বড় দুই দলের কর্মসূচী, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থা
ক্ষমতাসীনদের পদত্যাগ দাবী বিএনপির, নাশকতা ঠেকাতে সতর্ক ছাত্র-যুব-স্বেচ্ছাসেবক লীগ
যে দেশের আদালত, পুলিশ ও প্রশাসন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চায় সে দেশে রাজপথেই ফয়সালা হবে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই অবৈধ, দখলদার ও অনির্বাচিত সরকারকে বিদায়ের বার্তা দিতেই নয়াপল্টনে মহাসমাবেশে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশ হয়েছে। তাই জন আন্দোলনের স্রোতের দেখে ক্ষমতাসীন সরকারকে এখনই পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বর্তমান সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ এসব কথা বলেন দলটির শীর্ষ নেতারা। এর আগে বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে ঢাকা ছাড়াও সারাদেশ থেকে আসা দলের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে জড়ো হয়েছেন নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে।
আজ শুক্রবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল মোড় ও বিজয়নগর আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিতে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করার কথা জানান, সমাবেশে আসা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। জাতীয়তাবাদী যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, গন-মানুষের অধিকার আদায় করেই ফিরবে তার। আর বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী বলেছেন, সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে ও মানুষের অধিকার আদায়ে জনতা রাজপথে নেমেছে।
অন্যদিকে,বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং অপরাজনীতির বিরুদ্ধে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ঢাকা বিভাগীয় শান্তি সমাবেশ করেছে আওয়ামীলীগের সহযোগী ৩ সংগঠন যুবলীগ,স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ। সমাবেশে যোগ দিতে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন সমাবেশ-স্থলে। ব্যানার ফেস্টুন হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সেখানে যোগ দেন,আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা ।
এসময় নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট ও আশপাশের এলাকা।বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আওয়ামী লীগ সবসময় শান্তিতে বিশ্বাস করে। আর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন,বিএনপির নাশকতার রাজনীতি থেকে জনগণকে রক্ষা করতেই তাদের এই শান্তি সমাবেশ।দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশেই একধরনের উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাই ঢাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নয়াপল্টন ও বায়তুল মোকাররমের আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের সাঁজোয়া যানও দেখা গেছে। অনেক এলাকায় যান চলাচল ছিল নিয়ন্ত্রিত। শুক্রবার ছুটির দিনের তুলনায়ও গণপরিবহন কম ছিল রাজধানীতে।
এদিকে, প্রধান দুই দলের পাল্টা কর্মসূচীকে ঘিরে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই সাথে বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহনে তল্লাশি করেছে পুলিশ। প্রাইভেট-কার,মাইক্রোবাস,বাস ও মোটরসাইকেলের যাত্রীদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এসময় বেশকিছু নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ রাজধানীর প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। তবে নারায়নঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, চিহ্নিত অপরাধী বা একাধিক মামলার আসামী ছাড়া কাউকে গ্রেফতার বা হয়রানী করা হচ্ছে না। এদিকে, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বেড়েছে পুলিশি তৎপরতা। অন্যান্য দিনের তুলনায় গণপরিবহন কম থাকায়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। #
পার্সটুডে/বাদশাহ রহমান/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।