'ট্রাম্প কবে এই বিপর্যয়কর ও প্রাণঘাতী যুদ্ধ থেকে সরে আসবেন?'
ট্রাম্পের বিপর্যয়কর ইরান যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানালেন মার্কিন সিনেটর
-
মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার
পার্সটুডে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দেশটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতারা ক্রমবর্ধমানভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চলমান বৈরিতাকে একটি সম্পূর্ণ কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করছেন।
মার্কিন অভিজাত মহলে ব্যাপক উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটিয়ে এক প্রকাশ্য সমালোচনায় সিনেটের গোয়েন্দা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মার্ক ওয়ার্নার পশ্চিম এশিয়ায় হোয়াইট হাউসের যুদ্ধংদেহী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা স্বীকার করেন যে, ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভুল হিসাবের জন্য মার্কিন সেনারা চরম মূল্য দিচ্ছে।
ওয়ার্নার স্বীকার করে বলেন, “ইরানের যুদ্ধ যত দিন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, প্রতিদিন আমাদের সেনাসদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে, আমাদের পণ্যের দাম বাড়ছে এবং আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা প্রস্তুতি দুর্বল হচ্ছে।” এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্বীকার করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আগ্রাসী নীতির কারণে দেশটি গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট ও সামরিক ক্লান্তির মুখে পড়েছে।
সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের আড়ালে থাকা বিষয়টি সামনে এনে ওয়ার্নার প্রশাসনের বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহসিকতার সরাসরি সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ট্রাম্প কবে এই বিপর্যয়কর ও প্রাণঘাতী যুদ্ধ থেকে সরে আসবেন?”
ওয়ার্নারের এই স্বীকারোক্তির সময় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এই অঞ্চলে কয়েক দশকের মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করছেন। কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটন এমন একটি ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে কাজ করেছে যে, অবৈধ নিষেধাজ্ঞা, গোপন ষড়যন্ত্র ও সামরিক হুমকির মাধ্যমে ইরানি জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছাকে নত করা সম্ভব।
১৯৫৩ সালে বিদেশি মদদে ইরানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে তথাকথিত ‘সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের’ নামে অবৈধ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধের প্রতীক জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার মতো কর্মকাণ্ড পর্যন্ত—মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ধারাবাহিকভাবে জবরদস্তি ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করেছে।
কিন্তু ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী অবিচল শক্তির প্রমাণ দিয়ে যাওয়ায় মার্কিন শক্তির সীমাবদ্ধতাগুলো এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন এখন নিজেদের তৈরি করা একটি সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি দেশটি অভ্যন্তরীণভাবে দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি, সামরিক প্রস্তুতি হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হচ্ছে।
তেহরান বারবার স্পষ্ট করেছে যে তারা সংঘাত বাড়াতে চায় না। তবে কোনো বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ও কঠোর জবাব দিতে তারা কখনোই দ্বিধা করবে না।
সিনেটর ওয়ার্নারের এই কঠোর সতর্কবার্তা আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে যে বিষয়টি বলে আসছেন, তা নিশ্চিত করে: পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের একতরফা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ইরানের দৃঢ় সার্বভৌম বাস্তবতার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতবিরোধ ক্রমশ তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অসহনীয় হয়ে উঠছে। ফলে এমন একটি যুদ্ধের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের বিকল্প ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে—যে যুদ্ধকে তারা না ন্যায্যতা দিতে পারছে, না দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য রাখছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন