দুই ডাক্তার গ্রেফতার
বরিশালে প্যাথলজি রিপোর্টে মৃত ডাক্তারের সই, চট্টগ্রামে ৭০ টাকার ইনজেকশন ২৫০০ টাকা
-
বরিশালে ‘দি সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামের ডায়াগস্টিক সেন্টারের দুই মালিক গ্রেফতার
বাংলাদেশের বরিশাল মহানগরীতে মৃত চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্যাথলজি রিপোর্ট তৈরি করায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা ও দুই মালিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডিতরা হলেন- সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেসের মালিক জসিম উদ্দিন মিলন, এ কে চৌধুরী ও চিকিৎসক নূর এ সরোয়ার সৈকত।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমান জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও র্যাব সদস্যদের নিয়ে বুধবার রাতে ‘দি সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস’ নামের ডায়াগস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দেখা যায় গাজী আমানুল্লাহ খান নামের এক চিকিৎসকের স্বাক্ষরে প্যাথলজি রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। অথচ ওই চিকিৎসক দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৯ জুলাই ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যান। এছাড়া কয়েকদিন আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক এমদাদুল্লাহ খানের নামও ডায়াগস্টিক সেন্টারের সাইনবোর্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, “এ ঘটনায় ডায়াগস্টিক সেন্টারের দুই মালিককে ৬ মাস করে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক নূর এ সরোয়ার সৈকত নিজেকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে জনগনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। এ অপরাধে তাকেও ৬ মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ডায়াগস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।”
৭০ টাকার ইনজেকশন আড়াই হাজার টাকা, ডাক্তার গ্রেফতার
এদিকে, রোগীদের নিজের কাছ থেকে অস্বাভাবিক বাড়তি দামে ইনজেকশন কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড মোড়ে সেইফল্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড রিচার্স সেন্টারের এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ওই চিকিৎসক রোগীকে ৭০ টাকার ইনজেকশন আড়াই হাজার টাকায় কিনতে বাধ্য করার প্রমাণ র্যাব পেয়েছে বলে জানিয়েছে। গ্রেফতার ডা. রবিউল আউয়াল (৪১) বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাইকড গ্রামের আহম্মেদ আলী মন্ডলের ছেলে।
র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারী পরিচালক এএসপি কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, রবিউল বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালের অধীনে আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়ে ‘চট্টগ্রাম বন্দর শ্রমিক সেবাকেন্দ্রে’ কর্মরত আছেন। রবিউল একজন অর্থোপেডিক বিষয়ের ডাক্তার। রোগীদের নিজের কাছ থেকে অস্বাভাবিক বাড়তি দামে তিনি ওষুধ কিনতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ পেয়ে আমরা তার চেম্বারে অভিযান চালাই। সেখানে একজন রোগীকে তার কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা দামে একটি ইনজেকশন কিনতে দেখি। বাজারমূল্য যাচাই করে দেখি, এর দাম মাত্র ৭০ টাকা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাড়তি দাম নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে আমরা তাকে গ্রেফতার করি। উনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।’
গ্রেফতার চিকিৎসকের চেম্বার থেকে চারটি সেনোলোন, চারটি টিটাভ্যাক্স, তিরটি ট্রাইলন, তিনটি ইমোসেফ, একটি করে ফেমাটোস ও কিডোফার, ৪৮টি ভিসারল ও ১৫টি অ্যালজিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছে বলে র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

করোনার ভুয়া প্রতিষেধক তৈরি, হোমিও চিকিৎসক আটক
অন্যদিকে নগরের কর্নেলহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে করোনা প্রতিষেধক বিক্রির নামে প্রতারণা করার অভিযোগে বিশ্বজিৎ আচার্য নামে এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসককে আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব ৭)।
বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। তিনি কর্নেলহাট এলাকায় একটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসালয় পরিচালনা করেন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।