বাংলাদেশে করোনায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবি
বাংলাদেশে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩ হাজার ৪১২ জনের দেহে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন আরও ৪৩ জন। এ পর্যন্ত মারা গেছেন এক হাজার ৫৪৫ জন। আর সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ১৯৮ জনের।
আজ (মঙ্গলবার) বেলা আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের আয়োজন করা হয়। সেখানে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। এর আগে গতকাল সোমবার দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে ৩৮ জনের মৃত্যু এবং নতুন ৩ হাজার ৪৮০ জন শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
কোভিড-১৯ মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি প্রতিদিন ন্যূনতম ২০ হাজার নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিলেও গত কয়েকদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে নমুনা পরীক্ষার পরিমাণ পনের হাজারের ওপরে যেতে পারছে না। কিট সংকটের কারণে নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, ভোলাসহ একাধিক জেলার করোনা ল্যাবে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির অভিযোগ করেছে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় সংক্রমণের নানা উপসর্গ নিয়েই হাজার হাজার মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থায় সামাজিক সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনা সংক্রমণ যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমরা সতর্ক না হলে মাসে এক লক্ষের বেশী সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
নতুন ৫ জেলায় রেড জোন
এদিকে, কোভিড-১৯ রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকি বিবেচনায় আরও পাঁচ জেলার বিভিন্ন এলাকার রেড জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
জেলাগুলো হলো- ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও কুষ্টিয়া।
এর আগে করোনাভাইরাসের কারণে দেশজুড়ে রেড জোন ঘোষিত ১০টি জেলা- চট্টগ্রাম, বগুড়া, মৌলভীবাজার, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে রোববার এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
অধিক সংক্রমিত বলে চিহ্নিত ‘রেড জোন’-এ কঠোরভাবে লকডাউন পালনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবি
এদিকে, জাতীয় সংসদে বিএনপি’র সদস্য হারুনুর রশীদ আজ চলতি বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের করোনা পরিস্থিতিতে ব্যর্থতার দায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনা দু–তিন বছরেও যাবে না। তাহলে এই করোনা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। এটাকে মোকাবিলা করার জন্য জাতীয় ঐক্য দরকার।’
এ সময় সংসদে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সরকারের লোকজন, বিএমএ বলছে, করোনায় মৃত্যুর দায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। এই দুঃসময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি কোনো কোভিড হাসপাতাল ভিজিট করেছেন? ১০ দিন ধরে ফোন করে ও বার্তা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সাড়া মিলছে না। ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেন। কমিটমেন্ট আছে, এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেন।’
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যকর ভূমিকা পালনে অসমর্থ হবার কারনে স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামকে সম্প্রতি সরিয়ে দেয়া হয়েছে।#