হিজবুল্লাহ 'বৃহত্তর ইসরাইল'-গড়া এবং লেবাননে এর সম্প্রসারণের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162616-হিজবুল্লাহ_'বৃহত্তর_ইসরাইল'_গড়া_এবং_লেবাননে_এর_সম্প্রসারণের_ষড়যন্ত্র_ব্যর্থ_করেছে
পার্সটুডে: বৈরুত থেকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের মহাসচিব বলেছেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা তথাকথিত 'বৃহত্তর ইসরাইল'-গড়ার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে সফল হয়েছে এবং লেবাননে ইসরাইলের সম্প্রসারণ বন্ধ করেছে।
(last modified 2026-08-29T07:32:55+00:00 )
আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৩:০৪ Asia/Dhaka
  • লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম ২৮ আগস্ট (২০২৬) রাতে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে ভাষণ দিচ্ছেন
    লেবাননের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাইম কাসেম ২৮ আগস্ট (২০২৬) রাতে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে ভাষণ দিচ্ছেন

পার্সটুডে: বৈরুত থেকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক ভাষণে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলনের মহাসচিব বলেছেন, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা তথাকথিত 'বৃহত্তর ইসরাইল'-গড়ার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে সফল হয়েছে এবং লেবাননে ইসরাইলের সম্প্রসারণ বন্ধ করেছে।

গতকাল (শুক্রবার) রাতে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী ও একই দিনে মহানবীর পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য ইমাম জাফর আস সাদিকের (আ) জন্মদিন এবং ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেয়া ভাষণে শেখ না্ঈম কাসেম বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের শাসক-চক্র পশ্চিম এশিয়ায় আধিপত্য বিস্তার ও এ অঞ্চলকে টুকরো টুকরো করার লক্ষ্যে একটি উচ্চাভিলাষী ষড়যন্ত্র তৈরি করছে।

তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন তার সামরিক সক্ষমতার সুযোগ নিয়ে এবং অঞ্চলে বিদ্যমান আত্মসমর্পণের মনোভাবের মধ্য দিয়ে 'বৃহত্তর ইসরাইল'-এর ষড়যন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করছে। তবে ইরান এবং সমগ্র অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তি এই ষড়যেন্ত্রর মোকাবিলা করছে।

শেখ কাসেম বলেন, ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন ও ইরাকে সংগ্রামী প্রতিরোধ অক্ষের ত্যাগ-তিতিক্ষা এই প্রকল্পকে থামিয়ে দিয়েছে এবং জোর দিয়ে বলেন যে দখলদার ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগ্রামের পথে ক্ষতির সম্মুখীন হলেও প্রতিরোধের অক্ষ মাথা তুলে টিকে রয়েছে।

হিজবুল্লাহ প্রধান বলেন, "আমরা মহান ত্যাগ স্বীকার করেছি, এবং আমরা হারব না। পরাজয় তখন আসে যখন আমরা আত্মসমর্পণ করি এবং স্বেচ্ছায় সব কিছু তাদের হাতে তুলে দিই, তাদের সবকিছু দখল করতে দেই ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সিরিয়ায় চলমান ঘটনাবলী 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রকল্পকে এগিয়ে নেয়ার পথে মার্কিন ও ইসরাইলি প্রচেষ্টার আরও প্রমাণ।

'বৃহত্তর ইসরাইল' শব্দটি ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ইসরাইল কর্তৃক দখলকৃত অঞ্চলগুলো বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে পূর্ব আল-কুদস, পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা, মিশরের সিনাই উপদ্বীপ এবং সিরিয়ার কৌশলগত গোলান মালভূমি।

প্রাথমিক ইহুদিবাদী তথা জায়নবাদী চিন্তাবিদরা, যেমন জি'ভ জাবোটিনস্কি—যিনি ব্যাপকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ দলের আদর্শগত পূর্বসূরি হিসেবে বিবেচিত—এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বর্তমান জর্ডানকে কথিত বৃহত্তম ইসরায়েল পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। 'বৃহত্তর ইসরাইল'-এর ধারণা লিকুদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের একটি মূল নীতি, যা রিভিশনিস্ট জায়নবাদের মধ্যে নিহিত।

শেখ কাসেম বলেন, "প্রতিরোধ শক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে অবিচল থাকবে এবং এই ধরনের ষড়যন্ত্র গোটা অঞ্চলে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করবে ।

তাঁর বক্তৃতার অন্য অংশে, হিজবুল্লাহ নেতা লেবাননের কর্তৃপক্ষের ইসরাইলের সাথে সরাসরি আলোচনায় জড়িত হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে এই আলোচনা ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তা এমন এক ছাড়ে পরিণত হয়েছে যা লেবাননের জন্য কিছুই বয়ে আনেনি।

"লেবানন সরকারের [ইসরাইলের সাথে] আলোচনা যুদ্ধ বন্ধ করেনি, বরং ইসরায়েলি আগ্রাসনকে বৈধতা দিয়েছে। এটি জায়নবাদী শত্রুর কাছে কোনো বিনিময় ছাড়াই অপমানজনক আত্মসমর্পণের সমতুল্য," তিনি বলেন।

শেখ কাসেম লেবাননের কর্মকর্তাদেরকে ইসরাইলের কাছে ছাড় দেয়ার কারণে এবং দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার দায়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

"তারা ক্ষমতায় থাকতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতে লেবাননের স্বার্থ বিপন্ন করতে ঝুঁকছে, যা ইসরাইলি অপরাধ ও নৃশংসতার সহযোগী।"

তিনি 'হিজবুল্লাহ উত্তেজনা চায়'—এই দাবিগুলোও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং জোর দেন যে লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন অক্টোবর ২০২৪-এর যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে।

"বর্তমান পরিস্থিতি বারবার চলতে-থাকা ইসরাইলি আগ্রাসনের কাঠামোর মধ্যে পড়ে যা সময়ে সময়ে বাড়ে ও কমে। আমরা সংঘর্ষের অবস্থায় আছি এবং আমরা প্রতিরোধে অবিচল থাকব। আমরা কেবল রেজোলিউশন ১৭০১ অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন মেনে নিচ্ছি, এবং আর কিছুই নয়," হিজবুল্লাহ প্রধান উল্লেখ করেন।

শেখ কাসেম বৈরুত সরকার এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে মার্কিন-পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত কাঠামোগত চুক্তিকেও প্রত্যাখ্যান করেন এবং এটিকে অবৈধ, বেআইনি ও অপমানজনক বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন যে এই চুক্তি বাতিল করতে হবে কারণ এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করছে এবং এর বৈধ অধিকার পুনরুদ্ধার করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

শেখ কাসেম আরও বলেন যে হিজবুল্লাহ এবং এর সমর্থকরা প্রতিরোধের পথে অবিচল থাকবে এবং তিনি দক্ষিণ লেবাননের ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত সম্প্রদায়গুলোর পুনর্গঠনে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন