করোনাভাইরাস মোকাবিলা
দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত হলে ১০ লাখ টাকার বীমা, মৃত্যুতে ৫ গুণ: প্রধানমন্ত্রী
-
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে গণভবন থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবীমা ও জীবনবীমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।
চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ সম্মানী ১০০ কোটি টাকা
চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা দেশবাসী চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে আছে। তাই করোনার ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। যেসব সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী প্রত্যক্ষভাবে করোনাভাইরাস রোগীদের নিয়ে কাজ করছেন, তাদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
তিনি জানান, সুরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই। নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীরা সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একই সঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন
করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এবারের পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এই দিনটিতে রাজধানীর রমনা পার্ক, চারুকলা চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ নগরীর নানা স্থান মানুষের ভিড়ে মুখর থাকে। গ্রামীণ মেলা, হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠানে গোটা দেশ মেতে ওঠে। এবার সবাইকে অনুরোধ করব, কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজসহ নানা মৌসুমি ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।
দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমিক, হকারদের জন্য বরাদ্দ ৭৬০ কোটি টাকা
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের কারণে জীবিকা হারানো দিনমজুর, রিকশা বা ভ্যান চালক, মটর শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, পত্রিকার হকার, হোটেল শ্রমিকসহ অন্যান্য পেশার মানুষদের ৭৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা দীর্ঘ ছুটি বা আংশিক লক-ডাউনের ফলে কাজ হারিয়েছেন তাদের নামের তালিকা ব্যাংক হিসাবসহ দ্রুত তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ তালিকা প্রণয়ন সম্পন্ন হলে এককালীন নগদ অর্থ সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।’
কোনো খাদ্য সংকট নেই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের মহামারি থেকে আমাদের বাঁচতে হবে। আমরা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি। যখন যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা নেওয়া হচ্ছে। এ মুহূর্তে আমাদের কোনো খাদ্য সংকট নেই। সরকারি গুদামে যেমন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার মজুত রয়েছে, তেমনি রয়েছে গৃহস্থদের ঘরে ঘরে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে গত মৌসুমে আমাদের রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে বোরো ধানেরও ভালো ফলন হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। খাদ্য ও কৃষি পণ্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা অটুট রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
আঁধার একদিন কেটে যাবেই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যে আঁধার আমাদের চারপাশকে ঘিরে ধরেছে, তা একদিন কেটে যাবেই। বৈশাখের রুদ্র রূপ আমাদের সাহসী হতে উদ্বুদ্ধ করে। মাতিয়ে তোলে ধ্বংসের মধ্য থেকে নতুন সৃষ্টির নেশায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। ভয় মানুষের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে। কেউ আতঙ্ক ছড়াবেন না। আমাদের সকলকে সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। সরকার সব সময় আপনার পাশে আছে। কিছু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ সংকটকালে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি বীরের জাতি। অতীতে নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বাঙালি জাতি সাহসের সঙ্গে সেগুলো মোকাবিলা করেছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি আমরা। আমরা সস্মিলিতভাবে করোনাভাইরাসজনিত মহামারিকে প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবো, ইনশাআল্লাহ।’#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।