ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন:
'মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন চলাকালে কৌশলগত সামরিক উৎপাদন তিনগুণ করেছে ইরান'
-
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ফাইল ছবি
পার্সটুডে: ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সময় কিছু কৌশলগত প্রতিরক্ষা পণ্য ও যুদ্ধের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল (শুক্রবার) টেলিভিশনে সম্প্রচারিত একটি বিশেষ সংবাদ অনুষ্ঠানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক ইরানের জাতীয় ও প্রতিরক্ষা শক্তি গঠনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিক বিভাগের দায়িত্ব, অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরেন।
তালায়ি-নিক ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে এমন একটি দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকামী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশি শক্তি মোকাবিলার একমাত্র উপায় হলো জাতীয় শক্তিকে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করা।
তিনি বলেছেন, ১৯৮০-এর দশকে ইরানের ওপর ইরাকি বাথ শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধের তুলনায় ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প বর্তমানে সুস্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সঙ্গে অতীতের সক্ষমতার কোনো তুলনাই হয় না।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিরক্ষা পণ্য উৎপাদনের গতি ও সক্ষমতা। যুদ্ধক্ষেত্রে যে হারে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়, একই গতিতে সেগুলো পুনরায় উৎপাদন করা হচ্ছে।
“অন্য কথায়, দেশীয়ভাবে তৈরি ইরানি অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করার পাশাপাশি একই সময়ে সেগুলোর উৎপাদনও অব্যাহত রয়েছে।”
তালায়ি-নিক বলেন, গত এক বছরে—গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত—দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ১২ দিনের যুদ্ধের পর এই বৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধির ঘটনা ইরানের জাতীয় ব্যবস্থার মধ্যে টেকসই উৎপাদন সক্ষমতার গুরুত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা, যার মধ্যে [মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড] ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী [বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু]ও রয়েছেন, নানা দাবি করলেও গত এক বছরে আমরা অস্ত্র, সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয়েছি।”
তিনি আরও জানান, যুদ্ধের সম্মুখভাগে প্রয়োজনীয় কিছু কৌশলগত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সামগ্রীর উৎপাদন যুদ্ধকালীন আগের উৎপাদন মাত্রার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তালায়ি-নিকের মতে, এই অর্জন ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার প্রচেষ্টায় শত্রুপক্ষের বারবার কৌশলগত ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ।
তিনি প্রতিরক্ষা উৎপাদনের অর্থনৈতিক দক্ষতাকেও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানে কিছু অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের খরচ বিদেশে তৈরি সমমানের পণ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্পের অর্থনৈতিক দক্ষতা এসেছে দেশীয়করণ, জ্ঞানভিত্তিক উৎপাদন এবং গোটা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে। আল্লাহর শুকরিয়া, সবাই এই উৎপাদন প্রচেষ্টায় অবদান রাখছে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসন শুরু করে। এর প্রায় আট মাস আগে তারা ইরানের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালিয়েছিল।
ইরান দ্রুত পাল্টা জবাব দেয় এবং দখলদার ইসরায়েল-অধিকৃত ভূখণ্ডের পাশাপাশি গোটা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
৭ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধের অবসান এবং মতপার্থক্য নিরসনে ৬০ দিনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেন।
তবে MoU স্বাক্ষরের কয়েক সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সন্ত্রাসী হামলা চালালে আবারও ইরান জবাব দেয়। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন