ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির চিঠি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i75312-ভারতের_সঙ্গে_চুক্তির_বিষয়ে_জানতে_চেয়ে_প্রধানমন্ত্রীকে_বিএনপির_চিঠি
সাম্প্রতিক ভারত সফরসহ বিভিন্ন দেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সমস্ত চুক্তি করেছেন, সেসব বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। আজ (রোববার) সকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাক্ষরিত চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌছে দেয়া হয়। বিএনপি’র পক্ষে দলের দুই যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল চিঠিটি পৌছে দেন। আর তা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ১৭, ২০১৯ ১২:৪৬ Asia/Dhaka
  • ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির চিঠি

সাম্প্রতিক ভারত সফরসহ বিভিন্ন দেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সমস্ত চুক্তি করেছেন, সেসব বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। আজ (রোববার) সকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম সাক্ষরিত চিঠিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌছে দেয়া হয়। বিএনপি’র পক্ষে দলের দুই যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল চিঠিটি পৌছে দেন। আর তা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

বিএনপি’র এ দুই নেতা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বিপ্লব বড়ুয়া তাদের অভ্যর্থনা জানান। এ সময়, বিএনপি নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কুশলাদি বিনিময় করেন তিনি। চিঠি গ্রহণ করে বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে চিঠি গ্রহণ করলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতে সরকারি সফরে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরে আপনাদের চিঠিটি পৌঁছে দেবো।'

চিঠিতে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সাথে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সম্পাদিত চুক্তিগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুযায়ী সকল চুক্তির পূর্ণবিবরণী অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও জনসম্মুখে প্রকাশ করে জনমনে সৃষ্ট নানাবিধ প্রশ্ন ও সন্দেহ দূর করার আহবান জানায় বিএনপি।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে

‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ার সৌজন্যে আমরা জানতে পেরেছি যে আপনি সর্বশেষ ভারত সফরকালে ০৫ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের সাথে ৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। এছাড়া একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরায় এলপিজি রপ্তানি বিষয়সহ ৩টি প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে মর্মে প্রকাশ। প্রকৃতপক্ষে এ সফরের সময় ভারতের সাথে সর্বমোট কয়টি চুক্তি/সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে সে সম্পর্কে জনগণ অবহিত নয়।’

‘ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এসকল চুক্তিকে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি তথা বাংলাদেশবিরোধী চুক্তি হিসেবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে নির্বিকার। অপরদিকে স্বাক্ষরিত এসকল চুক্তিকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী মর্মে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।’

‘ভারত দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি সংক্রান্ত চুক্তি ঝুলিয়ে রেখেছে। অথচ ফেনী নদী থেকে ভারতকে পানি উত্তোলনের চুক্তি, বাংলাদেশের উপকূলে ভারতের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সহযোগিতা বিনিময়ের নামে ভারতকে আমাদের উপকূলে রাডার স্থাপনে চুক্তি এবং মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের মতো স্পর্শকাতর জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট চুক্তি সই করার পূর্বে বিষয়টি নিয়ে কখনো কোনো ধরনের পাবলিক ডিবেট অনুষ্ঠিত হয়নি কিংবা বাংলাদেশের জনগণের মতামত গ্রহণ করা হয়নি।’

‘বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ১৪৫ (ক) তে উল্লেখ আছে যে, ‘বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোনো চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

‘কিন্তু ভারতের সাথে যেসকল চুক্তি সই করা হলো তার কোনোটিই জনসম্মুখে কিংবা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। এর ফলে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণই এসকল চুক্তির খুঁটিনাটি এবং বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে। অথচ এসকল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির বিষয়ে অবহিত থাকা জনগণের মৌলিক অধিকার, যে অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত রাখা স্পষ্টতঃই সংবিধানের লঙ্ঘন।’

‘প্রকৃতপক্ষে ভারতসহ অন্যান্য দেশের সাথে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের সম্পাদিত চুক্তিগুলো সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হয়নি।’

‘এমতাবস্থায় সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুযায়ী ভারতসহ অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত সকল চুক্তির পূর্ণবিবরণী অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদ ও জনসম্মুখে প্রকাশ করে জনমনে সৃ্ষ্ট নানাবিধ প্রশ্ন ও সন্দেহ দূর করার আহবান জানাচ্ছি।’

রুহুল কবির রিজভী

'পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেয়নি'

এদিকে, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পেঁয়াজ কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এখন সরকারের কতিপয় মন্ত্রী-এমপির মদদে চালের ব্যবসায়ীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। চালের দামও বাড়তে শুরু করেছে।

আজ (রোববার) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বাজারে সরকারের কোনো নজরদারি নেই। যে যেভাবে পারছে সাধারণ মানুষের টাকা লুটে নিচ্ছে। গত কয়েকদিন চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরকার বলেছে, সারাদেশে চালের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

এ সময়, চালসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপির উদ্যোগে আগামীকাল সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।#

পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।