ঢাকা টেস্টেও হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ
ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন মেহেদী হাসান মিরাজ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুললেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ১৭ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এর ফলে দুই ম্যাচের টেস্টে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে মুমিনুল হকের দল। এর আগে চট্টগ্রাম টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে নিশ্চিত জয়ের ম্যাচে হেরে যায় বাংলাদেশ।
আগের দিনের করা ৪১/৩ রান নিয়ে রোববার চতুর্থ দিনে মিরপুর শেরেবাংলায় ব্যাটিংয়ে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ৫০ রানে আউট হন আগের দিনের নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে খেলতে নামা জোমাল ওয়ারিক্যান। এরপর ২৩ রানের ব্যবধানে ফেরেন কাইল মেয়ার্স ও জার্মেইন ব্লাকউড।
সপ্তম উইকেটে জসুয়া ডি সিলভাকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ রানের জুটি গড়েন এনকেরুমা বোনার। ৬ উইকেটে ১০৪ রান করা উইন্ডিজ এরপর মাত্র ১৩ রানের ব্যবধানে হারায় ৪ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে ৪০৯ রান করা উইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট ১১৭ রানে। বাংলাদেশ দলের হয়ে তিন স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৪, নাইম হাসান ৩ আর মেহেদী হাসান মিরাজ নেন এক উইকেট। দুই উইকেট শিকার করেন পেসার আবু জায়েদ রাহী।

২৩১ রানের জয়ের টার্গেটে খেলতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৯ রান করা বাংলাদেশ এরপর ৫৬ রানের ব্যবধানে সৌম্য সরকার, তামিম ইকবাল, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুনের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায়।
ষষ্ঠ উইকেটে লিটন দাসকে সঙ্গে নিয়ে ৩২ রানের ছোট জুটি গড়েন অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ। এরপর আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়। ৫ উইকেটে ১৪৭ রান করা বাংলাদেশ এরপর মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে হারায় মুমিনুল, লিটন ও তাইজুল ইসলামের উইকেট।
দলের পরাজয় এড়াতে শেষদিকে একাই চেষ্টা করে যান মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারেননি নাইম হাসান ও আবু জায়েদ রাহীরা। দলীয় ১৮৮ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন নাইম হাসান।
জয়ের জন্য শেষ উইকেটে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। শেষ ব্যাটসম্যান আবু জায়েদ রাহীকে নিয়ে ২৫ রান করতে তুলতে সক্ষম হন মিরাজ। তবে দলীয় ২১৩ রানে স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়ে মিরাজ আউট হলে তীরে গিয়ে তরী ডুবে বাংলাদেশের। হেরে যায় ১৭ রানে।
রাকিম কর্নওয়াল এই ইনিংসে নিয়েছেন ৪ উইকেট। তিনটি নিয়েছেন জোমেল ওয়ারিকান, ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট।
দুই ইনিংসে নয় উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন রাকিম কর্নওয়াল। অন্যদিকে ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সের কারণে সিরিজ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন এনক্রুমাহ বনার।
বেশ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড় ছাড়াই বাংলাদেশ সফরের আসা অনভিজ্ঞ ক্যারিবীয় দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়। তবে টেস্টে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় ছিনিয়ে নেয় তারা।। দলটির বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের প্রথম টেস্ট অভিজ্ঞতাই হয়েছে এই সফরে। আর বাংলাদেশের জন্য দুই বা তার বেশি ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১৫তম হোয়াইটওয়াশ, যা যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। এর আগে সর্বশেষ ২০১২-১৩ মৌসুমেও এই উইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।