বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড: ৬ মাসে শেষ করতে হবে বিচার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i83787-বাংলাদেশে_ধর্ষণের_সর্বোচ্চ_শাস্তি_মৃত্যুদণ্ড_৬_মাসে_শেষ_করতে_হবে_বিচার
ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত ‘নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা। আজ (সোমবার) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ১২, ২০২০ ০৮:৪১ Asia/Dhaka
  • ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন
    ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংশোধিত ‘নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইন, ২০০০’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা। আজ (সোমবার) মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, ‘আগামীকাল এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। অর্থাৎ কাল থেকে এটি আইনে পরিণত হবে। এর আগে এটির আইনি যাচাই (ভেটিং) হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, 'বিদ্যমান আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন আছে। সেটিকে এখন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন করা হয়েছে।'

এই মুহূর্তে জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি এটিকে অধ্যাদেশ আকারে জারি করবেন বলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

এর আগে আজ সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শুরু হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় অংশ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। 

৬ মাসে শেষ করতে হবে ধর্ষণের বিচার

বৈঠকের পর সচিবালয়ে সীমিত আকারে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘এটি ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত আছে। তদন্ত বিচার পদ্ধতি সবকিছুই এর মধ্যে উল্লেখ রয়েছে। নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল এটি করবে এবং শেষ করতে হবে ১৮০ দিনের মধ্যে। বিচারক যদি কোনও কারণে বদলি হয়ে যান সেক্ষেত্রেও বিলম্ব হয় অনেক সময়।  তবে কোনও বিচারক চলে গেলে তিনি মামলা যে অবস্থায় রেখে যাবেন সে অবস্থা থেকে মামলা চালিয়ে যেতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, গত কিছু দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০০০’ -এর খসড়া অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। আইনের ৯(১) ধারায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছিলে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ প্রতিরোধে এই ধারায় ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন  সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছিল। এতে প্রধানমন্ত্রীসহ সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। তবে যেহেতু এখন সংসদের অধিবেশন নেই এবং আশু ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে, তাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে অধ্যাদেশ করতে পারবেন। ভেটিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে ফাইনাল কার্যকর হয়ে যাবে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৭৫টি ধর্ষণের অভিযোগ এসেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে শতাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই ৭০টির বেশি ধর্ষণের খবর ছেপেছে দেশের শীর্ষ স্থানীয় এক দৈনিক।

সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ-ধিক্কার জানায় হাজার হাজার মানুষ। টানা প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে রাজপথে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দিচ্ছেন এসব কর্মসূচিতে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া জানান অসংখ্য মানুষ। কেউ কেউ ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানান।# 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।