পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা সহ্য করা হবে না: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i44584-পাকিস্তানের_সঙ্গে_বাংলাদেশের_তুলনা_সহ্য_করা_হবে_না_শেখ_হাসিনা
ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার করা মন্তব্যের সমালোচনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা সহ্য করা হবে না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আজ (সোমবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
(last modified 2026-06-27T09:59:16+00:00 )
আগস্ট ২১, ২০১৭ ১৮:৫০ Asia/Dhaka
  • বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ষোড়শ সংশোধনীর বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার করা মন্তব্যের সমালোচনা করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা সহ্য করা হবে না। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আজ (সোমবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গতকাল (রোববার) অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরিবিধি নিয়ে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে উদ্দেশ করে বলেন,  “আমরা বিচার বিভাগ ধৈর্য ধরছি। যথেষ্ট ধৈর্য ধরছি। আজকে একজন কলামিস্টের লেখা পড়েছি… সেখানে ধৈর্যর কথাই বলা হল। পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ইয়ে (অযোগ্য) করল। সেখানে কিছুই (আলোচনা-সমালোচনা) হয়নি। আমাদের আরও পরিপক্কতা দরকার।”

তার ওই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পাকিস্তানের সাথে তুলনা করা... সব সহ্য করা যায়, কিন্তু পাকিস্তানের সাথে তুলনা করলে… এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করব না। পাকিস্তান রায় দিল দেখে কেউ ধমক দেবে… আমি জনগণের কাছে বিচার চাই। কেন পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা হলো? আমাকে এসব হুমকি দিয়ে কোনো কাজ হবে না।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া, জিয়া ও এরশাদকে দেখেছি। তাই আমি জনগণের কাছে বিচার চাই, যে পাকিস্তানকে আমরা ১৯৭১ সালে পরাজিত করেছি এবং যেটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র, সেটির সঙ্গে কেন তুলনা করা হলো?’

বিচারকদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, “আপনাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, জাতীয় সংসদের সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণই এই প্রজাতন্ত্রের মালিক।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মাঝেমধ্যে অবাক লাগে, যাদেরকে আমরাই নিয়োগ দিয়েছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। এবং নিয়োগ পওয়ার পর হঠাৎ করে পার্লামেন্ট সম্পর্কে তাদের বক্তব্য শুনে… পার্লামেন্ট সদস্য যারা, তাদেরকে ক্রিমিনাল বলা হচ্ছে। সেখানে ব্যবসায়ী আছে; সেটাও বলা হচ্ছে। ব্যবসা করাটা কী অপরাধ? কোনো ব্যবসায়ী মামলা করলে উচ্চ আদালত কী তাদের পক্ষে রায় দেয় না? রায় তো দেয়। বিচার তো তারাও পায়। তারা যদি সংসদ সদস্য হয়, তাহলে অপরাধটা কোথায়?” 

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা

প্রধান বিচারপতিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন: “তার নাকি সংবিধানের কিছু কিছু অনুচ্ছেদ পছন্দ না। তার মনে রাখতে হবে, এই সংবিধান বঙ্গবন্ধুর দিয়ে যাওয়া। তার যেগুলো পছন্দ সেগুলো জিয়ার শাসন আমলে প্রচলিত ছিল। তাকে মনে রাখতে হবে, আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গিয়েছিলেন বলেই আজ আপনি ওই চেয়ারে বসতে পেরেছেন।

শেখ হাসিনা প্রশ্ন রাখেন, “পার্লামেন্টকে হেয় করা, পার্লামেন্ট নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করা, এটার অর্থটা কী? আমাদের প্রধান বিচারপতির রায়ে পার্লামেন্ট সম্পর্কে বক্তব্য, সংসদ সদস্যদের সম্পর্কে বক্তব্য, এমনকি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাও নিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা- এটা কোন ধরনের কথা?” 

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা নিয়ে টানাপড়েন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি… সে ক্ষমতাও কেড়ে নিতে চাচ্ছেন? যে ক্ষমতা সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে দিয়েছে, সে ক্ষমতা কেড়ে নেন কীভাবে? সেটা দেয়া হচ্ছে না বলেই যত রাগ, আর গোস্বা, আর অ্যাটর্নি জেনারেলকে যা তা মন্তব্য করা হচ্ছে। কেন? পার্লামেন্টের মেম্বারদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা, এটা তো উচ্চ আদালতের দায়িত্ব না।” 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল প্রমুখ।#

পার্সটুডে/এআর/২১