বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা
রংপুরে হিন্দুপল্লীতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট: বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া এবং পুলিশ প্রশাসনে রদবদল
বাংলাদেশে গত পাঁচদিন ধরে চলমান সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক দোষারোপের মাঝে রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সহিংসতা ঘটে। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বলছেন, আশপাশের লোকজনের সঙ্গে আগুন দেওয়ার জন্য বাইরে থেকেও অনেকে এসেছিল। তাদের মধ্যে তরুণ ও যুবকদের সংখ্যা ছিল বেশি। প্রায় সবার হাতে ছিল লাঠি, রামদা, ছুরি। কারও কাছে ছিল কেরোসিন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের অনেকে এলাকায় পরিচিত মুখ। রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন উগ্র একটি গোষ্ঠী এ তাণ্ডব চালিয়েছে। ইতিমধ্যে ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।
সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে আবারো বিএনপিকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সারাদেশে তাণ্ডব করেছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গত ১২ বছরে দুর্গাপূজার হাজার হাজার মণ্ডপে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। অথচ এবার পরিকল্পিতভাবে এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় সারা বাংলাদেশে তাণ্ডব করেছে।’ একই রকম অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশে দেশকে অস্থিতিশীল করা ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হামলার জন্য পীরগঞ্জকে বেছে নেওয়া হয়েছে । উল্লেখ্য, রংপুরের পীরগঞ্জ জেলা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামী ডঃ ওয়াজেদ মিয়ার জন্মস্থান।
শাহবাগে অবরোধ
এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের বিচারের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেছেন রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধকারীরা। গতকাল ১০টা থেকে টানা ৫ ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধের পর দুপুর দুইটার দিকে তারা সাতদফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো- হামলার শিকার মন্দিরগুলো দ্রুত সংস্কার, বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লুটপাটের ক্ষতিপূরণ, ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচার, সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও কমিশন গঠন, হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা এবং জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘুদের জন্য ১৫ শতাংশ বরাদ্দ করা। এই সাত দফা না মানলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পুলিশ প্রশাশনে রদবদল
বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট জেলার সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে বদলি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বদলিসংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকারকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে উপপুলিশ কমিশনার এবং পুলিশ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরীকে রংপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। ফেনী জেলার পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরন্নবীকে পুলিশ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক পদে এবং পুলিশ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ফেনী জেলার পুলিশ সুপার পদে বদলি করা হয়েছে।
এ ছাড়া , চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার বিজয় বসাককে ঢাকা জেলার অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ সুপার, সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সঞ্জয় সরকারকে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির পুলিশ সুপার এবং পুলিশ অধিদপ্তরের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. সোহেল রানাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/ বাবুল আখতার/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।