প্রিয়জন: 'রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান এক অদ্ভুত মায়াজাল সৃষ্টি করে'
শ্রোতাবন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ফার্সি নববর্ষ নওরোজের শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি আপনাদেরই চিঠিপত্রের আসর 'প্রিয়জন'। আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। আজকের আসরে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি আমি নাসির মাহমুদ, আমি আকতার জাহান এবং আমি আশরাফুর রহমান।
আশরাফুর রহমান: প্রত্যেক আসরের মতো আজও অনুষ্ঠানের শুরুতেই আমি একটি বাণী শোনাব। আমিরুল মোমেনিন হযরত আলী (আ.) বলেছেন, "ক্ষমা করায় সংকীর্ণতা- নিকৃষ্ট ধরনের ত্রুটি আর দ্রুত প্রতিশোধ নেওয়া- গুরুতর গুণাহ।"
আকতার জাহান: আমরা সবাই নিজেদের মধ্যে ক্ষমার মানসিকতা গড়ে তুলব এবং দ্রুত প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকব- এ কামনা করে চিঠিপত্রের দিকে নজর দিচ্ছি।
আসরের প্রথম চিঠিটি এসেছে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার জগদল গ্রাম থেকে। আর পাঠিয়েছেন মাহমুদুল হাসান। এ শ্রোতা ভাই আমাদের একজন পুরোনো শ্রোতা হলেও চিঠি লিখলেন এই প্রথম।
নাসির মাহমুদ: তাই নাকি! তাহলে আর দেরি না করে- তিনি কী লিখেছেন তা ঝটপট পড়ে শোনান।
আকতার জাহান: হ্যাঁ, পড়ছি। মাহমুদুল হাসান ভাই লিখেছেন, “আমার রেডিও তেহরান শোনার হাতেখড়ি হলো আমার বাবা। সাল মনে নেই।
আমরা ভাই-বোনেরা সন্ধ্যায় হারিকেন বা কুপি/চেরাগ জ্বালিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করে পড়তে বসতাম। বাবা শিক্ষক ছিলেন, তাই তিনি সব সময় দেশ-বিদেশের খবর রাখতেন। কোনোদিন ইশার সালাতের আগে আবার কোনোদিন ইশার সালাতের পরে রেডিও নিয়ে বসতেন। যেদিন বাবা কোনো কারণে বাড়ির বাইরে থাকতেন, সেদিন মা আমাকে বলতেন রেডিও অন করে তেহরানের খবর শোনাতে।”
আশরাফুর রহমান: বাবা-মার মাধ্যমে আপনি রেডিও তেহরান শোনা শুরু করেছেন জেনে ভালো লাগল। তো এ শ্রোতাবন্ধু এখন কিভাবে আমাদের অনুষ্ঠান শোনেন- সে সম্পর্কে কিছু লিখেছেন?
আকতার জাহান: হ্যাঁ, লিখেছেন। মাহমুদুল হাসান ভাই জানিয়েছেন, “আগে রেডিওতে শুনতাম, এখন ফেসবুকে লাইভে। অফিস হতে বাসায় ঢুকতেই রেডিও তেহরানের খবরের সময় হয়ে যায়। তাই সে অবস্থাতে লেপটপ ছেড়ে আগে খবর শুনি। অনেক ভালো লাগে, সংবাদসহ অন্যান্য পরিবেশনা। চিঠিপত্রের আসর নিয়মিত শুনতে না পারলেও অনিয়মিত শ্রোতা হিসেবে বেশ ভালোই লাগে।”
নাসির মাহমুদ: ভাই মাহমুদুল হাসান, আপনার চিঠি শুনে আমাদের বেশ ভালো লাগল। আশা করি এখন থেকে নিয়মিত লিখবেন।
কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ সহকারী অধ্যাপক মোঃ শাহাদত হোসেন পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে মহাবীর হযরত আলী (আ.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠানটির প্রশংসা করে তিনি এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন। লিখেছেন, “হযরত আলী (আ.) ইসলামের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল ব্যক্তির নাম। প্রতিটি মুসলমান তাঁকে শ্রদ্ধা করে, ভালোবাসে এবং অনুসরণের চেষ্টা করে। এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে অনুষ্ঠান প্রচার করে রেডিও তেহরান আমাদেরকে কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করেছে। এ অনুষ্ঠান থেকে আমরা হযরত আলী (আ.)-এর বিভিন্ন গুণাবলী সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তিনি একদিকে ছিলেন মহাবীর, অন্যদিকে অতি দয়ালু একজন মানুষ।তিনি ছিলেন অত্যাচারীর ত্রাস, অন্যদিকে মজলুমের বন্ধু। আজকের অনুষ্ঠান থেকে এ মহৎ নেতা সম্পর্কে, তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে জানতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। তবে আমরা মনে করি, রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ হতে হযরত আলী (আ.) সম্পর্কে অন্তত ২০০ পর্বের একটি ধারাবাহিক অনুষ্ঠান প্রচার করলে আরো ভালো হয়।”
আশরাফুর রহমান: হযরত আলী (আ.)-এর পবিত্র জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানটি আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। আর এই মহান ইমামকে নিয়ে ধারাবাহিক অনুষ্ঠান প্রচারের প্রস্তাবটি আমাদের বিবেচনায় থাকল। চিঠি আর মতামতের জন্য মোঃ শাহাদত হোসেন আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
বাংলাদেশের পর এবার ভারত থেকে আসার একটি মেইলের দিকে নজর দিচ্ছি। এটি পাঠিয়েছেন এস এম জাকির হোসেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভিআরএল ক্লাবের সভাপতি। রেডিও তেহরানকে 'নির্ভরযোগ্য বেতার প্রতিষ্ঠান’ আখ্যায়িত করে তিনি লিখেছেন, “গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনে থাকে। সঠিক সংবাদ শুনতে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তবে, রেডিও তেহরান ধর্মীয় বিষয়াদি এবং ইরানের জীবনযাত্রা বিভিন্নভাবে তুলে ধরে। অন্য বেতার যা দেয় না, রেডিও তেহরান তা-ই দিয়ে থাকে।”
আকতার জাহান: ভাই জাকির হোসেন, রেডিও তেহরান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আশা করি এভাবেই চিঠি লিখে আমাদের প্রেরণা জোগাবেন।
শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান রংধনু আসর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তিনটি মেইল আমার হাতে রয়েছে। দুটি এসেছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার আলী সাহারদি থেকে। আর লিখেছেন এইচ এম তারেক ও সাঈফ আহমেদ উৎস। তারেক ভাই লিখেছেন, “রংধনু আসরে রাগ নিয়ন্ত্রণের উপায় সম্পর্কে জেনে উপকৃত হলাম। সত্যি বলতে কী! আমার রাগ অত্যন্ত বেশি। রংধনু আসর শোনার পর আমার রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি।”
নাসির মাহমুদ: বাহঃ আমাদের অনুষ্ঠান কাজ আসছে তাহলে! তো সাঈফ আহমেদ উৎস রংধনু আসর সম্পর্কে কী লিখেছেন?
আকতার জাহান: তিনি লিখেছেন, “রংধনুতে এক গ্লাস পানি, পাখি আর মৌমাছি, ভালো কপাল মন্দ কপাল, ঈগল ছানা আর মুরগি, বন্ধুত্ব্ব, অহেতুক সন্দেহ শীর্ষক অনুবাদ গল্পগুলো ভীষণ ভালো লাগল।”
এদিকে, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানার ইমামপুর থেকে ফারিয়া খানম মুমু জানিয়েছেন, “রংধনু আসরে প্রচারিত ইঁদুর বিড়ালের গল্পটি শুনে অনেক ভালো লেগেছে। গল্পটি যেমন আনন্দদায়ক তেমনি শিক্ষণীয়। ধন্যবাদ।”
আশরাফুর রহমান: রংধনু আসর আপনাকে ভালো লাগছে এবং অনুষ্ঠানটি থেকে উপকৃত হচ্ছেন জেনে আমাদেরও ভালো লাগছে। আশা করি আমাদের অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্পর্কেও লিখবেন।
আসরের এ পর্যায়ে আমরা আমাদের অনুষ্ঠানের নানা দিক নিয়ে কথা বলব বাংলাদেশি এক শ্রোতা বোনের সঙ্গে। তার নাম রুশিয়া জামান রত্না।

আশরাফুর রহমান: আসরের এবারের চিঠিটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থেকে। আর পাঠিয়েছেন বিধান চন্দ্র সান্যাল। তিনি লিখেছেন, “বসন্তে প্রকৃতি যৌবন প্রাপ্ত হয়। আর যৌবন প্রাপ্ত প্রকৃতিতে রেডিও তেহরান মনকে করে তুলে আরো প্রাণচঞ্চল। নিরপেক্ষ, বস্তুনিষ্ঠ ও সময়োপযোগী বিশ্বসংবাদ, সংবাদভাষ্যের অনুষ্ঠান দৃষ্টিপাত এবং পত্রপত্রিকার পাতার অনুষ্ঠান কথাবার্তা সংবাদপিয়াসী মনকে করে তৃপ্ত। রেডিও তেহরানের রংধনু, প্রিয়জন, গল্প ও প্রবাদের গল্প দেহ-মনে ছড়িয়ে দেহ নব শিহরণ। একদিকে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য অন্যদিকে রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠানের মুগ্ধতা- দুইয়ে মিলিয়ে যেন সত্যিকারের এক অদ্ভুত মায়াজাল সৃষ্টি করে।”
নাসির মাহমুদ: বিধান দা’র এই চিঠিতে রেডিও তেহরানের প্রতি তার সত্যিকারের ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। তাকে ইরানের নানারঙের গোলাপ ও টিউলিপ ফুলের শুভেচ্ছা।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রাম থেকে এ, টি, এম, আতাউর রহমান রঞ্জু পাঠিয়েছেন পরের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “ভালোবাসা, ভালোলাগার আরেক নাম রেডিও তেহরান। এ বেতারের কাছ থেকে অনেক কিছু শুনছি, জানছি। রেডিও তেহরানের সবাইকে আন্তরিক মুবারকবাদ ও শুভেচ্ছা- সুন্দর সুন্দর প্রাণবন্ত অনেক অজানা বিষয় জানার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। সাথে আছি সব সময়।”
আকতার জাহান: আমাদের সাথে থাকার জন্য রঞ্জু ভাই আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।
কিশোরগঞ্জের খড়ম পট্টি থেকে শরিফা আক্তার পান্না পাঠিয়েছেন এবারের মেইলটি। তিনি লিখেছেন, “২১ ফেব্রুয়ারি, রোববার রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো হল- বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, আসমাউল হুসনা, কথাবার্তা ও একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। প্রতিটি অনুষ্ঠানই ছিল দারুণ উপভোগ্য ও শিক্ষণীয়। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে যে অনুষ্ঠানটি আমার হৃদয়কে আপ্লুত করেছে সেটি হল- হযরত ইমাম মোহাম্মাদ তাকি (আ.)'র পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত বিশেষ অনুষ্ঠান। এমন চমৎকার তথ্যবহুল একটি অনুষ্ঠানের জন্য রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।”
আশরাফুর রহমান: বোন শরিফা আক্তার পান্না, কষ্ট করে অনুষ্ঠান শোনার পর মতামত জানিয়ে চিঠি লেখার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ। আশা করি নিয়মিত চিঠি লিখবেন।
আসরের শেষ চিঠিটি এসেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ইসলামপুর থেকে। আর পাঠিয়েছেন তরুণ মৈত্র। তিনি লেখেছেন, “আমি রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের একজন পুরাতন শ্রোতা। তবে কয়েক বছর রেডিও তেহরান সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পুনরায় মুর্শিদাবাদ জেলার শ্রোতা নাজিমুদ্দিন ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় রেডিও তেহরান শুনতে শুরু করেছি। অনুষ্ঠান শুনছি, ভালো লাগছে। কিছু অনুষ্ঠান রেকর্ডিং করে রাখি। পরবর্তীতে মুসলিম ভাইদের শোনাই। একজন আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করে রেডিও তেহরান।”
নাসির মাহমুদ: শ্রোতাবন্ধু তরুণ মৈত্র, আপনার চিঠি পড়ে আমাদের ভীষণ ভালো লেগেছে। আশা করি আবারও লিখবেন।
অনুষ্ঠানের এ পর্যায়ে কয়েকজন ডিএক্সার বন্ধুর নাম-ঠিকানা জানিয়ে দিচ্ছি যারা আমাদের অনুষ্ঠান শুনে শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
- ভারতের ছত্তিশগড়ের ভিলাই থেকে আনন্দ মোহন বাইন
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে এসএম নাজিমউদ্দিন
- দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে বিধান চন্দ্র সান্যাল ও রতন কুমার পাল।
- বাংলাদেশের গাজীপুর থেকে ফিরোজ আলম
- টাঙ্গাইল থেকে আবু তাহের।
আকতার জাহান: তো যারা অনুষ্ঠান শোনার পাশাপাশি কষ্ট করে শ্রবণমান রিপোর্ট পাঠিয়েছেন তাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আশরাফুর রহমান: অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নেয়ার আগে আজও রয়েছে একটি ফার্সি গান। আপনারা ফার্সি নববর্ষের এ গানটি শুনতে থাকুন আর আমরা বিদায় নিই প্রিয়জনের আজকের আসর থেকে।#