করোনার মাঝেও ঢাকায় বসবে ১৯টি পশুর হাট
বাংলাদেশে চলমান “কঠোর লকডাউন” সত্বেও যখন মহামারী করোনার বিষ্ফোরণ ঠেকানো যাচ্ছেনা, তখন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার খোদ রাজধানীতে ১৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯টি হাট বসবে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী ১৭ থেকে ২১ জুলাই (ঈদের দিন) পর্যন্ত নগরীর ১৯টি অস্থায়ী হাটে পশু বিক্রি করা যাবে। এর বাইরে উত্তর সিটি এলাকায় গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট এবং দক্ষিণ সিটি এলাকায় সারুলিয়ার স্থায়ী পশুর হাটেও কোরবানির পশু বেচা–কেনা চলবে।
এদিকে আজ সোমবার দুপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার সারা দেশে কোরবানির পশু ক্রয়–বিক্রয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। বিক্রেতা ও ক্রেতাসাধারণকে কোরবানির পশু অনলাইনে ক্রয়–বিক্রয়ের অনুরোধ করা হচ্ছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে উত্তর সিটি এবারও ডিজিটাল পশুর হাট চালু রেখেছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাট বসানো হলেও অনলাইন হাটকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম ।
করোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম শহরে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর সুপারিশ করেছিল করোনা নিয়ন্ত্রণে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এ বছর এখন পর্যন্ত কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো সুপারিশ দেয়নি তারা। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কোরবানির পশুর হাটে শারীরিক উপস্থিতিতে না হয়ে অনলাইনে কেনাকাটার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এর আগে গতকাল রবিবার, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এ অবস্থায় চলমান কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রাখতে হবে। ঈদ ও কোরবানির পশুরহাট একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এটা সুনিয়ন্ত্রিতভাবে মোকাবিলা করতে চায় সরকার।
তিনি জানান, ডিজিটাল পশুরহাটের পাশাপাশি সারা দেশে স্বাভাবিক হাটও বসবে। হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবাইকে আসতে হবে। হাটের ৩টি পথ থাকবে। এর একটি দিয়ে পশুসহ বিক্রেতাগণ প্রবেশ করবে। একটি দিয়ে ক্রেতা প্রবেশ করবে এবং অপরটি দিয়ে ক্রেতা বের হয়ে যাবে।
চলমান বিধিনিষেধ বাড়ানোর প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতবার ঈদে গ্রামে এত সংক্রমণ ছিল না। এবার গ্রামে সংক্রমণ বেশি। তাই সবাইকে ঈদে গ্রামে যেতে নিরুৎসাহিত করা হবে। নিজেকে ও পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে আমাদের সবাইকে সর্বোচ্চ সর্তক থাকতে হবে। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার রাতে এ বিষয়ে বৈঠক হবে, তারপর জানানো হবে। সংক্রমণ কমানোর চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কঠোরতা থাকবেই। সংক্রমণ ৫ শতাংশের মধ্যে না আসা পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকবে। #
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।