টঙ্গিতে বেতনের দাবিতে লকডাউন ভেঙে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
-
টঙ্গিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
করোনাজনিত লকডাউন আর সামজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেতনের দাবিতে বাংলাদেশের গাজীপুরের টঙ্গিতে বিক্ষোভ করছে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
অনেক কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনই বকেয়া পড়েছে। বেশিরভাগ কারখানার মার্চের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এমন অবস্থায় বেতনের দাবিতে আজ (সোমবার) সকালে টঙ্গীর বিসিক এলাকার আলাউদ্দিন অ্যান্ড সন্স প্রাইভেট লিমিটেড পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক কারখানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, প্রতিমাসেই এ কারখানা থেকে আন্দোলন করে বেতন নিতে হয়। বিসিক এলাকার সব কারখানা মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। তাদেরও গত ৯ এপ্রিল বেতন দেয়ার কথা ছিল। সেদিন বেতনের জন্য আসলে ফের ১৩ এপ্রিল আসতে বলা হয়। আজ শ্রমিকরা বেতনের জন্য জড়ো হলে বলা হয় ১৬ তারিখে বেতন দেয়া হবে।
এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা কিছুক্ষণ কারখানার সামনে অবস্থান করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে শূন্যহাতে ঘরে ফিরে যায়।
তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে গতকালও বিক্ষোভ হয়েছে গাজীপুর, টঙ্গি, সাভার, উত্তরখান, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানার সামনে।
শ্রমিকরা জানান, তাদের বাসা ভাড়া ও দোকানে বাকি পরিশোধ করতে পারছেন না ঘরেও খাবার শেষ। এখন তারা অনাহারে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা গতকাল হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কে গাছের ডাল ও কাঠের টুকরো ফেলে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জেও আইনশৃংখলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মালিক পক্ষ বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি এবং শ্রমিক ছাটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল করার ঘোষণা দেবার পর শ্রমিকরা ঘরে ফিরে যায়।
সরকারের বক্তব্য
এ অবস্থায় সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান আজ এক বিবৃতিতে সকল শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন ১৬ এপ্রিলের মধ্যেই পরিশোধের জন্য মালিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন দিতে ব্যর্থ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন।
একইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে সরকারি নির্দেশনা মেনে শ্রমিকদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান শ্রম-প্রতিমন্ত্রী।
মালিকরা কী বলেন
এর আগে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক এবং বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান স্বাক্ষরিত যৌথ এক ঘোষণায় আগামী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানান।
আজ সকাল পর্যন্ত বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ৭৬১টি কারখানা মালিক মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেছেন বলে বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।