করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করছে: মির্জা ফখরুল
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i80162-করোনাভাইরাস_মোকাবেলায়_সরকার_দায়িত্বজ্ঞানহীন_কাজ_করছে_মির্জা_ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের চরম সমন্বয়হীনতা রয়েছে এবং সরকার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
মে ২৫, ২০২০ ১০:৫৪ Asia/Dhaka
  • মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের চরম সমন্বয়হীনতা রয়েছে এবং সরকার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

আজ (সোমবার) ঈদুল ফিতরের দিন সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অভিযোগ করেন। এরআগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা শহীদ জিয়ার মাজার জিয়ারত ও দেশবাসীর জন্য বিশেষ মুনাজাত করেন।

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে করোনাভাইরাস গোটা বিশ্ব ব্যবস্থা ওলট-পালট করে দিয়েছে। বাংলাদেশেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ লকডাউন না করে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে মানুষ ছুটি ভোগ করছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে চরম অসামঞ্জস্যতা দেখা যাচ্ছে। তারা দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করছে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা আজকে আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করতে এসেছি। তার রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করেছি। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য সুস্থতা কামনায় মুনাজাত করেছি। আমরা প্রতিবছর আমাদের দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাথে নিয়ে মাজার জিয়ারত করতাম। কিন্তু তাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি রাখা হয়। সম্প্রতি তাকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জামিন দিয়েছে। আমি মনে করি এটা তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। তাকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া উচিত।“

এ সময় মির্জা ফখরুল লেন,  সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশর্ত মুক্তি না দিয়ে শর্তসাপেক্ষে মাত্র ছয় মাসের জামিন দেয়া হয়েছে। এটা একেবারে অন্যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগে যেমন ছিল তেমনি আছেন। স্টেবল আছেন। এসময় রাজনৈতিক বিবেচনায় কারাবন্দী সকলের মুক্তি দাবি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন মির্জা ফখরুল।

খালেদা জিয়া

সন্ধ্যায় নেত্রীর সাথে সাক্ষাৎ

‌এদিকে, সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় নেতাদের যাওয়ার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুভেচ্ছা বিনিময়পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ২৫ মার্চ থেকে শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন। এরপর থেকে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই বেগম জিয়া নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখছেন। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েও করোনার কারণে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এবার ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না। আর তাই নেতাকর্মীরাও তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীকে কাছ থেকে এক নজর দেখে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারছে না। তাদের অপেক্ষার প্রহর আরো দীর্ঘ হচ্ছে।

জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন বিএনপি প্রধান। ভাইবোন তাদের পরিবারের সবাই কাছে থাকলেও দূরে রয়েছেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, তারেকের স্ত্রী, ছোট ছেলে কেকো’র বৌ ও নাতনীরা। তবে ঈদের দিন স্কাইপিতে শুভেচ্ছা বিনিময়ে সবাই এক সাথে মিলিত হবেন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।