কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করুন : শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য কৃষক লীগের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অংগ সংগঠন কৃষক লীগের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। কৃষক লীগের নেতাকর্মী এবং কৃষক সমাজকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “দেশে কৃষির উন্নয়ন এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১৯ এপ্রিল বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষক লীগ কৃষকদের সংগঠিত করা, তাদের দাবি আদায় এবং দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে আসছে।”
আওয়ামী লীগ সরকারকে কৃষক ও কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বাংলাদেশকে আবারও খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে।”
গত ৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের কৃষক ও কৃষিখাতের উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ভর্তুকি দিয়ে কৃষককে সার, বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়েছে এবং দিচ্ছে। সেচ মওসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি ঋণের পরিমাণ বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৮ সাল থেকে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্গাচাষিদের স্বল্পসুদে বিনা জামানতে কৃষি ঋণ প্রদান করে যাচ্ছে এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, কৃষি বহুমুখীকরণ, বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন এবং জলবায়ু পরিবর্তনে সহনশীল ফসলের জাত, প্রযুক্তি ও কৌশল উদ্ভাবনের ফলে দেশের কৃষি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, দেশে প্রথমবারের মতো ২ কোটি ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯৭ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য ১০ টাকার ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ৪১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাগণ প্রতিমাসে ৪০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, টিআর, কাবিখা, আশ্রয়ণ প্রকল্প, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পসহ কৃষক ও কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করেছে। আমরা এখন বিদেশে চাল রপ্তানি করছি।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, দেশের কৃষিখাতে এ সকল সফলতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষক লীগের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রয়েছে। তিনি বাংলাদেশ কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।# (আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান)