'পাক-সেনাপ্রধান ট্রাম্পের দূত হিসেবে ইরান সফর করেননি'
'মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখবে পাকিস্তান'
-
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি
পার্সটুডে: পাকিস্তান ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তেহরানের সাথে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে যে ইসলামাবাদ তেহরানের বিরুদ্ধে মার্কিন একতরফা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে না।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইসলামাবাদে বৃহস্পতিবার তার সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ সম্পর্কে ইরনার সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে এই মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেছেন, পাকিস্তান সব সময় একতরফা পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা মান্য করে না।
তিনি আরও বলেছেন, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক পরিণতি রয়েছে এবং পাকিস্তান আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সেগুলোকে স্বীকৃতি দেয় না।
পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বৃহত্তর দ্বন্দ্বের অংশ বলে বর্ণনা করেছেন এবং কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন।
আন্দ্রাবি পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাকিস্তানি কূটনীতিকের এইসব মন্তব্য এমন সময় এল যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোমবার তথাকথিত "অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট"-এর আওতায় ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ নিষেধাজ্ঞার নতুন পর্ব ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়েছে তেহরানের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখা যেকোনো দেশ বা সত্তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ের জরিমানা করা হবে।
এর আগে চীনও ইরানের সাথে বাণিজ্যে জড়িত দেশগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হুমকির বিরোধিতা করেছে। চীন বলেছে যে বেইজিং-তেহরান সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চলছে এবং এটি বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে যা করতে পারেনি তা অর্থনৈতিক জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে অর্জনের ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এই নতুন "অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ" অভিযান ঘোষণা করেন, তিনি একে অযৌক্তিকভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডি-ডে নরম্যান্ডি অবতরণের সাথে তুলনা করেছেন।
বেসেন্ট দাবি করেন যে এই পদক্ষেপগুলো সারা বিশ্বে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কগুলোকে টার্গেট করবে এবং সতর্ক করে দেন যে ওয়াশিংটনের নাগালের বাইরে কোনো অংশীদার নেই।
তিনি বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সাথে লেনদেনকারী সত্ত্বাগুলো চিহ্নিত করেছে এবং তাদের সম্পর্ক ছিন্ন করতে বা মার্কিন ডলার ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়ার মুখোমুখি হওয়ার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করবে।
হরমুজ প্রণালী সম্পর্কে গঠনমূলক ফলাফল সম্পর্কে পাকিস্তান আত্মবিশ্বাসী
হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি এবং এই কৌশলগত সাগর-পথ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আঞ্চলিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, আন্দ্রাবি বলেছেন যে ইসলামাবাদ আত্মবিশ্বাসী যে চলমান উদ্যোগগুলো শিগগিরই গঠনমূলক ফলাফল দেবে।
তবে, তিনি উল্লেখ করেন যে একটি সমাধান অর্জন শেষ পর্যন্ত ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভর করছে, কারণ তারা আলোচনায় জড়িত দুই পক্ষ।
ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এবং ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির অধীনে থামা অবৈধ মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্রানজিট সীমাবদ্ধ করেছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওমানের উপকূলের কাছে একটি অনিরাপদ করিডোর চালু করে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি চোকপয়েন্টের ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইরানের উপর আকাশপথে হামলা পুনরায় শুরু করে এবং নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা যুদ্ধ-বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
মার্কিন অবৈধ পদক্ষেপগুলোর কারণে ইরান সমস্ত জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান জোর দিয়ে বলে আসছে যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি পুনরায় খুলে দেয়াটা নির্ভর করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের অধীনে তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলে কিনা তার উপর।
'মুনিরের তেহরান সফর মার্কিন দূত হিসেবে নয়'
আন্দ্রাবি সোমবারে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফরের প্রকৃতি সম্পর্কে মিডিয়ার জল্পনা-কল্পনা প্রত্যাখ্যান করেন বলেন যে এই সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক শান্তি কূটনীতির কাঠামোর মধ্যে হয়েছে।
আন্দ্রাবি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন যে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত হিসেবে তেহরানে ভ্রমণ করেছিলেন এবং এই ধরনের জল্পনাকে ভুল বলে অভিহিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেছেন যে মুনির তেহরানে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে এই সফর আঞ্চলিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করতে ইসলামাবাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বা অঙ্গীকার তুলে ধরছে।
তিনি আরও বলেছেন যে পাকিস্তান তার ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ও অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং দাবি করেন যে তার দেশের সমস্ত প্রচেষ্টা ইরান-মার্কিন অচলাবস্থা সমাধান এবং শান্তির-কূটনীতি এগিয়ে নেয়ার উপর কেন্দ্রীভূত। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন