট কোনো দলের পক্ষেই পরিবর্তন করে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা কঠিন। তাই এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় শুধু নিশ্চিতই নয়, ব্যাপক ব্যবধানে জয়ও নিশ্চিত।’ ভোটার জরিপের উত্তরের ফলাফলও ফেইসবুকে তুলে ধরেছেন তিনি।

নির্বাচনী প্রচারে শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচনী প্রচারে শেখ ফজলে নূর তাপস। নির্বাচনী প্রচারে আতিকুল ইসলাম।নির্বাচনী প্রচারে আতিকুল ইসলাম। তাতে দেখা যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামের পক্ষে রয়েছেন ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আওয়ালের ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

উত্তর সিটির জরিপে সিদ্ধান্ত দেননি ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার, উত্তর দেননি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নুর তাপসের পক্ষে রয়েছেন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার। বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের পক্ষে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। দক্ষিণ সিটির জরিপে সিদ্ধান্ত দেননি ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার, উত্তর দেননি ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন ৩ দশমিক ৮ শতাংশ।

এবার ভারতের বিস্তারিত কিছু খবর তুলে ধরছি

জামিয়ার বন্দুকবাজকে সংবর্ধনা দিতে চায় হিন্দু মহাসভা, ‘কে টাকা জোগাল’, প্রশ্ন রাহুলের-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

জামিয়ার বাইরে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে তাকে। ১৭ বছরের ওই বন্দুকবাজের গুলিতে জখম হয়েছেন কাশ্মীরি যুবক শাদাব ফারুক। এই ‘সাহসিকতার’ জন্যে পুরস্কৃত করতে চায় হিন্দু মহাসভা। এই সংগঠন মনে করে ‘‘নাথুরামের যোগ্য উত্তরসূরি ও।’’ জামিয়ার বাইরে গুলিচালনা নিয়ে নিয়ে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কে টাকা জোগাল এই বন্দুকবাজকে?’’

শুক্রবার হিন্দুমহাসভার মুখপাত্র অশোক পাণ্ডে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমরা এই ছেলেটির জন্যে ছেলেটির জন্যে গর্বিত। জামিয়ার অ্যান্টি ন্যাশনালদের মুখ বন্ধ করতে উদ্যত  হয়েছিল। একেবারে আজাদি দিয়ে দিতে চেয়েছিল।’’ অশোক পাণ্ডের আরও দাবি, ‘‘শরজিলের মতো দেশদ্রোহীদের গুলি করেই মারা উচিত।’’

সম্প্রতি দিল্লি ভোটের প্রচারে গিয়ে ‘দেশ কে গদ্দারোঁ কো, গোলি মারো শালো কো’ স্লোগান তুলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। ৫ জানুয়ারি জেএনইউয়ে কাপড়ে মুখ ঢেকে দুষ্কৃতীরা চড়াও হওয়ার দিনেও এই স্লোগান শোনা গিয়েছিল সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র সমর্থকদের মুখে। ফলে বিরোধীরা এই ঘটনার জন্যে গেরুয়া শিবিরকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে । বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন রাহুল গাঁধী। ‘‘কে টাকা জোগাল এই বন্দুকবাজকে?’’প্রশ্ন রাহুলের। রাজনৈতিক মহলের অনুমান  রাহুল ঘুরিয়ে শাসক দলের দিকেই আঙুল তুলছেন। বৃহস্পতিবারই মুখ খুলেছিলেন রাহুল। তিনি মহত্মা গাঁধীকে উদ্ধৃত করেন। লেখেন, ‘‘এই অবস্থায় জীবনের মূল্যেই মাথা না নোয়ানোর শিক্ষা অর্জন করতে হবে।’’

মহাত্মা গাঁধীর ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে  সিএএ বিরোধী মিছিলের আয়োজন করেছিল জামিয়ার পড়ুয়ারা। হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালের সামনে বসানো ব্যারিকেড দিয়ে এই মিছিল আটকানো হয়। এগোতে না পেরে ব্যারিকেডের সামনেই রাস্তায় বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। সেই সময়ই তাঁদের উপর চড়াও হন ওই কিশোর। পিস্তল উঁচিয়ে সে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলতে থাকে। ‘ইয়ে লো আজাদি’ বলে গুলিও চালায় সে। দেখা যায়,ফেসবুকে রীতিমতো জেহাদ ঘোষণা করেই এই মিছিলে গিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের গৌতমবুদ্ধ নগরেরে বাসিন্দা ওই কিশোর। বন্দুক হাতে লাইভ ভিডিয়োও করেছিল সে।

১০ ঘণ্টার অপারেশনে অভিযুক্ত সুভাষকে খতম করল পুলিশ, জনতার গণপিটুনিতে মৃত অভিযুক্তের স্ত্রী-দৈনিক আজকাল​​​​​​​

১০ ঘণ্টার অপারেশনে মিলল সাফল্য। উত্তরপ্রদেশের ফারুখাবাদে এনকাউন্টারে নিকেশ অপহরণকারী সুভাষ বাথাম। সুস্থভাবে উদ্ধার করা হয়েছে ২৩ জন শিশুকে। পুলিশের সাফল্যে বেজায় খুশি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। উদ্ধারকারী পুলিশদের ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তিনি।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জামিনে মুক্তি পেয়ে খুনের অভিযুক্ত সুভাষ বাথাম নিজের স্ত্রী, এক বছরের কন্যা সহ ২৩ জন শিশুকে নিজের বাড়িতেই পণবন্দি করে রেখেছিল। রুদ্ধশ্বাস পুলিশি অ্যাকশনের পরে অভিযুক্তের কাছ থেকে মুক্ত করা গেছে ২৩ জন শিশুকে। অভিযুক্তও নিহত হয়েছে পুলিশের গুলিতে। এবার রক্ষা পেলেন না তার স্ত্রীও। জনরোষের মুখে পড়ে, গণপিটুনিতে মৃত্যু হল তাঁর! কিন্তু এই গোটা ঘটনায় অভিযুক্তের স্ত্রী–র আদৌ কোনও ভূমিকা ছিল কিনা, তা জানাই যায়নি। তদন্ত শুরু হয়েছিল সবে। কিন্তু উত্তেজিত জনতা সে সুযোগই রাখল না। পিটিয়ে মেরে ফেলা হল তাকে।খুনের দায়ে অভিযুক্ত সুভাষ নিজের মেয়ের জন্মদিন পালনের নামে বৃহস্পতিবার গ্রামের বেশ কিছু শিশুকে নিমন্ত্রণ করে। যেই তারা বাড়িতে আসে, সে তাদের বন্দুক দেখিয়ে ভেতরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। তার মধ্যে সুভাষের স্ত্রী ও কন্যাও ছিল। বাচ্চারা বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি দিতে থাকলে সুভাষ গুলি চালাতে থাকে। তাতে একজন আহত হন। এরপর অভিভাবকরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ পিসিআর ভ্যান নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে সুভাষ বাথাম বাড়ির ভেতর থেকে তাঁদের উদ্দেশে গুলি চালাতে থাকে। বলতে থাকে, সে নির্দোষ, তাকে মিথ্যে খুনের মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। দেশি বোমাও ছোড়ে। কানপুর জোনের আইজি–র নেতৃত্বে কমান্ডো, জঙ্গিদমন স্কোয়াড ও পুলিশ বাড়ি ঘিরে ফেলে। প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে চলে স্নায়ুযুদ্ধ। শিশুদের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি নজর ছিল পুলিশের। একইসঙ্গে চেষ্টা চলছিল অভিযুক্ত সুভাষকে নিরস্ত্র করে হেফাজতে নেওয়ার। প্রথমে তার সঙ্গে কথা বলে আলাপ–আলোচনার মধ্যে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু তাতে ফল না মেলায় শেষ পর্যন্ত সুভাষকে গুলি করে মারতে বাধ্য হয় পুলিশ। তার পরেই বন্দি শিশুদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। যদিও সুভাষ মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে বাড়ির বারান্দা থেকে মাসছয়েকের এক কন্যাসন্তানকে গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেয়। এরপরেই ধৈর্য আর রাখতে পারেননি গ্রামবাসীরা। তাঁরা সুভাষের বাড়ির মূল দরজা ভাঙতে শুরু করে। সুযোগ বুঝে বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে বিশাল পুলিশবাহিনী। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায় সুভাষ। পাল্টা পুলিশের গুলিতে রাত দেড়টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। তাদের সঙ্গেই উদ্ধার করা হয় সুভাষের স্ত্রী ও কন্যাকে। কিন্তু স্থানীয় জনতা রাগের বশে আক্রমণ করে সুভাষের স্ত্রীকে। বেধড়ক মারধর করে তারা। তাদের দাবি, সুভাষের স্ত্রী সব জেনেশুনেই এই পরিকল্পনায় সায় দিয়েছিল। মারধরের খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে শুক্রবার সকালে মৃত্যু হয় তার। কেন এই কাজ করল সুভাষ?‌ পুলিশের মতে, সুভাষের কোনও মানসিক সমস্যা ছিল। তা থেকেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে সুভাষ বাথাম। তবে সূত্রের খবর, সুভাষের বাড়িতে শৌচাগার ছিল না। জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়েছিল সে। তবে আজও তার সমস্যার সমাধান হয়নি। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপর প্রতিশোধ নিতেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে সুভাষ, মনে করছেন অনেকে। এদিকে, শিশুরা বাড়ি ফিরলেও তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।

মমতা-কেজরির ‘বন্ধুত্ব’, দিল্লি বিধানসভা ভোটে আপকে সমর্থন তৃণমূলের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন​​​​​​​

ত্যাশামতোই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে আম আদমি পার্টিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করি দিল এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও টুইট করেন তৃণমূলের রাজ‌্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। যেখানে তাঁকে রাজেন্দ্রনগর কেন্দ্রের আম আদমি পার্টির প্রার্থী রাঘব চাড্ডার হয়ে ভোট প্রচার করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতেই তিনি বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ‌্য, বিদ্যুৎ, জল ও দূষণ সংক্রান্ত যা যা কথা দিয়েছিল, তা পূরণ করেছে আপ সরকার।” সেইসঙ্গে তিনি লেখেন, “রাজেন্দ্রনগরের আপ প্রার্থী রাঘব চাড্ডা, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং আপের সমস্ত প্রার্থীদের ভোট দিন।”

পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি – দু’ রাজ্যের মুখ‌্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায় ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সম্পর্ক বরাবরই বেশ ভাল। বিভিন্ন ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ‌্যায়ের প্রতিবাদ মঞ্চে দেখা গিয়েছে কেজরিওয়ালকে। এবার দিল্লি নির্বাচনের আগে তাই রাজনৈতিক সৌজন‌্য এবং বন্ধুত্বের সমীকরণে মেনেই আপকে সমর্থন করছে তৃণমূল। তবে ডেরেকের এই ভিডিও প্রকাশের ঠিক পরেই তৃণমূলকে আক্রমণ করেন বিজেপির অন‌্যতম প্রবীণ নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তাঁর মন্তব্য, “বাংলায় তৃণমূলের জনসমর্থন রোজ কমে যাচ্ছে। আর ওরা দিল্লিতে আপকে সমর্থন করছে। যেখানে কি না ওদের নিজেদেরই কোনও অস্তিত্ব নেই। এই বিষয়ে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভাল। তৃণমূলেরও উচিত, নিজেদের হাসির খোরাক না বানানো।” এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কেজরিওয়ালকে তাঁর দেখা সবথেকে বড় মিথ‌্যেবাদী আখ‌্যা দেন। বলেন, “৫৬ বছরের জীবনে এত বড় মিথ‌্যেবাদী দেখিনি।” এরপরই তাদের কটাক্ষ করা শুরু করল বিজেপি।

মিলছে না মাস্ক, করোনা ঠেকাতে মুখে অন্তর্বাস-লেবুর খোসা পরছেন চিনারা 

চিনে কিছুতেই থামছে না মৃত্যুমিছিল। মারণ করোনা ভাইরাসের আক্রমণে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২১৩ জন।এই ভয়ানক রোগের সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের মধ্যে। এহেন পরিস্থিতিতে ভাইরাস আটকাতে মাস্ক পরাটা বাধ্যতামূলক করা হলেও বাজারে অমিল বস্তুটি।

শেষ পাওয়া খবরের মতে, মারণ ভাইরাসের ভয়ে চিনের বেশ কয়েকটি শহরকে বাকি দেশের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষ প্রায় নেই বললেই চলে। মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে পর্যাপ্ত সংখ্যায় মাস্কের জোগান নেই। ফলে ভাইরাস থেকে বাঁচতে অভিনব পন্থা নিয়েছেন চিনা নাগরিকরা। সহজলভ্য যে কোনও জিনিস মুখের মধ্যে সেঁটে কাজ চালাচ্ছেন ইউহান, সাংহাই-সহ চিনের নানা প্রদেশের বাসিন্দারা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা ছবিগুলি থেকে দেখা যাচ্চে, কেউ বাতাবি লেবুর খোসা পরিস্কার করে, কায়দা করে মাস্ত বানিয়ে মুখ ঢাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার জলের বোতল, স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেছেন। মারাত্মক ভাইরাস থেকে বাঁচাতে মহিলাদের মাস্ক হিসেবে মুখে অন্তর্বাস পড়তেও দেখা গিয়েছে।

চিনের হুবেই প্রদেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা যায়। সর্দি, কাশি, জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হতে থাকেন একের পর এক মানুষ। ক্রমশ মহামারির আকার নিয়েছে করোনা ভাইরাস। এখনও পর্যন্ত মোট ২১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৯২ জন। হু’র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮টি দেশে ১০০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, বিশ্বের যে ৩০টি দেশে করোনা ভাইরাস হানা দেওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, সে তালিকায় ভারতও রয়েছে। হু-এর সমীক্ষা বলছে, ঝুঁকির তালিকায় যে দেশগুলি রয়েছে, তার মধ্যে প্রথম নামটি হল থাইল্যান্ড। এরপরেই আছে জাপান এবং হংকং। আমেরিকা আছে ৬ নম্বরে, অস্ট্রেলিয়া ১০ নম্বরে, ইংল্যান্ড ১৭ নম্বরে এবং ভারত ২৩ নম্বরে।