যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩ কিশোর হত্যা: ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের সুপারিশ
বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির প্রধান সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) ও যুগ্মসচিব সৈয়দ মো. নূরুল বাসির জানিয়েছেন,কমিটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে জমা দিয়েছে। পরে সেখান থেকে রিপোর্ট সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যাবে।
গত ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে নির্মম পিটুনিতে তিন কিশোর নিহত হয়। আহত হয় ১৫ জন। প্রথম দিকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শিশু-কিশোরদের দুই পক্ষের মারামারি বলে প্রচার করে। কিন্তু পরে তদন্তে উঠে আসতে থাকে কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের নির্দেশে পিটুনিতেই এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ আল মাসুদসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ওই পাঁচ কর্মকর্তাকেই সমাজসেবা অধিদপ্তর সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও অপরাধী খুনিদের বিচারের দাবিতে গতকাল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে যশোর শহরে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারের তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জগন্নাথ বিশ্বিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক শ্যামলী শীল রেডিও তেহরানকে বলেন,কেবল ব্যবস্থাপনা বদলালেই হবে না শিশুকেন্দ্রে আশ্রিতদের সংশোধনের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে এবং তাদের প্রতি আচরণেও মানবিক হতে হবে।
উল্লেখ্য,বিভিন্ন অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিচারাধীন এবং আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ১৮ বছরের কম বয়সীদের সাধারণ কারাগারের পরিবর্তে এ কেন্দ্রে রাখা হয়। যশোরের এ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বর্তমানে আড়াইশ’র মতো কিশোর অবস্থান করছে। এখানে শিক্ষা,প্রশিক্ষণ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তাদের মানসিক উন্নয়ন ঘটানোর কথা।
এদিকে এ ঘটনায় মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত শেষ করতে আরো সাতদিন সময় পেয়েছে। তিন কিশোর নিহতের ঘটনায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের পাঁচ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এ কমিটির পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আদালতের নির্দেশনা এখনও না পাওয়ায় তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শেষ করার জন্য বুধবার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে।
আজ বৃহম্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে এ তদন্ত কমিটির মেয়াদ আরো সাতদিন বাড়ানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কমিটির প্রধান যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল লাইছ। এর আগে এ কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২০