ভারতীয় হাইকমিশনের ভূমিকা ঔপনিবেশিক শাসকদের মতো: রিজভী
-
রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "বাংলাদেশের একটি ভোটারবিহীন সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা ঔপনিবেশিক শাসকদের ন্যায়, যেন তারা বাংলাদেশে তাদের প্রতিভুদের টিকিয়ে রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন যদি ঔপনিবেশিক শাসনের গভর্নর হাউজে পরিণত হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিপন্ন ও সার্বভৌমত্ব অতি দুর্বল।"
আজ (রোববার) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।
গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, "গতকাল একটি দৈনিক পত্রিকায় নয়াদিল্লির একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশ হয়েছে যে, খালেদা জিয়ার আইনি পরামর্শক লর্ড কারলাইলকে ভারতে ঢোকার অনুমতি না দিতে নয়াদিল্লিতে জোরালো সুপারিশ পাঠিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। তাকে ভারতের ভিসা না দেয়া হলে, এটা প্রমাণিত হবে যে বিএনপি চেয়ারপারসনকে কারাদণ্ড ও জেলে আটকে রাখার পেছনে হাইকমিশনের ভূমিকা রয়েছে।"
রিজভী আহমেদ বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ভারত সফরে গিয়ে এক আলোচনা সভায় বলেছেন, বিএনপি ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে। বিএনপি হচ্ছে চীন ও পাকিস্তানপন্থি। তার এমন উদ্ভট বেহায়াপনায় বাংলাদেশিরা হতবাক ও স্তম্ভিত। জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের কৃপা আদায়ের ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছেন যা বাংলাদেশে বিরল। এটি যেন মোড়লের কাছে নিজের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করা।"
রিজভী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বীকারোক্তিতেই বলেছেন- তিনি ভারতকে সবকিছু দিয়েছেন, প্রতিদান চান নি। কিন্তু এখন প্রতিদান পেতে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন সেখানে। এরা বিবেক, আত্মমর্যাদা, জাতীয়তাবাদী অহংকার সবকিছু বিসর্জন দিয়ে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে অপমানিত করে দিল্লীর দরবারে করুণা ভিক্ষা করছেন। এইচ টি ইমাম হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘চলতি হাওয়ার পন্থি’। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তাক্ত লাশ ডিঙিয়ে আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন এই এইচ টি ইমাম। যখন যে হাওয়া বয়ে যায় সেই হাওয়ার সাথেই গা ভাসিয়ে দেন এইচ টি ইমাম সাহেবরা।"
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা আরও বলেন, "ভারত বিএনপি-কে সুযোগ দেবে না। এইচ টি ইমাম সাহেবকে বলতে চাই-ভারত সুযোগ দেয়ার কে? বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশে কোন দল ক্ষমতায় আসবে তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ। জনগণকে পাশ কাটিয়ে এদেশে আর কোন ষড়যন্ত্রমূলক ভোটারবিহীন জাতীয় নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। আসলে এই এইচ টি ইমাম’রা কখনোই আয়নায় নিজের চেহারা দেখেন না। এইচ টি ইমামদের ভূমিকা মিরন ও ঘষেটি বেগমের মতো। "
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আগামীকাল (সোমবার) অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। কর্মসূচি সফল করতে নেতাকর্মীদের যথা সময়ে উপস্থিত থাকার আহবান জানান তিনি।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৮