একজন কুলাঙ্গারকে ব্রিটিশ সরকার কেন জায়গা দিয়েছে জানি না: শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে চলমান গুপ্তহত্যার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, “মাদারীপুরের ঘটনার পর আর এ বিষয়ে দেশের মানুষের কোনো সন্দেহ নেই যে, বিএনপি-জামায়াতই সব গুপ্তহত্যার সঙ্গে যুক্ত। কলেজশিক্ষক হত্যা প্রচেষ্টায় যুক্ত এবং জনগণের হাতে আটক সন্ত্রাসীর পরিচয়- সে একজন শিবিরকর্মী।”
মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিম ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়া নিয়ে যখন তীব্র সমালোচনা চলছে তখন তিনি এ বক্তব্য দিলেন।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি এবং জামায়াত উভয়েই প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ হত্যায় সিদ্ধহস্ত। এটাই তাদের চরিত্র। তারা জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপকে যুক্তরাজ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছে। যেসব যুদ্ধাপরাধী লন্ডনে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন, তারাই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “টিউলিপকে দেয়া হুমকিতে বলা হয়েছে তোর নানাকে হত্যা করেছি। তোকে আর তোর মা-খালাকেও হত্যা করব। এই হলো হুমকির ভাষা। যে হুমকি শুনে বিএনপি নেত্রীর সেই ‘হাসিনামুক্ত বাংলাদেশ চাই’ হুমকির কথা মনে পড়ে যায়। হুমকি-ধমকির মধ্য দিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে।”
লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'একজন কুলাঙ্গার ছেলে যে, লন্ডনে বসে আছে। ব্রিটিশ সরকার কেন তাকে সেখানে জায়গা দিয়েছে জানি না।'
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারের সমালোচনা করবেন ঠিক আছে। কিন্তু সেটা যেন অসংলগ্ন না হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে জড়িয়ে বিবিসির একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, কিছু ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হচ্ছে। বিবিসির মতো আন্তর্জাতিক মানের সংবাদমাধ্যম এটা করতে পারে না।
ইফতার অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের একাংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাফর ওয়াজেদ ও মহাসচিব ওমর ফারুক, জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, ডিইউজের একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বক্তব্য দেন।
ইফতারের আগে সমগ্র দেশ-জাতি এবং মুসলিম উন্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।#
পার্সটুডে/এআর/১৯