নভেম্বর ১২, ২০২১ ১৩:৫২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: আজ ১২ নভেম্বর শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণে দুই নারীর মৃত্যু, আহত ৮- প্রথম আলো
  • উৎসবমুখর ইউপি নির্বাচনে কিছু প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক’-দৈনিক কালেরকন্ঠ

  • সৌদিতে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন অনুমোদন-ইত্তেফাক

  • আমরা একটা নষ্ট নেতৃত্বের মধ্যে পড়ে গেছি: মির্জা ফখরুল–যুগান্তর
  • বিশ্বের ১০০টিরও অধিক দেশ মনে করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই: মান্না -দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • টি সেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন, সব করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা আসছে-দৈনিক মানবজমিন

ভারতের শিরোনাম:

  • বিজেপিতে মহিলাদের সম্মান নেই: সায়নী, তৃণমূলে একজনই পুরুষ, বাকি সবাই মহিলা: দিলীপ-আজকাল
  • গত ৭ বছরে দেশে ১৯ গুণ বেড়েছে ডিজিটাল লেনদেন’, জানালেন প্রধানমন্ত্রী-সংবাদ প্রতিদিন
  • দৈনিক ভিন্ন একটি শিরোনাম: আজকাল অতিরিক্ত মাদক নিচ্ছেন’, কঙ্গনার ‘ভিক্ষের স্বাধীনতা’ মন্তব্যে কটাক্ষ নবাব মালিকের

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

কথাবার্তার প্রশ্ন (১২ নভেম্বর)
১. লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত। খবরটি দিয়েছে দৈনিক মানবজমিন। কী বলবেন আপনি?
২.হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, 
লেবাননে গৃহযুদ্ধ বাধাতে চায় সৌদি আরব। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন তার এ বক্তব্য?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণে দুই নারীর মৃত্যু, আহত ৮- প্রথম আলো

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় একটি ফ্ল্যাট বাসায় গ্যাসের লাইনে বিস্ফোরণে দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ছয়টায় উপজেলার সেহাচর লাল খাঁ এলাকায় মোক্তার হোসেনের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ওই ফ্ল্যাটের পাঁচটি ঘরসহ পাশের বাড়ির তিনটি আধাপাকা ঘরের দেয়াল ও একটি দোকানের দেয়াল ভেঙে পড়ে।

ঘটনার পর ভবনটি সিলগালা করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা খাতুনকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত দুজন হলেন মায়া রানি (৪৫) ও শিবু রানি (৩২)। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন মো. নাসির (৩৩), মো. হোসেন (৩৩), জাহিদুল ইসলাম (৪৫), ঝুমা (২০), মনি (২৫), রুবেল (২২), কালসী (৫৫) ও হৃদয় দাস (৪২)। আহত ব্যক্তিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উৎসবমুখর ইউপি নির্বাচনে কিছু প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক’-দৈনিক কালেরকন্ঠ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে স্বতস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিভিন্নস্থানে কিছু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, অনেকে আহত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচন ঘিরে যে উৎসবমুখরতা তা ধরে রাখতে সকলকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ওবায়দুল কাদের তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে যাতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ ধরে রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি, তিনি রাজনীতি কিংবা প্রশাসনের যেই-ই হোন দায়িত্বহীন বক্তব্য সমীচীন নয়। দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সভা-সমিতি-সেমিনারে তাদের দায়িত্বের সীমারেখা অতিক্রম করে দায়িত্ব ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখছেন, মন্তব্য করছেন, যা মোটেই শোভন নয়।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদ কিংবা সরকারি কর্মকর্তা সবারই একটি সুনির্দিষ্ট সীমারেখা আছে, আচরণবিধি আছে, সকলের এ সীমারেখা মেনে চলা অতি আবশ্যক।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে সকলকে বক্তব্য দেওয়া বা মন্তব্য করার ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিমণ্ডল বিবেচনা করা তথা সীমারেখা মেনে চলার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, আমাদের কারো কারো অতি-উৎসাহী এবং বাড়তি কথা বা বক্তব্যে জনমনে ভুল মেসেজ যেতে পারে, যা দেশের জন্য মোটেই শুভ নয়।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অন্ধসমালোচনা করা বিএনপির এখন প্রতিদিনের রাজনৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণ ও দেশের জন্য তারা কিছু করতে না পারলেও মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের কাজটি সুনিপুণভাবে করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, চূড়ান্ত বিচারে এসব অপপ্রচার বিএনপির বিরুদ্ধেই যাবে এবং যাচ্ছে, যা তারা এখনো বুঝতে পারছে না। এসব সত্য বিএনপি যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে ততই তাদের জন্য মঙ্গল।

বিএনপি মহাসচিব সেই পুরোনো ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছেন আর বলছেন বিচারব্যবস্থা নাকি দলীয়করণ করা হয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে- এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাদের সমালোচনার এসব পুরোনো হাতিয়ার এখন ভোঁতা হয়ে গেছে। এসব বিএনপির ধারাবাহিক কল্পিত অভিযোগের চর্বিত-চর্বন মাত্র মন্তব্য ওবায়দুল কাদেরের।

দেশের বিচারবিভাগ স্বাধীনভাবেই কাজ করছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, বিচারের রায় বিএনপির পক্ষে গেলে বলে বিচারবিভাগ স্বাধীন আর বিপক্ষে গেলে, বলে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলা তাদের পুরোনো অভ্যাস।

তিনি বলেন, বিএনপির নীতি হচ্ছে, বিচার মানি কিন্তু তালগাছ আমার। বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে বলে আরও বেশি ভোটে জয়ী হতে পারতো, আর হারলে বলে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাছে নিরপেক্ষ কমিশন মানে হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভের গ্যারান্টি প্রদান।

আমরা একটা নষ্ট নেতৃত্বের মধ্যে পড়ে গেছি: মির্জা ফখরুল–যুগান্তর

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়- এই খনার বচন বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে। আমরা একটা নষ্ট নেতৃত্বের মধ্যে পড়ে গেছি। এখানে রাজা এমন হয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্টগুলো বোঝার শক্তিও তাদের নেই।’

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানির দাম বাড়ানোর নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ডিজেল ব্যবহার করে বাস-ট্রাক। বড়লোকদের প্রাডো গাড়িতে ডিজেল ব্যবহার হয় না। কেরোসিন ব্যবহার করে গ্রামের মানুষ। প্রজারা কষ্ট পায়। আর যিনি রাজা ওনি তখন প্যারিসে বক্তব্য দেন, স্কটল্যান্ডে বক্তব্য দেন, অথবা গ্লাসগোতে পরিবেশের বক্তৃতা করেন, লন্ডনে বক্তৃতা করেন। গোটা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। ভালো কথা, আমাদের নেতা যদি সারা বিশ্বের রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন, দুঃখের কিছু নেই। কিন্তু তার দেশে কী ঘটছে? দেশের মানুষ কেমন আছে। 

তিনি বলেন, আজকে কত বড় লজ্জা আমাদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন গণতন্ত্র সভা ডেকেছেন, একশটা দেশকে ডেকেছেন। পত্রিকায় দেখেছি। আমরা শান্তি পেতাম, ভালো লাগতো, নিজের মাথাটা উঁচু হয়ে দাঁড়াতো। আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশ, বাংলাদেশ।  অথচ আমাদের নামটা সেখানে নেই।  

তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১২/১৪ বছর আগে আমরা একটা গণতান্ত্রিক দেশে ছিলাম। গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, লড়াই করেছি, যার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের মতো একটা ইউনিক সিস্টেম আমরা নিয়ে এসেছিলাম। সুষ্ঠু নির্বাচন করতাম, সেই দেশটাকে আজকে অগণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে। এর চেয়ে লজ্জার, দুর্ভাগ্যের আর কিছু নেই।

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এমন দাবি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ভদ্রলোকের কোনো লজ্জা-শরম নেই। দেশের পুরো নির্বাচন ব্যবস্থাকে তিনি ধ্বংস করেছেন।

জাগপা সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাদাত হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন— জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

সৌদিতে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন অনুমোদন-ইত্তেফাক

বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার দুয়ার খুলছে সৌদি আরবে। এ সম্পর্কিত একটি আইনের অনুমোদন দিয়েছেন সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য হিল।

অনুমোদিত আইনে বলা হয়েছে, দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের নাগরিকত্ব দেবে মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশ। কয়েকটি পেশায় বিশেষভাবে দক্ষদের সৌদির নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে হবে।

রাজকীয় এক আদেশে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী এবং চিকিৎসা, বিজ্ঞান, আইন, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, প্রযুক্তিবিদ্যায় চৌকস ও দক্ষ পেশাজীবীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাবেন।

সৌদি সরকারের ‘ভিশন-২০৩০’ বাস্তবায়নে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ ও চৌকসদের আকৃষ্ট করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ দরবার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নাগরিকত্ব লাভকারী দক্ষ পেশাজীবীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

বিশ্বের ১০০টিরও অধিক দেশ মনে করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই: মান্না -দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিশ্বের ১০০টিরও অধিক দেশ মনে করে বাংলাদেশে কোনো গণতন্ত্র নাই, তাই ইউএসএ আমেরিকায় গণতন্ত্রের সম্মেলনে তারা বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ করে না। তেল, গ্যাস, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে নাগরিক ঐক্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত আজ শুক্রবার সকালে প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ক্ষমতা দখল করে মানুষকে শোষণ করে নাম দিয়েছে রোল মডেল। কোনও কোনও দেশ এই রোল মডেলের কথা বলেছে, অনুসরণ করেছে তা জানতে চাই। গণতন্ত্রের সম্মেলনে ডাক পান না, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এই দেশের গুম খুনের হিসাব চাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের গত কয়েকদিনে ৭০ জনের উপরে মানুষ নিহত হয়েছেন, কতজন আহত হয়েছেন সেগুলো নিয়ে কিছু করছেন না। দিল্লি-প্যারিস ঘুরে বেড়াচ্ছেন, দেশের কী লাভ হয়েছে? কোথাও গিয়ে দেশের মানুষের দুর্দশার কথা বলেছেন? রোহিঙ্গা সমস্যার কথা বলেছেন? নাকি এখনও নোবেল পুরস্কারের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন? 

তিনি আরও বলেন, নাগরিক ঐক্য ক্ষমতায় গেলে তেল গ্যাস আর দ্রব্যমূল্যের দাম কমাবো। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে প্রথম বছরেই ছয় কোটি মানুষকে মাসিক এক হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। বছরে এক লাখ কোটি টাকার পাচার আর উন্নয়নের নামে লুটপাট বন্ধ করে গরিব ও মধ্যবিত্তকে সরাসরি অর্থ সহায়তা দেওয়া ও এই সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়াবো আমরা। 

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সার বলেন, বিরোধী দলের প্রতি করা রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ করুন, নাগরিক ঐক্যকে ঢাকায় সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে সভা করতে দিন, দেখুন মানুষ কীভাবে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে এসে সরকারের পতনের ডাকে সাড়া দেয়। 

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. জাহেদুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ডিজেল-কেরোসিনের দাম যতো টাকাই বাড়ানো হোক না কেন, আমরা তা কিনবোই, মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছে বেশি দামে তেল-ডিজেল কিনেও এই অবৈধ সরকারের গদিকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার জন্য। 

নাগরিক যুব ঐক্যের সমন্বয়ক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এম এ কবীর হাসান বলেন, ২৩ শতাংশ তেলের দামের বিপরীতে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে ২৭ শতাংশ। তেলের খরচই কি ভাড়া বাড়ানোর সবকিছু? আর কোনো খরচ নেই? তেলের দাম শূন্য টাকা করে দলে কি ভাড়া ছাড়াই যাত্রী পরিবহন করবেন আপনারা। তেলের দাম যা বেড়েছে তাতে ভাড়া বাড়ার কথা ছিলো ৫-৬ শতাংশ, বাড়িয়েছেন ২৭ শতাংশ। তাতেই কি এই শ্রমিক-মালিক সমিতি আপনাদের অবৈধ সরকারের গদি বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়বে? সেই আশা করবেন না।

নাগরিক ঐক্য ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এই বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য মোফাখখারুল ইসলাম নবাব, সাকিব আনোয়ার, নাগরিক যুব ঐক্যের ডিএম শামীম আহমেদ, মহানগর দক্ষিণের সংগঠক মোশাররফ হোসেন, স্বপ্না আক্তার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব মোঃ আতিকুল ইসলাম। এছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকি বেগম, নাগরিক নারী ঐক্যের আহ্বায়ক শাহনাজ রানু ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

টি সেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন, সব করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা আসছে-দৈনিক মানবজমিন

এক নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, টি সেল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক উদ্ভাবন বিজ্ঞানীদের সেই ভ্যাকসিনের বিকাশের দিকে নিয়ে যেতে পারে যা সব করোনাভাইরাস এবং কোভিড ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কাজ করবে।বুধবার বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী 'নেচার জার্নাল' এ প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে গবেষকরা বলেছেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের কোভিড ভ্যাকসিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরে নির্দিষ্ট প্রোটিনের উপর প্রতিক্রিয়া জানানো যা ভাইরাসটির প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য আবশ্যক।স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে আরো বলা হয়ঃগবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সংক্রমিত কোষগুলোকে আক্রমণ করার জন্য রোগ প্রতিরোধী কোষগুলোকে (টি সেল নামে পরিচিত) সক্রিয় করে তুলে এমন টিকা বানাতে পারলে শুরুতেই করোনা নির্মূল করা এবং এর বিস্তার বন্ধ করতে সহায়তা করা সম্ভব হতে পারে।এটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে লাইসেন্সকৃত ভ্যাকসিনের পরিপূরক হতে পারে, যা শুধু ভাইরাসের বাইরে থেকে বেরিয়ে আসা স্পাইক প্রোটিনের প্রতি প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার সমস্ত করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষায় সেই ভ্যাকসিন তৈরির দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা কেবল কোভিড এবং এর বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টগুলো থেকেই রক্ষা করবে না, সাধারণ সর্দির জন্য দায়ী করোনাভাইরাস এবং নতুন উদীয়মান প্রাণীদের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধেও সুরক্ষা দেবে৷উল্লেখ্য, টি-সেল হচ্ছে মানুষের রক্তের মধ্যে থাকে এমন একটি রোগপ্রতিরোধী কোষ যার প্রধান কাজ মানবদেহে কোন প্যাথোজেন (অর্থাৎ রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস) বা কোন সংক্রমিত কোষ ঢুকে পড়লে তাকে চিহ্নিত করা এবং মেরে ফেলা। টি-সেলের ওপরের অংশে থাকা প্রোটিন দিয়ে সে অনুপ্রবেশকারীর গায়ের প্রোটিনের সাথে নিজেকে সেঁটে দেয় এবং তাকে ধ্বংস করে।

এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি

বিজেপিতে মহিলাদের সম্মান নেই: সায়নী, তৃণমূলে একজনই পুরুষ, বাকি সবাই মহিলা: দিলীপ-আজকাল

শ্রাবন্তীর বিজেপি ত্যাগের পর নানা মহল থেকে নানা মত উঠে আসছে। এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘ছবিতে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তাই ওঁরা চলে যাচ্ছেন।’ এদিকে শ্রাবন্তীর বিজেপি ত্যাগের পর সায়নী ঘোষ বৃহস্পতিবার লিলুয়ার এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘কোনও মহিলার পক্ষেই বিজেপিতে থাকা সম্ভব নয়।’ এরই পাল্টা দেন দিলীপ। বলেন, ‘সায়নী ঘোষ নিজেকে কী মনে করেন? নিজেকে কি পুরুষ মনে করেন? আমরা চার থেকে পাঁচ জন মহিলা রাজ্যপাল করেছি। প্রথম বিদেশ মন্ত্রী, প্রথম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মহিলা হয়েছেন। তৃণমূল যাঁকে মহিলা ভাবেন তিনি নিজেকে মহিলা ভাবেন না। তৃণমূলে একজনই পুরুষ আছে বাকি সবাই মহিলা।’

দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, সিনেমার তারকা বলেই দলে তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, তাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর আগে বাপ্পি লাহিড়ী ছিলেন, বাবুল সুপ্রিয় এসেছিলেন। তিনি দু’বার সাংসদ হয়েছেন। লকেট চ্যাটার্জিও সিনেমা করতেন। তিনি আমাদের দলে এসেছেন, লড়াই করেছেন, তাঁকে দল গুরুত্ব দিয়েছেন। যাঁরা রাজনীতি বোঝেন না তাঁরা হতাশ হচ্ছেন। যে সব সেলিব্রিটিরা চলে যাচ্ছেন একটাই কারণ, তাঁদের কোনও ছবিতে অভিনয় করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

গত ৭ বছরে দেশে ১৯ গুণ বেড়েছে ডিজিটাল লেনদেন’, জানালেন প্রধানমন্ত্রী-সংবাদ প্রতিদিন

দেশে লাফিয়ে বেড়েছে ডিজিটাল লেনদেন (Digital transactions)। গত ৭ বছরে তা বেড়েছে ১৯ গুণ। শুক্রবার খুচরো বিনিয়োগকারীদের জন্য রিজার্ভ ব্যাংকের নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) গভর্নর শক্তিকান্ত দাশ ও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের উপস্থিতিতেই এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আর এই উদ্বোধনের মুহূর্তেই দেশে ডিজিটাল লেনদেনের বিস্ফোরণ নিয়ে উচ্ছ্বসিত হলেন মোদি। তিনি বলেন, ”মাত্র ৭ বছরে ভারতে ডিজিটাল লেনদেন ১৯ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬-৭ বছর আগেও ব্যাংকিং, পেনশন, জীবনবিমা এসব ছিল ভারতের ‘এক্সক্লুসিভ ক্লাব’। দেশের সাধারণ মানুষ, দরিদ্র পরিবার, কৃষক, ছোট ব্যবসায়ী, মহিলা, দলিতের মতো অনগ্রসর শ্রেণির প্রতিনিধিরা এসবের থেকে বহু দূরে অবস্থান করতেন।”

আজকাল অতিরিক্ত মাদক নিচ্ছেন’, কঙ্গনার ‘ভিক্ষের স্বাধীনতা’ মন্তব্যে কটাক্ষ নবাব মালিকের-সংবাদ প্রতিদিন

১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীনতা পায়নি। ওটা ছিল ভিক্ষা। প্রকৃত স্বাধীনতা এসেছিল ২০১৪ সালে। বুধবার সন্ধ্যায় এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। যার পর ‘কন্ট্রোভার্সি কুইন’ কঙ্গনাকে একহাত নেন বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী (Varun Gandhi)। বরুণ অভিযোগ করেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বলিদানকে অবজ্ঞা করেছেন বলিউড নায়িকা। এবার কঙ্গনার ওই মন্তব্যের কারণে তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করলেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা এনসিপি নেতা নবাব মালিক (Nawab Malik)। নবাবের মন্তব্য, “সম্ভবত উনি (কঙ্গনা) আজকাল অতিরিক্ত মাদক নিচ্ছেন!”

এনসিপি নেতা আরও বলেন, “যেভাবে দেশের হাজার হাজার হাজার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অপমান করেছেন কঙ্গনা, তাতে ওঁর কাছ থেকে পদ্ম পুরস্কার কেড়ে নেওয়া উচিত।” এরপরেই নবাব মালিক মন্তব্য করে বসেন, “সম্ভবত আজকাল অতিরিক্ত মাদক নিচ্ছেন।”

এদিকে কঙ্গনার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশকে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছে আম আদমি পার্টি। যেখানে নায়িকার বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়াও দেশের বহু রাজনীতিবিদ কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্যের নিন্দা করেছেন। গতকাল কংগ্রেসের তরফেও কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়। নবাব মালিকের মতোই নায়িকার পদ্ম পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবি তুলেছে কংগ্রেসও। তবে গতকাল বেশি সরব হয়েছেন গান্ধী পরিবারের সদস্য তথা বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।