কুষ্টিয়ার আদালতে ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান
বাংলাদেশের দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ।
মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) মহাসচিব এম আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষারের মানহানি এক মামলায় আজ (রোববার) দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এম. এম. মোর্শেদ ১০ হাজার টাকা জামানতে স্থায়ীভাবে জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন পাওয়ার পর আদালত এলাকায় জমায়েত হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। কয়েক ঘণ্টা সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন মাহমুদুর রহমান।
এম আব্দুল্লাহ আরও জানান, হামলার আশংকায় মাহমুদুর রহমান কুষ্টিয়া সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট এম.এম মোর্শেদের অনুমতি নিয়ে তার আদালতে আশ্রয় নেন। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পরে লিখিতভাবে পুলিশ প্রেটেকশনের জন্য তিনি আবেদন করেন। পরে বিকেলে সোয়া চারটার দিকে তিনি আদালত এলাকা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তার ওপর ব্যাপকভাবে ইট-পাথর নিক্ষেভ করা হয়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পরে তিনি মহিলা আইনজীবী সমিতির অ্যাডভোকেট সামস তামিম মুক্তির চেম্বারে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগ সেখানেও হামলা চালায়। তার মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় আদালতের বারান্দায় বসে মাহমুদুর হামলার প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, 'এখানে প্রয়োজনে জীবন দেব। দেশের জন্য, ইসলামের জন্য জীবন দেব।'
আদালতের ভেতর হামলার জন্য পুলিশকে দোষারোপ করে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে পুলিশ আমাকে গুন্ডাদের হাতে ছেড়ে দিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা হয়েছে। এর জন্য একদিন তাদেরও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
পরে কুষ্টিয়া থেকে অ্যাম্বলেন্সে করে যশোর যান মাহমুদুর রহমান। সেখান থেকে বিমানে করে ঢাকায় গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। হামলার আগে মাহমুদুর রহমান আদালত কক্ষ থেকে ফেসবুক লাইভে নিজের নিরাপত্তা দাবি করেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২