পীরগঞ্জে হামলার 'অন্যতম হোতা ও সহযোগী' গ্রেফতার: ইকবালসহ ৪ জন রিমান্ডে
-
সৈকত মন্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলাম
রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু বসতিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার ‘অন্যতম হোতা’ সৈকত মন্ডল ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে টঙ্গী থেকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র্যাব।
আজ (শনিবার) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ গ্রেপ্তারের কথা জানান।
র্যাব দাবি করেছে, গ্রেফতারকৃত সৈকত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলে। এ ছাড়াও সে এই হামলা ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করে। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। গ্রেফতারকৃত সৈকত তার সহযোগী রবিউলকে মাইকিং করে লোকজন জড়ো করতে নির্দেশনা দিয়েছিল বলে জানায় র্যাব।
র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন জানান, গত ১৭ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্টকে কেন্দ্র করে রংপুরে পীরগঞ্জের বড় করিমপুর গ্রামে দুর্বৃত্তরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর, দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে রংপুরে পীরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা দায়ের হয়।
র্যাবের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টায় কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, ফেনী এবং রংপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় স্বার্থন্বেষী মহলের অপতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা করছে চক্রান্তকারীরা। এ সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাবের বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অভিযানে প্রায় ৩০ জনকে গ্রেফতার করে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ইকবাল ৭ দিনের রিমান্ডে
ওদিকে, কুমিল্লায় মন্দিরে পবিত্র কুরআন রেখে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্টির দায়ে আটক ইকবাল হোসেনসহ ৪ জনকে ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ অক্টোবর দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার কথা জানিয়ে ৯৯৯ কল করেন স্থানীয় ইকরাম হোসেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল আজীম পবিত্র কুরআন নিজের হাতে তুলে নেন। ওই ঘটনা মবাইলে ধারন করে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করেন স্থানীয় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী ফয়েজ আহমেদ। ওই সময় ওসি ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঘটনা সম্পর্কে জানাতে থাকলে ফয়েজ ওসির পরিচয় লাইভে দেন এবং কুরআন শরীফ অবমাননার কথা বলে প্রতিবাদ জানানোর কথা বলেন। এই ভিডিও বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার হয়। এর ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও হামলার ঘটনা ঘটে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।