টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগ নেতা হত্যার প্রধান আসামি রোহিঙ্গা নাগরিক নিহত
-
নুর মোহাম্মদ
বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি রোহিঙ্গা নাগরিক নুর মোহাম্মদ (৩৫) পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
আজ (রোববার) ভোর রাত সাড়ে ৫টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় এই ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার ও টেকনাফ থানার ওসিসহ (তদন্ত) ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ চন্দ্র দাশ।
তিনি বলেন, নূর মোহাম্মদ একটি সংগঠিত ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে থানায় হত্যা, ডাকাতি, অপহরণসহ অনেক মামলা রয়েছে এবং তিনি মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি। স্থানীয় যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নূর মোহাম্মদ।
গত ২২ আগস্ট নূর মোহাম্মদের কিশোরী মেয়ের কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠান হয়। বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই অনুষ্ঠান করা হয়। এতে আমন্ত্রিত অতিথিরা নূর মোহাম্মদের মেয়েকে এক কেজি স্বর্ণালংকার ও ৪৫ লাখ টাকাসহ আরো নানা উপহার দেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিতও হয়। এ ঘটনার নয় দিনের মাথায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন নূর মোহাম্মদ।
ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘গতকাল শনিবার নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাঁকে নিয়ে জাদিমোরা পাহাড়ের পাদদেশে অস্ত্র নিয়ে গেলে সেখানে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি করে। এ সময় গোলাগুলিতে নূর মোহাম্মদ আহত হন এবং অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে আহতাবস্থায় নূর মোহাম্মদকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
পুলিশ জানায়, টেকনাফ উপজেলার জাদিমোরায় গত ২২ আগস্ট রাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে (৩০) গুলি করে হত্যা করা হয়। তার বড় ভাই ওসমান গণি অভিযোগ করেন, একদল রোহিঙ্গা তাঁর ভাইকে বাসার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশের একটি পাহাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। পরে নূর মোহাম্মদকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা করা হয়।
ওমর ফারুক খুনের ঘটনায় পরদিন শতাধিক বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা একটি রোহিঙ্গা শিবিরে হামলা চালিয়ে অস্থায়ী ঘরবাড়ি ও এনজিও অফিসগুলোতে ভাঙচুর করে। তাঁরা টায়ার ও প্লাস্টিকের বাক্স জ্বালিয়ে টেকনাফ পৌরসভা থেকে লেদা পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। এ সময় রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদের বাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার পর ২৩ আগস্ট দিবাগত রাতে জাদিমোরা পাহাড়ের পাদদেশে ওমর ফারুক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। নিহতরা হলেন টেকনাফের জাদিমুরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. শাহ ও আবদুর শুক্কুর। এরা প্রত্যেকে দুইবছর আগে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে অন্যান্য রোহিঙ্গাদের সাথে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন এবং টেকনাফের জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাহাড়ে অবস্থান নেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।