খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হলেও সুস্থ আছেন: জানালেন ফখরুল
-
বেগম খালেদা জিয়া
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া করোনায় আক্রান্ত হলেও তিনি ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। এমনকি তাঁর তেমন কোনো উপসর্গও নেই।
আজ (রোববার) বিকেল সাড়ে ৪টার পর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। খালেদা জিয়ার আক্রান্তের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদফতর নিশ্চিত করলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গতকাল তার নমুনা নেওয়া হয়। আজ (রোববার) রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দেশবাসীকে আহ্বান জানাব, তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করবেন। তিনি (খালেদা জিয়া) নিজেও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘এখন তাঁর (খালেদা জিয়া) সর্বশেষ যে পরিস্থিতি, প্রফেসর ডা, এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ব্যক্তিগত চিকিৎসক যাঁরা আছেন তাদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি এখন স্থিতিশীল আছেন, ভালো আছেন। তাঁর শরীরে তাপমাত্রা নেই। অন্য কোনো উপসর্গ নেই। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ যদি কোনো প্রয়োজন হয়, তখন সেই পরবর্তী ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও তাঁর ভাগনে ডা. মামুন বলেন, “শুধু খালেদা জিয়া নন, রাজধানী গুলশানের ‘ফিরোজা’ বাসভবনের যত বাসিন্দা আছেন, তারা সবাই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই বাসভবনে থেকে সবাই চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্য দু-একজনের উপসর্গ থাকলেও ম্যাডামের করোনার উপসর্গ নেই। ফলে আমাদের আপাতত চিন্তা, বাসায় রেখে তাঁকে চিকিৎসা করানো। তবে রাজধানীর একটি হাসপাতালে আমরা কথা বলে রেখেছি। যদি কোনো ধরনের শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়, তাহলে আমরা হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর চিন্তা করব।’
আজ দুপুরেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হচ্ছিল, খালেদা জিয়া করোনা পজিটিভ। খালেদা জিয়ার করোনা পরীক্ষার একটি রিপোর্টের কপিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান রোববার দুপুরে বলেন, আমাদের কাছে যে রিপোর্ট এসেছে, তাতে উনার (খালেদা) করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।’ শনিবারই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
তখনো দল ও খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়। এই অবস্থার মধ্যেই সংবাদ সম্মেলনে এসে মির্জা ফখরুল বিষয়টি নিশ্চত করলেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালতের রায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। তারপর নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে শুরু হয় তাঁর কারাজীবন। একই বছরের ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ বছর বাড়িয়ে ১০ বছরের আদেশ দেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ।অন্যদিকে, ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
গত বছর সারা বিশ্বে মহামারি করোনা ছড়িয়ে পড়লে শর্তসাপেক্ষে সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে জামিন পান খালেদা জিয়া। প্রায় ২৫ মাস (কারাগার ও বিএসএমএমইউ'র প্রিজন সেল) কারাভোগের পর তিনি ২০২০ সালের ২৫ মার্চ মুক্ত হন। বিএসএমএমইউ প্রিজন সেল থেকে মুক্তির পর গুলশানে নিজের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।