ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার ডিএসই পরিচালক ইমন ও রাষ্ট্রচিন্তা’র দিদারুল কারাগারে
-
মিনহাজ মান্নান ইমন ও দিদারুল ভুইয়া
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র্যাবের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত ঢাকার পুঁজিবাজারের শীর্ষ স্থানীয় একটি ব্রোকারেস হাউজের কর্ণধার মিনহাজ মান্নান ইমনকে (৫২) ও অনলাইন পোর্টাল ‘রাষ্ট্রচিন্তা’র ঢাকা সমন্বয়ক দিদারুল ভুইয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) তাদের রাজধানীতে গ্রেপ্তারের পর রমনা থানায় সোপর্দ করে র্যাব। আজ তাদেরকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই থানার উপপরিদর্শক জামশেদুল ইসলাম। অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সাধারণ ছুটির পর আদালতে তাদের রিমান্ড শুনানি পুর্ণাঙ্গভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
একই মামলায় এর আগে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় এবং পরদিন এ দু’জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ফেসবুক ব্যবহার করে জাতিরজনক, মুক্তিযুদ্ধ, করোনাভাইরাস মহামারী সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র/সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিপ্রায়ে অপপ্রচার বা বিভ্রান্তি ছড়ানো, অস্থিরতা-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে, তার মধ্যে জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, সুইডেনে থাকা সাংবাদিক তাসনিম খলিলও রয়েছেন।

সাতক্ষীরায় মানববন্ধন
গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার প্রতিবাদে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে সাতক্ষীরা জেলা শহরের শহীদ স ম আলাউদ্দিন চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন ফটোসাংবাদিক ও ‘দৈনিক পক্ষকাল’ এর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে 'অপহরণের' ৫৩ দিন পর যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে আরও তিনটি মামলা আছে বলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এবং পিছমোড়া করে হাতকড়া পরানো খুবই উদ্বেগের বিষয় এবং মানবাধিকার পরিপন্থী।
সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, সারাদেশে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের হয়রানির পাশাপাশি গ্রেফতার করা হচ্ছে। যা স্বাধীন গণমাধ্যমের অন্তরায়।
শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে উদ্ধার ও মুক্তি চেয়ে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক-সাংবাদিকরা সোচ্চার রয়েছেন।
ব্যর্থতা ঢাকতে ডিজিটাল আইনের খড়গ: বাম জোট
করোনাভাইরাস সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ঢাল হিসেবে নিয়ে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
ত্রাণ চুরির সংবাদের জের ধরে সম্প্রতি দুই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা এবং সরকারের সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপটে বুধবার এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করেছে বাম দলগুলো।
ত্রাণের চাল চুরির ঘটনার জেরে সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী এবং জাগো নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ঠাকুরগাঁওয়ের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা।
অনলাইনে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করে মঙ্গলবার র্যাব গ্রেপ্তার করে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর, অনলাইন জার্নালভিত্তিক সংগঠক দিদারুল ভূইয়া, ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকে।
বাম জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, “সরকারের ক্রমবর্ধমান ব্যর্থতা ও ত্রাণ চুরির খবর ঢেকে রাখতেই নাগরিকদের মুক্ত চিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরতে কুখ্যাত নিবর্তনমূলক আইন ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখক ও নাগরিকদের হয়রানি, গ্রেপ্তার ও অপহরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। নির্যাতন, নিপীড়ন, মিথ্যা মামলা ও কালো আইন প্রয়োগ, অপহরণ করে ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যাবে না। এতে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ যেমন মানছে না, তেমনি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কাজের সমন্বয়হীনতা এবং দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের ফলে দেশে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ক্রমাগত বেড়ে চলছে।
“গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী ৫৪ জন জনপ্রতিনিধিকে ত্রাণ চুরির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, এদের প্রায় সকলেই সরকারদলীয় লোক।”
বাম জোট অবিলম্বে দিদারুল ভূঁইয়া, কার্টুনিস্ট কিশোর, লেখক মুশতাক, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৭
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।