রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি টিকে থাকবে কি না, সংশয় শেখ হাসিনার
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i99726-রাজনৈতিক_দল_হিসেবে_বিএনপি_টিকে_থাকবে_কি_না_সংশয়_শেখ_হাসিনার
ভবিষ্যতে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
নভেম্বর ০৮, ২০২১ ০৮:৫২ Asia/Dhaka
  • রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি টিকে থাকবে কি না, সংশয় শেখ হাসিনার

ভবিষ্যতে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৭ নভেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেলে লন্ডনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে তিনি এ সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অস্ত্র চোরাচালান ও দুর্নীতির পাশাপাশি হত্যা মামলায়ও সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে। কেবল আমাদেরই (সরকার) নয়, খালেদা জিয়ার ছেলেদের করা এই দুর্নীতি যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই’র করা তদন্তে উঠে এসেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই দলটির (বিএনপি) আজকে অবস্থা কী? আপনারা নিজেরা একটু বিবেচনা করে দেখুন। একটা রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে কে আছে? অস্ত্র স্মাগলিং কেসে সাজাপ্রাপ্ত, গ্রেনেড হামলা করে আইভী রহমানসহ ২২ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে সেই হত্যার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এতিমখানায় দেওয়ার জন্য টাকা পেল খালেদা জিয়া সেই টাকা এতিমদের না দিয়ে ভোগ করতে যেয়ে আজকে সেও সাজাপ্রাপ্ত। আর তার ছেলে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, ‘অস্ত্র চোরাচালান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামির নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক দল টিকে থাকবে কীভাবে?

লন্ডনে তারেক রহমানের আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই, কারণ তারা ক্ষমতাকে আনন্দের হাতিয়ার এবং লুটপাটের জায়গা হিসেবে বিবেচনা করে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় মানুষের পাশে থাকে এবং মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর বাংলাদেশের মানুষ অন্ধকারের যুগে নিমজ্জিত হয়েছিল। কিন্তু, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জনগণ সরকারের কাছ থেকে সেবা পেতে শুরু করে। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর তিনি দেশের চাকাকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে শুরু করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ ভিক্ষা করে বাঁচে না। আজ বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থায়ন আমাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে আসে। আমরা সে সক্ষমতা অর্জন করেছি’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির মামলায় জড়িয়েছে। আমি বিশ্বব্যাংকের কাছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলাম। তারা সেটা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। পদ্মা সেতুতে কোনো দুর্নীতি হয়নি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করে ভাগ্য গড়ার জন্য ক্ষমতায় আসে না। আমরা এখানে মানুষের ভাগ্য তৈরি করতে এসেছি, এটাই আমাদের লক্ষ্য। এবং আমরা সে লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সারা দেশে নির্মিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশিরা যাতে অন্যান্য দেশেও বিনিয়োগ করতে পারে, সেজন্য সরকার পথ প্রশস্ত করবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ।#

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।