সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি ডা. আজাদের পদত্যাগ
-
ডা. আবুল কালাম আজাদ
বাংলাদেশে করোনা মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।
মঙ্গলবার জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুনের দপ্তরে তিনি নিজে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল মান্নান।
জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন বলেন, “আমি বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কোনো পদত্যাগপত্র পাইনি। এরপর (বিকাল ৫টার পর) তিনি যদি পদত্যাগপত্র দিয়ে থাকেন, সেটা হয়ত গোপনীয় খামে দিয়েছেন, কাল (বুধবার) অফিসে গিয়ে সেটা যদি পাই তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদত্যাগপত্র হাতে পাওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে জানিয়ে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, সেখান থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর তার নিয়োগের অবসান করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটায় নানা অনিয়ম নিয়ে এর আগে কথা উঠলেও তাতে সমস্যায় পড়তে হয়নি আবুল কালাম আজাদকে। কিন্তু গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একের পর এক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ পেলে বিপাকে পড়েন তিনি।
শুরুটা হয়েছিল চিকিৎসকদের নিম্ন মানের মাস্ক সরবরাহ দিয়ে। এরপর রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর তোপের মুখে পড়েন ডা. আজাদ।
এক পর্যায়ে তিনি রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের চুক্তির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিরোধে জড়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিসও দিয়েছিল।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও দুই-তিন বছর থাকবে বলে এক বক্তব্যের জন্যও মন্ত্রীদের তোপে পড়েছিলেন ডা. আজাদ। পরে তিনি দুঃখও প্রকাশ করেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।