জোরালো কর্মসূচি আসছে, সরকারের তাসের ঘর ভেঙে যাবে: ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i63860-জোরালো_কর্মসূচি_আসছে_সরকারের_তাসের_ঘর_ভেঙে_যাবে_ফখরুল
বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
আগস্ট ২৮, ২০১৮ ১০:৪৭ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবিতে কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ ইঙ্গিত দেন। জনগণ আবার রাস্তায় নামবে এবং সরকারের তাসের ঘর ভেঙে যাবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে প্রতিদিনই কোনো না কোনো কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে এবার জোরালো কর্মসূচি আসছে। কেমন কর্মসূচি আসছে তা সঠিকভাবে, সময়মতো দেখতে পাবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তারা জনগণকে কীভাবে মোকাবেলা করবে সেটাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে না। যার কারণে তারা যত রকমের দুষ্টামি আছে, সব রকমের দুষ্টামি করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচন করতে চায় তবে অন্যায়ভাবে আটক সবাইকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচন করতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ’আমরা বারবার বলছি আমাদের নেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। এটা আমাদের প্রথম শর্ত, নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে, একটা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে দিয়ে পুর্নগঠন করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে, একই সঙ্গে সমস্ত দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।'

বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সামনে রেখে মহাসচিব আরো বলেন, দেশ যখন নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে এবং যখন মহাসংকটে। ঠিক তখনই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেন। তিনি আজ থেকে ৪০ বছর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তার হাত ধরেই আজকের বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আগামীতে যে ১১টি দেশ উন্নত হতে চলেছে তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। তার পেছনে রয়েছে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অনবদ্য অবদান।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আজ দুর্ভাগ্য আমাদের। যে মহিলা জনগণের জন্য ত্যাগ করেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি আজ কারাগারে। আর যে আওয়ামী লীগ '৭৫-এ বাকশাল করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল তারাই জোরপূর্বক ক্ষমতা দখল করে দেশে পুনরায় স্বৈরশাসন কায়েম করেছে। তারাই গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দী রেখেছে।'

আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ধ্বংস করতে চায় উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, 'আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, বিএনপি মানুষের হৃদয়ের দল। মানুষের ভালোবাসার দল। এই দলকে ধ্বংস করা যাবে না। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছেন তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা তৈরি করে সাজা দেয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হবে সরকার।'

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব যৌথসভায় গৃহীত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১ সেপ্টেম্বর সকালে ঢাকাসহ সারা দেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন, সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন বিকেলে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা নয়াপল্টনে জনসভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান রিজভী। তার জন্য পুলিশের কাছে অনুমতির আবেদনও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ২ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় রমনার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে বিএনপির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা করারও সিদ্ধান্ত হয়।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৮

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন