করোনায় আরো ৪০ জনের মৃত্যু, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও দেশে চলে এসেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে আরও ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৬৭৫ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময়ে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২৭৯ জন।
এর আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয় ২৫ জনের। আগের দিন করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪৪১ জনের। এক দিনে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত দুই–ই বেড়েছে।
আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৬২৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১০ দশমিক ০৮ শতাংশ। দেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯২ হাজার ১৯৬ জন, মোট মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৪৪১ জনের। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ লাখ ৩২ হাজার ৮১০ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা অন্তত দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়।
এদিকে, বাংলাদেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ পেয়েছে । রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত সন্দেহে এ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত ব্যক্তি অন্যান্য রোগের পাশাপাশি মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, দেশে প্রথম ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাদের চিকিৎসা শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে একজন মারা গেলেন। যিনি মারা গেছেন, তার বয়স ছিল ৬৫ বছর। তার অনিয়ন্ত্রিত ডায়বেটিস, কিডনির সমস্যা ছিল। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সুস্থও হয়েছিলেন। চিকিৎসার সময় বোঝা যায়নি যে তিনি মিউকোরমাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর পর তিনি এ ফাঙ্গাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন এই ফাঙ্গাসে সংক্রমিত হয়েছে।
ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও দেশে চলে এসেছেঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এমপি বলেছেন, ভারতের নতুন ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও দেশে চলে এসেছে বলে জানা গেছে। করোনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধের পাশাপাশি এখন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসও আমাদেরকে মোকাবেলা করতে হবে। তবে এই মুহূর্তে খুব বেশি ভয়ের কারণ নেই। কারণ এখন পর্যন্ত ভাইরাসটি দেশে ছড়িয়ে পড়েনি। আগাম সতর্কতা হিসেবে দেশের
বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের প্রতিষেধক ঔষধ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে বলা হয়েছে এবং একই সাথে এই রোগের উপযুক্ত চিকিৎসায় করণীয় কি হবে সে ব্যাপারেও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিকিৎসা গবেষকরা বলছেন, সাধারণত করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মাঝেই দেখা গেছে এই ছত্রাকের উপস্থিতি। এ ছত্রাক সাইনাস, মস্তিষ্ক এবং ফুসফুসকেও আক্রান্ত করে। ডায়াবেটিস, ক্যানসার বা এইচআইভি/এইডস যাদের আছে, কিংবা কোনো রোগের কারণে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই কম এই মিউকোর থেকে তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। করোনাভাইরাসের জীবাণুর সাথে লড়াই করতে গিয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে, তখন এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে যেসব ক্ষতি হয় সেই ক্ষতি থামানোর জন্যও ডাক্তাররা কোভিডের চিকিৎসায় স্টেরয়েড ব্যবহার করেন। আর তা থেকেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বিস্তার লাভ করে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন গবেষকরা। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমিত রোগীদের সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তার মধ্যে রয়েছে : নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নাক থেকে রক্ত পড়া, চোখে ব্যথা এবং চোখ ফুলে যাওয়া, চোখের পাতা ঝুলে পড়া, চোখে ঝাপসা দেখা, যার থেকে পরে দৃষ্টিশক্তি চলে যায়, এবং নাকের চামড়ার চারপাশে কালো ছোপ ছোপ দাগ দেখা দেওয়া।
চিকিৎসকরা বলছেন, কোভিড-১৯’র রোগীর চিকিৎসার সময় এবং তার সুস্থ হয়ে ওঠার সময় যদি নিশ্চিত করা যায় তাকে সঠিক পরিমাণ স্টেরয়েড দেওয়া হচ্ছে কিনা তবেই এ ছত্রাক সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। এ জন্য রোগী সুস্থ হওয়ার পর বা হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পর তার রক্তে শর্করার মাত্রা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা জরুরি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/২৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।