গ্যাটকো দুর্নীতি: খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৭ জুলাই
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১৭ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (৫ জুন) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক আলী হোসেনের আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে না পেরে সময়ের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে নতুন দিন ধার্য করেন।
ভাই শামীম ইস্কান্দারের মামলা
এদিকে, খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা মামলা বাতিল চেয়ে আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১২ জুন দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মামলাটি চলবে কিনা জানা যাবে ওইদিন।
রোববার (৫ জুন) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এ প্রসঙ্গে বেগম জিয়ার আইনজীবী এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার রেডিও তেহরানকে বলেন রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার বেগম জিয়া এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা রকম দুর্নীতির মামলা দিয়ে তাদেরকে জনসমক্ষে হেয় করতে চায়। এটা দুঃখজনক।
গ্যাটকো মামলা কী ?
ততকালীন সেনাসমর্থিত মাইনুদ্দিন-ফাখরুদ্দিন-এর আমলে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি রুজু করেন।
মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগ পত্র দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেছেন।
মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ছয়জন এরই মধ্যে মারা গেছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, এম কে আনোয়ার, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।
এ মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এম শামছুল ইসলাম, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, প্রয়াত মন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন ও এ কে এম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌ-সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেডের (গ্যাটকো) পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, গ্যাটকোর পরিচালক সৈয়দ তানভির আহমেদ ও সৈয়দ গালিব আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম শাহাদত হোসেন, বন্দরের সাবেক পরিচালক (পরিবহন) এ এম সানোয়ার হোসেন ও বন্দরের সাবেক সদস্য লুৎফুল কবীর।
শামীম ইস্কান্দারের বিরুদ্ধে মামলা
সম্পদের তথ্য চেয়ে ২০০৭ সালে শামীম ইস্কান্দারকে নোটিশ দেয় দুদক। এরপর সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে ২০০৮ সালে তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনও নেন শামীম ইস্কান্দার ও তার স্ত্রী।
২০১৬ সালে এ মামলা বাতিল চেয়ে করা শামীম ইস্কান্দারের আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর আবারও মামলা বাতিল চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী। আজ আবার শুনানির দিন ধার্য করলেন সর্বোচ্চ আদালত।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।