সুষম খাদ্য গ্রহণ না করায় পুষ্টি-স্বল্পতা
পুষ্টি-স্বল্পতায় বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরা খর্বাকৃতির হচ্ছে
পুষ্টি-স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীরা খর্বাকৃতির হয়ে পড়ছে।বয়সের তুলনায় কম ওজন ও কম উচ্চতা নিয়ে বেড়ে উঠছে। এটা যুব-সমাজের কর্মক্ষমতা ও প্রজনন ক্ষমতাকে হ্রাস করে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা সাময়িকী দ্য ল্যানসেট জানিয়েছে, বিশ্বের যে দশটি দেশের কিশোর-কিশোরীদের গড় উচ্চতা এবং গড় ওজন সবচেয়ে কম সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।
২০১৯ সালে দু’শ দেশের ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী সাড়ে ছয় কোটি অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। এ গবেষণা অনুযায়ী নেদারল্যান্ডস, মন্টিনেগ্রো, ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ডের ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা সবচেয়ে দীর্ঘদেহী।
নেদারল্যান্ডসের ১৯ বছর বয়সী ছেলেদের উচ্চতা যেখানে গড়ে ১৮৩.৮ সেন্টিমিটার, সেখানে বাংলাদেশী ছেলেদের গড় উচ্চতা ১৬৫.১ সেন্টিমিটার। অনুরূপভাবে নেদারল্যান্ডসের ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের গড় উচ্চতা যেখানে ১৭০.৪ সেন্টিমিটার, সেখানে বাংলাদেশে সে বয়সের মেয়েদের গড় উচ্চতা ১৫২.৪ সেন্টিমিটার।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারতের ১৯ বছর বয়সী যুবক-যুবতীদের গড় ওজন নিউজিল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রের সে বয়সীদের চেয়ে প্রায় ২৫ কেজি কম।
গবেষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবন-যাপনের ঘাটতির ফলে উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে খর্বাকৃতি ও কম ওজন দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মিসেস খালেদা এবিদ রেডিও তেহরানকে বলেন, উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের শারীরিক চাহিদার তুলনায় সুষম খাদ্য গ্রহণ না করার ফলে পুষ্টি-স্বল্পতা দেখা যায়। ফলে তাদের শারীরিক গঠন ঠিকমত হয় না। দারিদ্র ও পরিবেশগত কারণ ছাড়াও প্রোটিন বা ক্যালরি কম গ্রহণ করার প্রবণতা বা মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যেমন ভিটামিন এ,আয়োডিন,আয়রন ইত্যাদি খাদ্য উপাদান বিশিষ্ট মাছ মাংস, ডিম,দুধ, শাক-সবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ না করা থেকে বিরত থাকলেও শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধি ব্যহত হয়। ফলে তা যুবক-যুবতীদের পরবর্তী জীবনে কর্মক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে। তাছাড়া, এরকম দুর্বল ও খর্বাকৃতির মেয়েদের বিবাহ পরবর্তী জীবনে সুস্থ ও স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে, বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক হেলথ অ্যান্ড সার্ভের (বিডিএইচএস) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের ২৫ শতাংশ কিশোর-কিশোরী অপুষ্টি ও রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। এই সমীক্ষায় দেখা যায়, কিশোরীর উচ্চতা ন্যূনতম ১৪৫ সেন্টিমিটার হওয়া উচিত। কিন্তু এই হার ১৩ শতাংশের কম। আর কিশোরদের উচ্চতা হওয়া উচিত ১৫০-১৫৫ সেন্টিমিটার। সেটাও অনেক কম। আবার বডি মাস ইনডেক্স (বিএমডি) অনুযায়ী বাংলাদেশে ২৫ শতাংশ কিশোরীর ওজন নির্ধারিত মানের চেয়ে নিচে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, গত ৩৫ বছরে উচ্চতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী অগ্রগতি করেছে চীন। এসময়ে চীনাদের গড় উচ্চতা বেড়েছে ৮ সেন্টিমিটার। বর্তমানে চীনের ১৯ বছর বয়সীদের গড় উচ্চতা ১৭৫.৭ সেন্টিমিটার। ১৯৮৫ সালে তা ছিল ১৬৭.৮ সেন্টিমিটার।#
পার্সটুডে/এআরকে/৮