তারা শুধু সাংবাদিকই দেখল, অপরাধীকে দেখল না: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i7198-তারা_শুধু_সাংবাদিকই_দেখল_অপরাধীকে_দেখল_না_শেখ_হাসিনা
প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীকে গ্রেফতার করাও যদি এখন অপরাধ হয়। তাহলে এদেশে বিচার কী করে হবে? দেশে হত্যার বিচার কী করে হবে? তারা শুধু সাংবাদিকই দেখল, অপরাধীকে দেখল না।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
এপ্রিল ১৮, ২০১৬ ২০:০৯ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অপরাধীকে গ্রেফতার করাও যদি এখন অপরাধ হয়। তাহলে এদেশে বিচার কী করে হবে? দেশে হত্যার বিচার কী করে হবে? তারা শুধু সাংবাদিকই দেখল, অপরাধীকে দেখল না।

মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে সোমবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানি লন্ডারিং করে খালেদা জিয়ার ছেলে। সেটা আমাদের প্রমাণ করতে হয়নি। বিদেশের আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আমরা সেই টাকা ফিরিয়ে এনেছি। তাদের এত টাকা যে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাকে অর্থ দিয়ে কিনে ফেলেছে। কেন? জয়কে অপহরণ করবে হত্যা করবে। এটা কিন্তু আমেরিকার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। কোর্টে তারা (আমেরিকা) যে তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে, সেখানে বেরিয়ে এসেছে সেই শফিক রেহমান, মাহমুদুর রহমানদের নাম।‘ তিনি এই দুই সাংবাদিককে গ্রেফতারের জন্য তাঁর সরকারকে অভিযুক্ত করার পরিবর্তে সমালোচনাকারীদের এফবিআই’র সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপহরণ ও হত্যার মতো একটি জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে যখন এদের গ্রেফতার করা হয়, তখন কীভাবে মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলা হয়? মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে এ ধরনের ব্যক্তিরা অপরাধের কর্মফল থেকে রেহাই পেতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘অপরাধীকে গ্রেফতার করা হলে যদি অপরাধ হয়, তাহলে কোনো হত্যার বিচার হবে না। যারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমার মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে, যখন আমার মা-বাবা, ছোট ভাইকে হত্যা করা হলো তখন ইনডেমিনিটি দেয়া হলো সে বিচার করা যাবে না। সেই বিচার আমরা করেছি। আমাদের কি কোনো মানবাধিকার নাই? আমাদের হত্যার ষড়যন্ত্র করলে আমরা বিচার করতে পারব না? সকলের মানবাধিকার আছে, অধিকার শুধু আমাদের নাই। আওয়ামী লীগের কেউ হত্যার শিকার হলে অধিকার নাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেখানে অন্যায় দেখি সেখানেই আমরা বিচার করি। আমাদের কাজ হচ্ছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।‘

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির ইতিহাসটা কি? ২০০১-০৬ পর্যন্ত অপকর্মের কারণেই এক-এগারো এসেছিল। বিরোধী দলে থাকতে তারা নির্বাচন ঠেকানোর নামে মানুষ পুড়িয়ে মারলো। যারা রাজনীতি করে তারা মানুষের জন্য রাজনীতি করে পুড়িয়ে মারা জন্য নয়। ছোট শিশুকে পর্যন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। তা ঘটিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। তারা কীভাবে এ দেশের মানুষের সমর্থন পায়? যারা মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে এদের সঙ্গে দেখা করে? তাদের সঙ্গে দেখা করলেই তো পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যায়। কত পরিবার ধ্বংস করে দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা আসে এ দেশের মানুষকে ধ্বংস করতে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্ত চিন্তার নামে একটি শ্রেণি বেরিয়েছে। মুক্ত চিন্তা যদি নোংরা ভাষায় লেখা হয়, এটা কখনোই মুক্ত চিন্তা নয়। এটা বিকৃত মানসিকতা। বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা লেখা আছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম পালন করতে পারবে। ইসলাম ধর্মেও সেই কথা বলা আছে। আমিও ধর্ম মানি। কিন্তু যখন আমি যাকে মানি তার সম্পর্কে বিকৃত কথা লেখে তখন আমার খারাপ লাগে। মুক্ত চিন্তা হলে ভালো কথা লিখুক। খুন-খারাবি করার দায়িত্ব আল্লাহ কাউকে দেয় নাই। আল্লাহ কাউকে বিচারের দায়িত্ব দিয়ে দেন নাই।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ প্রমুখ।# (আশরাফুর রহমান)