'এই অঞ্চলে আমেরিকানরা ভালো অবস্থানে নেই, কিছু মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করেছে'
'হুমকি দেখা দিলে আগাম হামলার জন্য প্রস্তুত ইরান'
-
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আকরামিনিয়া
পার্সটুডে: ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণাত্মক কৌশলে পরিবর্তনের পর কোনো আসন্ন হুমকি দেখা দিলে আগাম অভিযান পরিচালনার জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আকরামিনিয়া এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আল-আলামের এক সংবাদদাতার প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “নিশ্চয়ই আমেরিকানরা এই অঞ্চলে তৎপর এবং সক্রিয় রয়েছে। তবে সত্যিই যুদ্ধ শুরু হবে কি না—সে বিষয়ে বলতে গেলে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও সেনাবাহিনী যুদ্ধবিরতির সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। আমরা আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করেছি, সরঞ্জামগুলোর কার্যক্ষমতা উন্নত করেছি, নতুন সরঞ্জাম আমাদের যুদ্ধ কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং যুদ্ধকালীন মজুত, অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়েছি।”
তিনি বলেন, “আমেরিকার বিষয়ে আমি মনে করি, এই অঞ্চলে আমেরিকানরা ভালো অবস্থানে নেই। কারণ তাদের ঘাঁটিগুলো মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে। আকাশ ও স্যাটেলাইটের ছবি এবং মাটিতে সরেজমিন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আমাদের পর্যবেক্ষণেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। আমাদের কাছে থাকা তথ্য বলছে, আমেরিকান ঘাঁটিগুলো অত্যন্ত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এসব ঘাঁটির অধিকাংশই এখন আর পুনর্নির্মাণ করাও সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, এর ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর রসদ সরবরাহ ও সহায়তা ব্যবস্থায় গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার জন্য জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহও এখন সমস্যার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। ফলে তাদেরকে এই অঞ্চলের বাইরে—পূর্ব এশিয়া ও দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি থেকে—রসদ সরবরাহের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। এ দিক থেকেও আমেরিকানরা অনেক অসুবিধা ও সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।
মার্কিন সেনাদের মনোবল সম্পর্কে তিনি বলেন, কোনো কোনো মার্কিন সেনা আত্মহত্যা করেছে এবং মার্কিন বাহিনী মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় নেই। তিনি বলেন, “আমাদের সামগ্রিক বিশ্লেষণ হলো, আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি অনুকূল নয়। এ কারণে আমেরিকানরা হয়তো পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য কোনো পরিবর্তন আনতে চাইতে পারে এবং কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে।”
তবে তিনি বলেন, বাস্তবতা হলো তাদের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল নেই।
১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক কৌশল এবং আগাম যুদ্ধের ধারণা সম্পর্কে আকরামিনিয়া বলেন, জাতিসংঘ সনদ বৈধ আত্মরক্ষা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, “১২ দিনের যুদ্ধের পর আমরা আমাদের কৌশলকে আগাম যুদ্ধের দিকে এগিয়ে নিয়েছি।”
তিনি বলেন, শহীদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইয়্যেদ আবদোলরহিম মুসাভি ইরানের সামরিক মতবাদকে প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার কৌশলটি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করেছিলেন। “এই যুদ্ধে আমরা বাস্তবে এই কৌশল কার্যকর করেছি। এর আওতায় আমরা ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে বিপ্লববিরোধী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছি।”
তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণামতে, বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল, যাতে একই সময়ে আমেরিকার হামলার পাশাপাশি ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় স্থলসীমান্তেও হামলা চালানো যায়।
তিনি বলেন, “এটি আসলে এক ধরনের আগাম যুদ্ধ। শত্রু আগ্রাসন চালানোর আগেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর আপনারা দেখেছেন, আজ পর্যন্ত বিপ্লববিরোধীরা আমাদের স্থলসীমান্তের বিরুদ্ধে কোনো অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম হয়নি।” #
পার্স টুডে/এমএএইচ/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।