মার্চ ২৪, ২০২১ ১৩:৩১ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠক! ২৪ মার্চ বুধাবরের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

  • ক্রোড়পত্রে প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও সই জালিয়াতি-কালের কণ্ঠ
  • সরকারি মজুত তলানিতে-চাল আমদানিতে ভাটা-যুগান্তর
  • ইয়াবার নিরাপদ রুট উপকূলীয় নৌপথ-ইত্তেফাক
  • মতামত ‘কূটনীতিতে সাফল্যের সঙ্গে আছে হতাশাও’–প্রথম আলো
  • আমাদের কেউ গণতন্ত্র এনে দেবে না-ফখরুল– মানবজমিন
  • সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় আনতে হবে-সমকাল
  • বিয়ানীবাজার সীমান্তে ২শ বছরের মসজিদ পুনর্নির্মাণে বিএসএফ'র বাধা!-বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

ভোটে আপনাকে দরজা দেখিয়ে দেবে রাজ্যবাসী-আনন্দবাজার পত্রিকা

বহিরাগত গুন্ডারা বাংলায় আসছে', আক্রমণ মমতার -সংবাদ প্রতিদিন

‘বাংলাকে বেচে দেবে বিজেপি’‌, পদ্ম থেকে ঘাসফুলে যোগ দিয়েই আক্রমণ স্বরাজ ঘোষের-আজকাল

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু’টি বিষয়ের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. বাংলাদেশ সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের উপর কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনাকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আপনার পর্যবেক্ষণ কি?

২. ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। আবার ইয়েনের উপর হামলার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরব কেন হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিল?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

মোদির সফর নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি-ঢাকা-দিল্লি যৌথ ঘোষণায় প্রাধান্য আগামীর রূপরেখা-যুগান্তর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সফরকালে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে একটি যৌথ ঘোষণা বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

এতে দুই দেশের সম্পর্কের আগামীর রূপরেখা থাকবে। এ ঘোষণা প্রণয়নে এখন ঢাকা ও দিল্লিতে রাত-দিন কাজ চলছে। তার পাশাপাশি সফরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে ইতোমধ্যে একাধিক অগ্রবর্তী দল ঢাকায় পৌঁছেছে। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করছেন।

মোদি সফরকালে যেসব স্থানে যাবেন; ওই স্থানগুলো দুই দেশের প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উদযাপনে যোগ দিতে ২৬ মার্চ ২ দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসছেন। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে যোগদানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। তার মধ্যে ইতোমধ্যে তিনটি চূড়ান্ত হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন বাংলাদেশ সফরকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মোদি পাঁচ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এর আগে ২০১৫ সালে তিনি বাংলাদেশ সফর করেন।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পর বাণিজ্য ক্ষেত্রে সুবিধার ধরন কী হবে তা নিয়ে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (সেপা) চুক্তির প্রস্তাব করেছে ভারত। বর্তমানে বাংলাদেশ সাফটা চুক্তির আওতায় ভারতের কাছ থেকে বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে থাকে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়ন ঘটলে সেই সুবিধার ধরনে কী হবে সে ব্যাপারে একটি যৌথ স্টাডির বিষয় যৌথ ঘোষণায় থাকতে পারে। বাংলাদেশের ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট এবং ভারতের একটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ স্টাডি পরিচালনা করবে। অভিন্ন নদীগুলোর পানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই নেতার নির্দেশনা যৌথ ঘোষণায় থাকতে পারে।

মূলত মুজিববর্ষ উদযাপন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যৌথ উদযাপন উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ সফর করছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সফরসঙ্গী হিসাবে যোগ দেবেন। সফরের প্রথম দিন, ২৬ মার্চ রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে।

এরপর তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন। একই দিন বিকালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য প্রদান করবেন। সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে যৌথভাবে তিনি বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ মার্চ সকালে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তাছাড়া, তিনি সাতক্ষীরা এবং গোপালগঞ্জে দুটি মন্দির পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মতবিনিময় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২৭ মার্চ বিকালে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক ছাড়াও প্রতিনিধি পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে। উভয় প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে নিজ নিজ দেশের পক্ষে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পৃথক দুটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করবেন। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সফরশেষে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৭ মার্চ রাতে দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় আনতে হবে-সমকাল

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও কূটনৈতিক বিশ্নেষক মো: তৌহিদ হোসেন তার লেখা এক নিবন্ধে লিখেছেন,

ভারতের সঙ্গে আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে গত পঞ্চাশ বছর ধরেই। সম্পর্কের ভেতরে কিছু টানাপোড়েনও ছিল। তবে সেটার কারণও আসলে ভারতের অ্যাটিটিউড (দৃষ্টিভঙ্গি)। কারণ বাংলাদেশে যখন যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, কোনো সরকারই ভারতের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক চায়নি। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হলে ভারত খুশি হতে পারেনি। তবে সার্বিকভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সব সময়ই ভালো ছিল। আর্থিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক সব সময় বেড়েছে, যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন। বর্তমান অবস্থায় দু'দেশের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে, সম্পর্ক অনন্য অবস্থানে বা দু'দেশের সম্পর্কে যেটা আদর্শ অবস্থায় বোঝায়- সেটাই আছে। অতএব দু'দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরল-সোজা দুটো দিক আছে। একটা হচ্ছে, ভারত আমাদের কাছ থেকে কী চায়। অন্যটা হচ্ছে, আমরা ভারতের কাছ থেকে কী চাই। প্রথমত, ভারতের কিছু চাওয়া ছিল। যেমন ভারতের আশঙ্কা ছিল, বাংলাদেশের ভূখ ব্যবহার করে ভারতের কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী তৎপরতা চালাতে পারে। সেটা তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ সেই আশঙ্কা দূর করে দিয়েছে, সেই আশঙ্কা থেকে ভারতকে মুক্তি দিয়েছে। ভারতের আরও একটি প্রত্যাশা ছিল ট্রানজিট। উত্তর-পূর্ব অংশে তাদের পণ্য পরিবহনে সুবিধা দেওয়া। বাংলাদেশ সেটাও দিয়েছে। অতএব ভারতের যা চাওয়া ছিল, তা মোটামুটিভাবে পূরণ হয়েছে।

কিন্তু ভারতের কাছে বাংলাদেশের যা চাওয়া ছিল, তা অনেক কিছুই অপূর্ণ রয়েছে বা থেকে যাচ্ছে। যেমন সীমান্ত হত্যার বিষয়টি। বাংলাদেশ চায় সীমান্ত হত্যা বন্ধ হোক। ভারত বার বার বলেছে, তারা সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনবে, মরণঘাতী অস্ত্র বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু বাস্তবে কী হচ্ছে, তা সবাই দেখছে। বার বার সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত অপরাধের কথা বলে কার্যত সীমান্ত হত্যার পক্ষে ভারতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য দিতে দেখা গেছে, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

আবার গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির পর প্রায় ২৪ বছর ধরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির জন্য নানা প্রচেষ্টা চলছে; কিন্তু সেই চুক্তি হয়নি। কেন হয়নি, কোথায় কীভাবে চুক্তির বিষয় আটকে আছে, তা নিয়ে অনেক কথা বলা যেতে পারে; কিন্তু নিখাদ বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি চায়। আর সেই চুক্তি হচ্ছে না, কারণ ভারত চুক্তি স্বাক্ষরের পর্যায়ে বিষয়টিকে আনতে পারছে না, সেই কারণে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা যদি বলি তাহলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের পণ্য ভারতের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত ট্যারিফ এবং নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার আছে। বিশেষ করে নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের পণ্য ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় সংকটের সৃষ্টি করছে। বছরের পর বছর ধরে এটিরও কোনো সমাধান হচ্ছে না।

ইদানীং ভারতের কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ অত্যন্ত গরিব একটি দেশ এবং বাংলাদেশের মানুষ ভারতে যেতে মরিয়া। এটা একদম সত্যের অপলাপ এবং ভারতীয় সেসব রাজনৈতিক নেতার চরম আপত্তিকর বক্তব্য। একটা বন্ধু রাষ্ট্রের রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে এই বক্তব্য কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। তাদের এই বক্তব্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানোর শামিল। এগুলো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যখন চলছে, তখনও ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের এই জঘন্য বক্তব্য অব্যাহত আছে। এ কারণেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ককে সম্পর্কযুক্ত করে দেখতে চাই না। ভারত যদি ইতিবাচক দৃষ্টিতে ভালো সম্পর্ক চায়, তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে, এটা বলতে পারি।

পররাষ্ট্রসচিবের ব্যাখ্যা তলব-ক্রোড়পত্রে প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও সই জালিয়াতি-কালের কণ্ঠ

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিশেষ ক্রোড়পত্রে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। ক্রোড়পত্রে প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও স্বাক্ষর জালিয়াতি হয়েছে। ওই ক্রোড়পত্রে ব্যবহার করা ‘প্রধানমন্ত্রীর বাণী’ সরকারপ্রধানের অনুমোদন ছাড়াই কিভাবে স্বাক্ষরসহ জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ পেল, এর ব্যাখ্যা চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) ওসমান গণির পাঠানো চিঠিতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে গৃহীত ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে বলা হয়েছে।

বিয়ানীবাজার সীমান্তে ২শ বছরের মসজিদ পুনর্নির্মাণে বিএসএফ'র বাধা!-বাংলাদেশ প্রতিদিন

সিলেটের বিয়ানীবাজারের গজুকাটা সীমান্তে ২শ বছরের মসজিদ পুনর্নির্মাণে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সীমান্ত এলাকার নো-ম্যান্স ল্যান্ডে কয়েকটি বাঙ্কার খনন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। 

সোমবার রাত থেকে সীমান্ত এলাকায় মৃদু উত্তেজনা দেখা দিলে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি জোয়ানরাও সীমান্তে নজরদারী বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলার গজুকাটা সীমা এলাকার ১৩৫৭নং পিলারের ভেতরে বাংলাদেশ অংশে গজুকাটা গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ২০০ বছরের পুরনো পাকা ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এলাকাবাসী পুননির্মাণের উদ্যোগ নেন।

দুবাগ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আফতাব উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রামবাসী নেয়ার পর তারা বিজিবির সহায়তা চান। তৎকালীন বিজিবি-৩২ ব্যাটলিয়ানের কমান্ডার বিএসএফ’র কমান্ডারের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলে তারা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু নির্মাণ কাজের নিচ অংশের পিলারসহ আনুসঙ্গিক কাজ শেষে ছাদ ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুতির এক পর্যায়ে বিএসএফ সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে মসজিদ নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করে।

এদিকে, দীর্ঘ ৩ বছর পর গত সপ্তাহে বিজিবি-৫২’র সাথে বিএসএফ’র বৈঠকে মসজিদটি পুননির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তা পুনর্নির্মাণ করতে বিএসএফ বাধা প্রদান করবে না বলে জানান। এতে মসজিদ নির্মাণের কাজ ফের শুরু করলে শনিবার বিকালে বিএসএফ তাতে বাধা প্রদান করে।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও বিএসএফ তাতে সায় না দিয়ে সীমান্ত এলাকায় শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাঙ্কার খনন করে শক্ত অবস্থান নেয়। বিজিবি পাল্টা অবস্থান নিয়ে তাদের জবাবের প্রস্তুতি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে।

মসজিদের ইমাম হাফিজ বিলাল আহমদ জানান, বিএসএফ এর বাধার পর থেকে  নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে।

আমাদেরকে কেউ গণতন্ত্র এনে দেবে না: ফখরুল-মানবজমিন

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮-১০ ঘণ্টার আগুনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ১৫ জনের মতো মানুষ মারা গেছেন। এগুলো হতেই থাকবে। আমরা বারবার রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বলছি। কারণ আমাদের মত দরিদ্র দেশে রোহিঙ্গাদের ভরণ-পোষণ দেয়া সম্ভব না। কিন্তু সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান চায় না।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ২৪শে মার্চ কালো দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি। ৯০-এর ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য এই সভার আয়োজন করে।

ঢাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান খান দুদু, বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি প্রমুখ।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা বারবার বলছি রোহিঙ্গা ইস্যুটা সমাধান করেন। আপনারা করছেন না।

আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। প্রাধানমন্ত্রীও কোনো সফর করেননি। এসব বিষয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা শুনলে অবাক লাগে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে নাকি ভারতের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে রয়েছে। অথচ আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশে ভারত ও চীন এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসছে না। এটা সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

এই সরকার কৌশলী সরকার জনগণের ভোটে হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ আর ২০২১ সালের ২৪ মার্চের মধ্যে সরকারের মধ্যে কোনো ব্যবধান আছে? না নেই। এরশাদ সরকার গণতন্ত্র হত্যা করেছিল। এই সরকারও গণতন্ত্রকে হত্যা করে অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় টিকে আছে।

৯০ দশকে যেমনি ছাত্ররা আন্দোলন করে এরশাদ সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। এখনও সেই কাজটি করেত হবে ছাত্রদের। ছাত্রদলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। সবাইকে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া কোনো দিন ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরে আসবে না।

জনগণের সরকার হলে আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনের পরই সরকার পদত্যাগ করত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদেরকে কেউ গণতন্ত্র এনে দেবে না। আমাদের গণতন্ত্র আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। ছাত্রদেরকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ জন্য ছাত্রদলের নেতাদের সক্রিয় হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগঠন সক্রিয় করে কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।  

সিলেটে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ টেনে এনে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেনএই ঘটনা নাকি বিএনপি করেছে। অথচ ধরা পড়ল আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার।

তিনি বলেন, দেশের চালের দাম বেড়েছে। মোট চালের দাম ৮০ টাকা, তেল, লবণের দামও বেড়েছে। কৃষক এখন পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। দেশের গরিব মানুষগুলো আরও গরিব হচ্ছে। আর ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে। উন্নয়নের নামে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোতে মেগা দুর্নীতি হচ্ছে। এখন টিকা নিয়ে দুর্নীতি চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি মজুত তলানিতে-চাল আমদানিতে ভাটা-যুগান্তর

সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানিতে গতি নেই। একই অবস্থা বেসরকারি আমদানির ক্ষেত্রেও। ভারতে চালের দাম বেশি হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারিভাবে ১১ লাখ টন চাল আমদানির কার্যক্রম শুরু হলেও এক লাখ ৯৪ হাজার টন এসেছে।

অন্যদিকে বেসরকারি পর্যায়ে সাড়ে ১৩ লাখ টনের বেশি আমদানির অনুমতি দিলেও এ পর্যন্ত তিন লাখ ৮০ হাজার টন এসেছে। অর্থাৎ, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টন চাল আমদানির টার্গেট থাকলেও দেশে চাল প্রবেশ করেছে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার টন। ফলে আমদানি করা চাল দিয়ে স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, দেশে বোরো ও আমনের ফলন কম হওয়ায় আগস্টে প্রয়োজনীয় চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সেই সুযোগ গ্রহণ করেনি। সময়মতো চাল আমদানি না-করায় আজকের এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে সাবেক খাদ্যসচিব ও বিশিষ্ট কলামিস্ট আব্দুল লতিফ মণ্ডল সোমবার যুগান্তরকে বলেন, গত বোরো ও আমন মৌসুমে চালের ফলন কম হয়েছে তা সরকারের সবাই কমবেশি জানত।

এ কারণে গত বছরের আগস্টে প্রয়োজনীয় চাল আমদানির অনুমোদন দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নানা গড়িমসির কারণে কাঙ্ক্ষিত চাল আমদানি করা সম্ভব হয়নি। আমদানির জন্য প্রধানমন্ত্রী তাদের ব্ল্যাংক চেক দিলেও তারা কাজে লাগায়নি। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ অভিযানও পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।

এতে সরকারি মজুত কমার পাশাপাশি বাড়তে থাকে চালের দাম। ফলে চাল আমদানিতে মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা অস্বীকার করার উপায় নেই। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে ২০১৭ সালের মতো আমদানি শুল্ক তুলে দিয়ে দ্রুত সরকারি সংগ্রহ ও মজুত বাড়াতে হবে।

ইয়াবার নিরাপদ রুট উপকূলীয় নৌপথ-ইত্তেফাক

‘ক্রেজি ড্রাগ’ ইয়াবার নতুন রুট এখন উপকূলীয় অঞ্চলের নৌপথ। টেকনাফ থেকে কুয়াকাটা, পাথরঘাটা, পিরোজপুরের তেলিখালী হয়ে মোংলা পোর্টে যায় ইয়াবার বড় বড় চালান। আবার কুয়াকাটা-পাথরঘাটা থেকে বরিশাল হয়ে ঢাকায় আসার আরেকটি রুট আছে। এসব নৌপথের প্রতিটিতেই ইয়াবার চালান খালাস করা হয়। পরে তা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জে যায় নৌপথে। একপর্যায়ে ঢাকা শহরের পাশাপাশি সব বিভাগীয় শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে সারা দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে যায় ইয়াবা।

এদিকে ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ একশ্রেণির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের। রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও জড়িয়ে পড়েছেন এই কর্মকাণ্ডে। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা প্রতি মাসে ৫ থেকে ২০ লাখ টাকা তাদের উেকাচ দিয়ে থাকেন। ইয়াবার টাকায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছেন অনেকে। ইয়াবার ভয়াবহ এই আগ্রাসনে সরকার যেমন উদ্বিগ্ন, চিন্তিত অভিভাবক মহলও।

ইয়াবার বড় চালানগুলো মূলত মিয়ানমার থেকে নাফ নদী হয়ে টেকনাফে প্রবেশ করে। পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়কপথে তত্পরতা বৃদ্ধি করায় ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বড় চালান পাচারের জন্য দেশের নৌপথকে নিরাপদ রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। তেলিখালীর হরিণপালা ও সন্নিহিত এলাকায় মিয়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলারযোগে ইয়াবা আনা হয়। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনবিশিষ্ট দ্রুতগামী ট্রলারে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, বদরমোকাম, সেন্টমার্টিন ইত্যাদি সমুদ্র এলাকা থেকে মিয়ানমারের পাঁচারকারীদের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করা হয়। এই ইয়াবা হস্তান্তরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের চোরাকারবারিরা যুক্ত।

এসব এলাকা থেকে দ্রুতগামী ট্রলারে ইয়াবা পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটা, আলীপুর, মহিপুর, গঙ্গামতি ইত্যাদি মত্স্যবন্দর ও পর্যটনকেন্দ্রকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কুয়াকাটা-সংলগ্ন ফাতরার চর, পাথরঘাটার লালদিয়ার চর, চরদোয়ানী, বাগেরহাটের রায়েন্দা, শরণখোলা এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালপথে ইয়াবাবাহী ট্রলার তেলিখালীর উদ্দেশে আসে। এসব ট্রলার ভান্ডারিয়ার তেলিখালীর হরিণপালা ইকোপার্ক, মঠবাড়িয়ার তুষখালী ও মাছুয়া বন্দর ইত্যাদি নদীতীরবর্তী স্থান ব্যবহার করে। ইয়াবা বহনকারীরা হরিণপালা ইকোপার্ক ও সংলগ্ন ইফতি ব্রিকসের ইটখোলা ও ইটের ভাটায় ইয়াবা ডাম্পিং ও মজুত করে। এখান থেকে সুযোগ বুঝে যাত্রীবাহী লঞ্চ, স্টিমার, বাস ও অন্যান্য যানবাহনযোগে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, যশোর, মোংলা ইত্যাদি স্থানে পাঠানো হয়। কখনো কখনো ইয়াবার চালান সুন্দরবন হয়ে ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী, মোংলা, খুলনা ইত্যাদি গন্তব্যে পাঠানো হয়। কখনো কখনো জেলেদের কাছে দেওয়া হয় ইয়াবার চালান। এছাড়া মিয়ানমার থেকে কাঁচামাল এনে ঘরে বসানো ফ্যাক্টরিতে ইয়াবা তৈরি করা হয় কখনো কখনো।

এদিকে ইয়াবার টাকায় ঐ অঞ্চলে একটি মসজিদও করা হয়েছে। এছাড়া একশ্রেণির স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ইয়াবার টাকায় দলীয় পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা দিয়ে দলীয় পদ টিকিয়েও রেখেছেন তারা। ইয়াবা ব্যবসার টাকার ভাগ ঢাকা পর্যন্ত আসে। দুই জন ইয়াবা ব্যবসায়ী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির সদস্যদের টাকা না দিয়ে এই ব্যবসা করা সম্ভব নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একশ্রেণির কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত উেকাচ দিয়ে আসছেন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। এ কারণে অনেক সময় ইয়াবার চালান হয়ে যায় আটার গুঁড়া।

যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, ‘ইয়াবা ব্যবসায়ীরা চলে হাজার মাইল গতিতে। আমরা চলি ১০ মাইল গতিতে। আমরা ১ হাজার মাইল এবং তারা ১০ মাইল গতিতে চললেই ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো। এছাড়া ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে। তাদের দ্রুত পৃথক বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এমনও হয়, একজনকে ২৫ বার গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কিন্তু বারবারই সে আদালত থেকে ছাড়া পেয়ে যায়। আর নৌপথে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অধিদপ্তরের কোনো যানবাহন নেই। স্থলপথে যে যানবাহন আছে, তা-ও সীমিত। অনেকটা ‘ঢাল নেই, তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের’ মতো মাদক নির্মূলে পাহারা দিচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু এ ব্যাপারে বলেন, পাথরঘাটা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নৌপথে আমাদের কোনো যানবাহন নেই। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নৌপথে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত:

ভোটে আপনাকে দরজা দেখিয়ে দেবে রাজ্যবাসী, দুয়ারে সরকার নিয়ে মমতাকে কটাক্ষ মোদীর-আনন্দবাজার পত্রিকা

ভোটের আগে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচি। সেই কর্মসূচিকেই এ বার নিশানা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কাঁথির সভা থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তাঁর তোপ, ‘‘মানুষের প্রয়োজনে আপনাকে পাশে পাওয়া যায় না। আর ভোটের সময় দুয়ারে সরকার করছেন।’’ মানুষই মমতাকে ‘দরজা’ দেখিয়ে দেবে বলে কটাক্ষ করেছেন মোদী। মোদি আরও বলেছেন, নন্দীগ্রাম আপনাকে অনেক দিয়েছে, তাকে অপমান করছেন? মমতাকে এভাবেই খোঁচা দিলেন মোদি।তিনি স্লোগান দিলেন বাংলায় দরকার বিজেপির সরকার।

অন্যদিকে দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, মমতা বন্দোপাধ্যায় নির্বাচনি জনসভায় বললেন, মোদির মতো এতবড় মিথ্যেবাদী দেখিনি। মমতা আরও বলেন, বহিরাগত গুন্ডারা বাংলায় আসছেন।সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, রাতে টাকা বিলি হচ্ছে, ধরিয়ে দিতে পারলে চাকরি মিলবে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিরোধীদের নিশানা করলেন মমতা।

‘‌বাংলাকে বেচে দেবে বিজেপি’‌, পদ্ম থেকে ঘাসফুলে যোগ দিয়েই আক্রমণ স্বরাজ ঘোষের-আজকাল

 ভোটের মুখে ফের নয়া যোগদান তৃণমূলে। ভোটের বাংলা যখন প্রচার ও কর্মসূচিতে সরগরম, তখনই বিজেপি ছেড়ে আসা নেতা স্বরাজ ঘোষ যোগ দিলেন তৃণমূলে। রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতা পার্থ চ্যাটার্জির উপস্থিতিতে এদিন তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেন। এছাড়াও এদিন একঝাঁক টেলি তারকাও তৃণমূলে যোগ দেন।

স্বরাজ ঘোষ বিজেপির কিষান মোর্চার রাজ্য সম্পাদক ছিলেন। তৃণমূলে যোগ দিয়েই তিনি মমতা ব্যানার্জিকে প্রণাম জানান। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কারণ হিসেবে স্বরাজ জানান, ‘আগে যখন বিজেপি করতাম, বলতাম তৃণমূল কংগ্রেস সিন্ডিকেটের দল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখলাম, তৃণমূল কংগ্রেসের পচে যাওয়ারা বিজেপিতে যাচ্ছে। বিধানসভায় তাঁরাই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।’‌ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘আমরা যখন বিজেপি করতাম, তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও নরেন্দ্র মোদিজির বাণী তুলে ধরতাম মানুষকে কাছে টানার জন্য। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখলাম, এই বিজেপি বাংলাকে বিক্রি করে দিতে চাইছে। দিল্লি থেকে বহিরাগতরা আসছে। যাঁর টাকা বেশি, তাঁকেই বিজেপি প্রার্থী করে দিচ্ছে। বাংলার নেত্রী একমাত্র মমতা ব্যানার্জিই হতে পারেন। আমি যখন বিজেপি করেছিলাম, সক্রিয়ভাবে করেছিলাম। কিন্তু এখন তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। যতরকমভাবে সম্ভব বিজেপিকে জব্দ করে মমতা ব্যানার্জির সরকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করব।’‌ 

কলকাতার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দির ব্যবহার বাধ্যতামূলক মোদি সরকার, বিতর্ক-আজকাল

কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠেছে, যে তারা আঞ্চলিক ভাষা, সংস্কৃতিকে হিন্দি দিয়ে গ্রাস করতে চাইছে। হিন্দি আগ্রাসন চালাচ্ছে। এমনকী নতুন শিক্ষা নীতি (‌এনইপি)‌–র বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন রাজ্যের সরকার। এবার কলকাতার এক কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যা ঘটল, তার পর সেই অভিযোগই আরও জোরালো হল। 

কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স–এ একটি নির্দেশিকা জারি হল। তাতে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল কাজে হিন্দিকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।