খালেদা জিয়া হোম কোয়ারেনটাইনে থাকবেন: মির্জা ফখরুল
-
মাস্ক পরে হাসপাতাল থেকে বের হন বেগম খালেদা জিয়া
সদ্য কারামুক্ত বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের পরামর্শে হোম কোয়ারেনটাইনে থাকবেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ (বুধবার) সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার গুলশানে বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে বেরিয়ে এসে তিনি এ তথ্য জানান। বিকেল সোয়া ৫টায় খালেদা জিয়া ‘ফিরোজা’য় ঢোকার পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর ড. এফ এফ রহমান, প্রফেসর ডা. রজিবুল ইসলাম, প্রফেসর ডাক্তার হাবিবুর রহমান, প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন ও প্রফেসর ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সেখানে যান। এরপর সেখানে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমান।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার শরীর খুবই খারাপ। তার ওপর চলমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে তার চিকিৎসকরা খুবই চিন্তিত। চিন্তিত আমরা এবং দেশবাসীও। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে ম্যাডামের চিকিৎসকরা তাকে হোম কোয়ারেনটাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এখন থেকে তিনি হোম কোয়ারেনটাইনে থাকবেন।’
তিনি বলেন, 'আমরা সকল স্তরের নেতাকর্মী সমর্থকদের অনুরোধ জানাব, অযথা বাসার সামনে কেউ ভিড় জমাবেন না। যে যার জায়গায় নিরাপদে থাকুন। সুরক্ষাবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস থেকে নিজে বাঁচুন, অন্যকে বাঁচান।’
খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, তিনি যদি এ সময়ের মধ্যে কোনো রাজনীতি করেন, তাহলে তাঁর সাজা বাতিল করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে—এ কথার প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সে প্রসঙ্গে আমরা যাব না। আমাদের যাঁরা আইনজীবীরা আছেন, তাঁরা এ বিষয়ে কথা বলবেন।’
দীর্ঘ ২৫ মাস ১৭ দিন কারাভোগের পর বুধবার বিকেলে বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। এর মধ্যে তার জামিনের সব প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিনের আবেদন করেও সাড়া পায়নি তার পরিবার।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইনমন্ত্রী জানান, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সময় তাকে নিজ বাসায় থাকতে হবে এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না- এই দুইটি শর্ত আরোপ করা হয়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান//২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।