নিখোঁজ সাংবাদিক কাজল বেনাপোল থেকে উদ্ধার, ভারত থেকে অনুপ্রবেশের মামলা
-
শফিকুল ইসলাম কাজল
ঢাকা থেকে নিখোঁজ ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে বেনাপালের সাদীপুর সীমান্তবর্তী একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)। তার বিরুদ্ধে ভারত থেকে অনুপ্রবেশের মামলা করা হয়েছে। তবে তিনি কবে, কিভাবে ভারত গিয়েছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা জানাতে পারেননি।
গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাত ৩টায় উদ্ধার হওয়ার পর তাঁর ছেলে মনোরম পলকের সঙ্গে প্রথম কথা বলেন কাজল। আশেক আলী বলেন, ‘সাংবাদিক কাজলকে গতকাল রাতে টহল দলের বিজিবি সদস্যরা সাদীপুর সীমান্তের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করেন। বিজিবি পরে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে তাঁকে সোপর্দ করে। কাজলের পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে রাতেই তাঁকে নিতে বেনাপোলের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। কাজলের সঙ্গে তাঁর ছেলের কথা হয়েছে।’
যশোর ৪৯ বিজিবির রঘুনাথপুর ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী বলেন, শফিকুল গতকাল রাতে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে দেশে ফিরছিলেন। রাত পৌনে একটার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক শূন্যরেখায় আসেন। এ সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাকে বেনাপোল বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
বেনাপোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, ‘সাংবাদিক কাজলকে বিজিবি আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ এনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৫। বিজিবির বক্তব্য, তাঁকে সীমান্ত পিলারের ১০০ গজের ভেতর থেকে আটক করা হয়েছে। সে জন্য বিজিবি ভেবেছে, তিনি ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছেন।’
মামুন খান বলেন, ‘আমরা কাজলকে সিজেএম কোর্টে পাঠাব। তারপর কোর্ট জামিন দিয়ে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন নাকি জেলে দেবেন, সেটা কোর্টের সিদ্ধান্ত।'

গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার নিজ কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পরপরই নিখোঁজ হন কাজল। কোনো সন্ধান না পেয়ে ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তাঁর স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী নয়ন। ১৩ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শফিকুল ইসলাম কাজলকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় তাঁর পরিবার।
সাংবাদিক কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর সন্ধানের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিক সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।
ফটোসাংবাদিকতার পাশাপাশি ‘পক্ষকাল’ ম্যাগাজিনের সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছিলেন শফিকুল ইসলাম কাজল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হাতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সেদিন বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে মোটরবাইকে শফিকুল ইসলাম কাজল রাজধানীর হাতিরপুলে মেহের টাওয়ারে তার অফিসে পৌঁছান। এরপর বাইকটির আশপাশে বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।
বিকাল ৫টা ৫৯ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটের মধ্যে তিনজন ব্যক্তি আলাদা আলাদাভাবে মোটরবাইকটির কাছে যায় এবং অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। এরপর ৬টা ১৯ মিনিটে কাজলকে অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে অফিস থেকে বের হয়ে নিজের বাইকের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পরে তিনি ফিরে আসেন এবং সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে একা বাইকে চড়ে চলে যান।
তারপর থেকেই কাজলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, একটি মহল তার পেশাগত কাজে ক্ষুব্ধ ছিলেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে মামলাও করা হয়।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।