দিল্লিতে পৌঁছেছেন শেখ হাসিনা: বিমানবন্দরে লাল গালিচা সংবর্ধনা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ (সোমবার) স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইটটি নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের রেল ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী দর্শনা বিক্রম। এ সময় ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরে শেখ হাসিনাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা জানানো হয়। এছাড়া, একটি সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর চারদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সফরের এজেন্ডার শীর্ষে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও উন্নত করা, আঞ্চলিক সংযোগের উদ্যোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করার বিষয়টিও রয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই।
এর আগে, সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, রেলপথমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ মোট ১৭১ জন। তবে, প্রধানমন্ত্রীর হাইপ্রোফাইল এই রাষ্ট্রীয় সফরের তালিকা থেকে শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে। তবে সফর থেকে তার বাদ পড়ার কারণটি স্পষ্ট করেনি মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, গত কিছু দিনে নানা ধরনের মন্তব্য করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন। তবে সফর থেকে তার বাদ পড়ার কারণটি স্পষ্ট করেনি মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে ভারতকে অনুরোধ করা নিয়ে তার বক্তব্য দুই দেশকেই বিব্রত করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সফর থেকে বাদ দেয়া হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না: ফখরুল
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর সম্পর্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। কারণ, আমাদের অভিজ্ঞতা খুব তিক্ত, ফ্রাস্ট্রেশনের অভিজ্ঞতা, হতাশার অভিজ্ঞতা। আমরা প্রতিবার আশা করেছি এবার প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য কিছু আনবেন। তবে প্রতিবার দেখেছি অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে, নিরাশার সঙ্গে তিনি দিয়ে এসেছেন, নিয়ে আসেননি। আগে আসুক উনি (প্রধানমন্ত্রী)। কী নিয়ে আসছেন আমরা দেখি। তারপর কমেন্ট করব।
'শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে'
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লি বিমানবন্দরে কেন ভারতের একজন প্রতিমন্ত্রী স্বাগত জানালেন, তা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় হইচই শুরু হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রোটোকল অনুযায়ী একজন সফররত সরকারপ্রধানকে যে সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়ার কথা, সেটাই কিন্তু শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শেখ হাসিনার আগের বারের দিল্লি সফরেও (অক্টোবর ২০১৯) বিমানবন্দরে যাননি, সেটাও তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন।
নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার দিল্লি এসেছিলেন ২০১৭ সালের এপ্রিলে। সেই রাষ্ট্রীয় সফরেও বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তৎকালীন কেন্দ্রীয় নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ও সংগীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়কে। কিন্তু সে সময় নরেন্দ্র মোদি প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/আবদুর রহমান খান/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।