নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহ প্রসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন: সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i81496-নিম্নমানের_মাস্ক_সরবরাহ_প্রসঙ্গে_তদন্ত_প্রতিবেদন_সংশ্লিষ্টদের_বিরুদ্ধে_আইনি_ব্যবস্থা_নেয়ার_আহ্বান
বাংলাদেশে নিম্নমানের এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ প্রসঙ্গে গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, এন-৯৫- এর নামে নিম্নমানের সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করা একটি ‘পরিকল্পিত প্রতারণা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ’। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই এবং মালামাল গ্রহণ, বিতরণ বা অন্য যেকোনোভাবে এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জুলাই ১৬, ২০২০ ১৫:২৫ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে নিম্নমানের এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহ প্রসঙ্গে গঠিত সরকারি তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, এন-৯৫- এর নামে নিম্নমানের সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করা একটি ‘পরিকল্পিত প্রতারণা ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ’। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে মাস্ক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেএমআই এবং মালামাল গ্রহণ, বিতরণ বা অন্য যেকোনোভাবে এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (ভাণ্ডার ও সরবরাহ) পরিচালক বরাবর চিঠি দিয়ে এ নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) এ বিষয়ে তদন্ত করছে। এ প্রসংগে জনস্বাস্থ্য সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম লালা রেডিও তেহরানকে বলেন সরকারী হাসপাতালে নিম্নমানের সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স  ও সেবাকর্মীদের জীবন বিপন্ন  করা হয়েছে। প্রচুর সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মী ইতোমধ্যে মৃত্যু বরণ করেছেন। এ রকম অপরাধকে “হত্যা বা হত্যা চেষ্টা”  বলে বিবেচনা করে সেভাবেই অপরাধীদের শাস্তি  নিশ্চিত করতে হবে ।

এদিকে, বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি ও অপরাধমূলক অবহেলার তীব্র সমালোচনা করেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি করেন।   

স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির সার্বিক বিষয় তদন্ত করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে ডাক্তার ফায়েজুল হাকিম বলেছেন, দুর্নীতির সর্বগ্রাসী সংক্রমণ থেকে সমাজ ও  দেশকে রক্ষা করতে হলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য এমন একটি গণতান্ত্রিক সরকার  প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে  কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে তা পর্যায়ক্রমে তৃণমূলে ছড়িয়ে যাবে। অনিয়মের আবর্তে থাকা অন্যান্য খাতেও অভিযান চলবে।

বৃহস্প‌তিবার রাজধানীতে সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও কনফারেন্সে ওবায়দুল কাদের বলেন, কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নন। দলীয় পরিচয় দিয়ে অনিয়ম ঢাকা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের মনের ভাষা বোঝেন। তার কাছে কোনো অপরাধীর ছাড় নেই।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য মাস্কসহ বিশেষ সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহ করে  আসছে সরকার। আর জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড নামের দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান ওই সব মাস্ক সরকারকে সরবরাহ করেছিল। দেশের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে সরবরাহকৃত এ নকল ‘এন-৯৫’ মাস্কের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সংশ্লিষ্ট  কিছু চিকিৎসক। এরপর বিষয়টি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের অনুরোধে জেএমআই দুই চালানে ২০ হাজার ৬০০টি এন-৯৫ নামের ফেস মাস্ক সরবরাহ করে। তদন্তে দেখা গেছে, সরবরাহ করা পণ্যের মান ঠিক হয়নি, তাদের পণ্য তৈরির অনুমোদন প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি, পণ্য তৈরির জন্য বৈধভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়নি। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী পণ্যটি (কথিত এন-৯৫ মাস্ক) গবেষণা ও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। এন-৯৫ মাস্কের বৈধ উৎপাদনকারী বা আমদানিকারক না হয়েও সুদৃশ্য মোড়কে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে এসব মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। এটিকে কোনোভাবেই ভুল হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। মাস্কগুলো ব্যবহৃত হলে কোভিড-১৯ সংক্রমণকালে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা ছিল। ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত প্রতারণা এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে প্রতীয়মান হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের মিল না থাকার বিষয়টি জেনেও তা গ্রহণ এবং বিতরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশে এন-৯৫ মাস্ক তৈরি হয় না। জেএমআই যে মাস্ক সরবরাহ করেছিল, সেগুলোর মোড়কে এন-৯৫ লেখা ছিল এবং তাদের কারখানার ঠিকানা দেওয়া ছিল মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায়।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে নিম্নমানের মাস্ক সরবরাহ পেয়ে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন এগুলো আসল এন-৯৫ মাস্ক কি না। এর কিছুদিন পর তাঁকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/১৬