ভারতে ফের ভোট বর্জনের ডাক সিজেপি'র, গ্রেপ্তারের আশঙ্কা নেতাদের
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163690-ভারতে_ফের_ভোট_বর্জনের_ডাক_সিজেপি'র_গ্রেপ্তারের_আশঙ্কা_নেতাদের
ভারতের নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা এবং তাঁর তৈরি ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।
(last modified 2026-10-05T12:41:43+00:00 )
অক্টোবর ০৫, ২০২৬ ১৮:৩৮ Asia/Dhaka
  • অভিজিৎ দিপকে ও জ্ঞানেশ কুমার
    অভিজিৎ দিপকে ও জ্ঞানেশ কুমার

ভারতের নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা এবং তাঁর তৈরি ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত ভোট বর্জনের ডাক দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অর্থহীন।

পুনেতে আজ (সোমবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিপকে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার যত দিন সিইসি পদে রয়েছেন এবং তাঁর তৈরি ভোটার তালিকা মেনে নির্বাচন হচ্ছে, তত দিন সেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো অর্থ নেই। তাঁর অভিযোগ, এমন নির্বাচনের ফল আগে থেকেই নির্ধারিত হয়ে রয়েছে।

দিপকের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তার সময়ও যেসব রাজ্যে বিজেপি জয়ী হতে পারেনি, এখন সেসব রাজ্যে দলটি সহজেই জয় পাচ্ছে। তাঁর দাবি, এর পেছনে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ব্যবস্থার ভূমিকা রয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার সরে গেলে এবং বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়া স্থগিত হলে প্রকৃত নির্বাচনী ফলাফল সম্পর্কে বোঝা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বরও বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছিলেন দিপকে। তাঁর যুক্তি ছিল, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও সেই নির্বাচনে অংশ নিলে বিরোধীরাই কার্যত ওই নির্বাচনকে বৈধতা দিচ্ছে।

তবে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এই আহ্বান নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন যুক্তি দিয়েছেন, নির্বাচন বর্জন করলে বিজেপিই সব আসন জিতে যেতে পারে। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতেও লড়াই চালানো প্রয়োজন।

১০ অক্টোবর ‘যন্তর মন্তর ২.০’

দিপকের ভোট বর্জনের ডাকের পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। সিজেপি একে বলছে ‘যন্তর মন্তর ২.০’।

দিপকে জানিয়েছেন, ওই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে সিজেপি নেতারা বলেছেন, পুলিশ তাঁদের যেখানে আটক করবে, সেটিই সেদিন কার্যত ‘যন্তর মন্তর’ হয়ে উঠবে।

মুম্বাইয়ের কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়।

গ্রেপ্তারের আশঙ্কা সিজেপি নেতাদের

১০ অক্টোবরের কর্মসূচির আগে সিজেপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাঁদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, তাঁকে, অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা, রত্না সিংসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এই দাবির সমর্থনে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।

দাস বলেন, সরকার যদি মনে করে এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলন থামানো যাবে, তাহলে সেটি ভুল হবে। তাঁর দাবি, তরুণ সমাজ জেগে উঠেছে এবং তারা এই ধরনের পদক্ষেপ মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, তাঁদের আন্দোলন চলবে এবং ১০ অক্টোবর বড় সমাবেশ হবে। কারাগারে যাওয়ার জন্যও তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, সিজেপির আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও সোমবার দাবি করেছেন, তাঁদের কয়েকজন নেতাকে ১০ অক্টোবরের আগে জাতীয় নিরাপত্তা আইন (এনএসএ) বা অনুরূপ আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে শুনানি

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে দায়ের করা মামলাগুলো সোমবার সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনা। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, এসআইআরসহ নির্বাচনসংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে সিইসি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪টি সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্টদের জবাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে। তবে আদালত এই পর্যায়ে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সাময়িকভাবে সরানোর আবেদন গ্রহণ করেনি।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের অধীনে নির্বাচন কমিশন একটি বহু-সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সমষ্টিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নীতি অনুসরণ করা উচিত।

নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিচারপতিদের মন্তব্য

সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটাধিকার নিয়ে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়া এবং সাবেক বিচারপতি রোহিনটন ফলি নরিম্যান।

বিচারপতি ভূঁইয়া বলেছেন, কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হলে তা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ভোটাধিকারকে নাগরিকের অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যে সরাসরি এসআইআরের নাম নেওয়া হয়নি।

সাবেক বিচারপতি নরিম্যানও ভোটাধিকার এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং কমিশনের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর অন্যতম দাবি হলো, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইআর গঠন করা। সুপ্রিম কোর্ট সোমবার সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জবাব চেয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পথ খুলে দিয়েছে।

ফলে একদিকে দিপকের ভোট বর্জনের ডাক, অন্যদিকে ১০ অক্টোবরের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি এবং সিজেপি নেতাদের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএআর/৫