বাংলাদেশে কারোর জন্ম ও মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
জন্ম ও মৃত্যুর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে নতুন আইন আসছে। বাংলাদেশে কারো জন্ম ও মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে সরকারী খাতায় তা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে সরকার নতুন আইন প্রবর্তন করতে যাচ্ছে।
আজ সোমবার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, নতুন আইনে সবাইকে জন্ম ও মৃত্যুর দেড় মাসের(৪৫ দিনের) মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। সরকারের উন্নয়ণ লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ ভাগ মানুষকে নিবন্ধনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সরকার এর আগেই সে লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায়।
এর আগে, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত প্রস্তাবে বলা হয়, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪ (সংশোধিত ২০১৩)’ এর ধারা ৮ অনুসারে শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন এবং কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু জন্ম নিবন্ধনের তুলনায় যথাসময়ে মৃত্যু নিবন্ধনের হার আশানুরূপ নয়। আগামীতে দেশের সকল নাগরিকের জন্য শুদ্ধ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে মৃত ব্যক্তির উত্তরসূরিদের মৃত্যু নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার অভাব।’
‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪’ এর ১৮ ধারার উপ-ধারা (৩) অনুসারে কয়েকটি ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু প্রমাণের জন্য মৃত্যু সনদ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ গুলো হচ্ছেঃ
(ক) সাকসেশন সার্টিফিকেট প্রাপ্তি,
(খ) পারিবারিক পেনশন প্রাপ্তি
(গ) মৃত ব্যক্তির লাইফ ইনস্যুরেন্সের দাবি,
(ঘ) নামজারি এবং জমাভাগ প্রাপ্তি।
এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি বছরের ৬ অক্টোবরকে “জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস” হিসেবে পালন করা হবে। আগে এ দিনটিকে শুধুমাত্র “জন্ম নিবন্ধন দিবস” হিসেবে পালন করা হতো। #
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।