ধর্ষণকারীকে ক্রসফায়ারে দেয়ার ইঙ্গিত পুলিশ কর্মকর্তার: ফেনীতে ধর্ষণবিরোধী লংমার্চে হামলা
দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের উদ্যোগে ৬,৯১২ টি বিট পুলিশিং এলাকায় এলাকায় আজ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৫০টি থানার ৩০২টি বিট পুলিশিং এলাকায় একযোগে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১ টায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ডিএমপির সকল বিট এলাকায় একযোগে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিট পুলিশিং এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এ রকম এক সমাবেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন উপকমিশনার ধর্ষণকারীকে বিনা বিচারেই সর্বোচ্চ শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে এক জেলায় এসপি থাকা অবস্থায় এরকম একটি ঘটনায় এক যুবককে 'পরপারে' পাঠিয়ে দেবার উদাহরণও উল্লেখ করেন সগর্বে।
ওদিকে, 'ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ' শীর্ষক ব্যানারে আয়োজিত লংমার্চকারীদের ওপর পুলিশের উপস্থিতিতে ফেনীতে হামলা চালিয়েছে সরকারী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তিন সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ফেনী শহরের শান্তি কোম্পানি মোড় এলাকায় এই হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণজাগরণ তৈরির লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে রাজধানী থেকে নোয়াখালীর পথে এই লংমার্চ শুরু হয়। নোয়াখালিতে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের পর সারা দেশে নিন্দার ঝড় বইছে সেই নোয়াখালী শহরে শনিবার বিকেলে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এই কর্মসূচি। বাম ছাত্র সংগঠনগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও নারী সংগঠন এতে যোগ দিয়েছে।
ফেনীতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে লংমার্চে থাকা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি আল কাদরি জয় বলেন, ফেনীতে সমাবেশ শেষে নোয়াখালী রওনা দিতে বাসে ওঠার সময় লাঠিসোঁটা ইট নিয়ে এই হামলা হয়। আহতদের মধ্যে হৃদয়, আনিকা, ইমা নামে তিনজনের নাম জানা গেছে।
হামলাকারীরা স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে স্থানীয়দের বরাতে অভিযোগ করেন জয়। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কারও বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচিতে আংশগ্রহণকারী ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল জানিয়েছেন, এ হামলায় লংমার্চের প্রায় ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ এ সময় নিশ্চুপ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ব্যাপারে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ঘটনার পর লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের নোয়াখালী পাঠানো হয়েছে।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/আশরাফুর রহমান/১৭