আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে মাথা নত করব না: শেখ হাসিনা
-
শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত গড়তে প্রচার কাজে নামার জন্য দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। ছাত্রলীগের দু’দিনব্যাপী বর্ধিতসভা ও কর্মশালা শেষে মঙ্গলবার রাতে ছাত্র সংগঠনটির সকল পর্যায়ের নেতারা গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কখনোই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেব না। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ করে কারও মঙ্গল করা যায় না, কোনো দেশ এগোতে পারে না।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমি ক্ষমতায় এসেই বলেছিলাম, বাংলাদেশের মাটি থেকে কোনো দেশে ইনসারজেন্সি করতে দেব না। দেই নাই।”
ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ে তুলতে তোমরা কাজ করবে।”
ছাত্রলীগ সদস্যদের সংগঠনের আদর্শে নিজেকে গড়ে তোলার তাগাদা দেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বাংলাদেশের নাগরিক, আমরা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছি। কারও কাছে আমরা মাথা নত করব না, শুধু আল্লাহ ছাড়া।”
ছাত্রলীগ নেতাদের আদর্শ নিয়ে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ক্ষমতার লোভে পড়ে ব্যক্তিগত চাহিদাকে প্রাধান্য দিলে দেশকে কিছু দিতে পারবে না।”
ছাত্রলীগ কর্মীদের চারিত্রিক সততা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সততার শক্তি অনেক বেশি। যার ভেতর সততা থাকে, সে সকল বাঁধা মোকাবেলা করতে পারে।”
ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “একজন রাজনীতিবিদের রাজনৈতিক ও চারিত্রিক দৃঢ়তা থাকতে হবে। মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে হবে; না হলে রাজনীতিবিদদের জীবনটাই ব্যর্থ।”
শিক্ষাখাতের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষানীতির পক্ষে প্রচার চালাতেও ছাত্রলীগ নেতাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
নিরক্ষরতা দূর করতেও ছাত্রলীগকে কাজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষের কাছে যেতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে যে কাজ আমরা করছি, তার ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। আমরা শতভাগ স্বাক্ষরতার দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে চাই।”
অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বক্তব্য রাখেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫