দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ
https://parstoday.ir/bn/news/event-i161964-দিল্লিতে_সংবাদ_সম্মেলনে_শেখ_হাসিনাকে_কথা_বলার_অনুমতি_দেওয়ায়_ঢাকার_ক্ষোভ
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
(last modified 2026-08-05T18:31:18+00:00 )
আগস্ট ০৬, ২০২৬ ০০:২৪ Asia/Dhaka
  • দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে কথা বলার অনুমতি দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকীর দিনে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যাত্রার প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। এরপরেও ভারতের মাটিতে এ আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করছে।

আজ (বুধবার) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই অবস্থান তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও এর জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমন একটি দিন যখন বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করছে, সে সময় ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

শেখ হাসিনা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করাটা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তাঁর অপরাধের সহযোগীদের ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের ঘৃণ্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকার করেছে যে, আমাদের দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তাঁর মাফিয়া চক্রের আর কখনো বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্থান হবে না।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে একটি গঠনমূলক, উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশ বারবার অনুরোধ করলেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর বিপরীতে, যেকোনো অজুহাতে তাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার বিকালে দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

ছাত্র-জনতার ৩৬ দিনের তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।#  

পার্সটুডে/এমএআর/৫