রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র: একই কথা বলছেন হাছান মাহমুদ; বিশ্লেষকদের ভিন্ন বক্তব্য
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i21883-রামপাল_বিদ্যুৎকেন্দ্র_একই_কথা_বলছেন_হাছান_মাহমুদ_বিশ্লেষকদের_ভিন্ন_বক্তব্য
বাগেরহাট জেলার রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না বলে আবারো দাবী করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ০৩, ২০১৬ ১৭:১০ Asia/Dhaka

বাগেরহাট জেলার রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের কোনো ধরনের ক্ষতি হবে না বলে আবারো দাবী করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আজ (সোমবার) দুপুরে রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত  ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য শক্তির পরিকল্পনা, কর্মপন্থা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আল্ট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল পদ্ধতির মাধ্যমে স্থাপন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এ পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে এটি স্থাপন করা হলে সুন্দরবনের কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

তিনি আরো বলেন, যারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করছেন আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। তারা সরকারকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। ফলে সরকারকে এ ব্যাপারে অনেক সতর্ক হতে হচ্ছে। রামপাল বিরোধিতাকারীদের শুধু এতটুকুই বলবো- "উদ্বেগ ভালো, তবে বেশি উদ্বেগ ভালো না।"

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান রেডিও তেহরানকে বলেন, "আমাদের বিদ্যুৎ দরকার, তাই বলে সেটা রামপাল থেকেই আনতে হবে তেমন কথা নেই। তাছাড়া, যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চায় না সেহেতু সরকারকে জনমত ও জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে এখান থেকে সরে আসা উচিত।"

তিনি মনে করেন, সুন্দরবনের কাছে এ প্রকল্পের ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্ত ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এগুতে হবে। কারণ সুন্দরবন মাত্র একটাই। এটা ধ্বংস হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতি, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা অন্যভাবে পুষিয়ে  দেয়া যাবে না।

শুরু থেকেই সুন্দরবনের পাশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে  আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেন, ইউনেস্কো'র উদ্বেগ ও আপত্তির পর কেবল জেদের বশেই  রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি দাবী করেন, একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সার্বিক মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত এ প্রকল্পের সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখতে হবে।

নবায়নযোগ্য শক্তি প্রসঙ্গে আজকের আলোচনা অনুষ্ঠানে ড. হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখন সোলার প্যানেল বসানো হচ্ছে। সরকারের কাবিখা এবং টিআই প্রকল্পের মাধ্যমে এখন গ্রামাঞ্চলে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এই সোলার প্যানেল বসানোর মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলেও এখন আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। আর এটি সম্ভব হচ্ছে সরকারের সঠিক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

এদিকে সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতা করে বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দিয়েছেন,  তার দল দেশে জনবিরোধী যেকোনো প্রকল্প প্রতিরোধ করবে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক গোলটেবিল আলোচনায় মির্জা ফখরুল তার ভাষায় অভিযোগ করেন, "সরকার অন্য দেশের স্বার্থে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। কারণ, তারা ক্ষমতায় টিকে আছে অনৈতিকভাবে। যারা তাদের এই অনৈতিক কাজটি করতে সাহায্য করেছিল, তাদের স্বার্থকে  বজায় রাখছে বর্তমান সরকার।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/৩