এআই ও মানবাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাব জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163768-এআই_ও_মানবাধিকার_নিয়ে_বাংলাদেশের_নেতৃত্বাধীন_প্রস্তাব_জাতিসংঘে_সর্বসম্মতভাবে_গৃহীত
পার্সটুডে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ ও মানবাধিকারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
(last modified 2026-10-07T13:40:52+00:00 )
অক্টোবর ০৭, ২০২৬ ১৯:২৯ Asia/Dhaka
  • এআই ও মানবাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন প্রস্তাব জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত

পার্সটুডে: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ ও মানবাধিকারের ওপর এর প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।

মানবাধিকার পরিষদের ৬৩তম অধিবেশনে মঙ্গলবার ‘মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়।

জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, মিশর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপালকে নিয়ে গঠিত কোর গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটির খসড়া উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়াকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মানবাধিকারের দ্রুত পরিবর্তনশীল সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবটিতে এআইয়ের উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নের ওপর এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, ভবিষ্যতমুখী ও মানবাধিকারকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহারকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। একইসঙ্গে মানবিক মর্যাদা এবং মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রেজ্যুলেশনটিতে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদীয়মান প্রযুক্তির সুফলে বিস্তৃত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান ও বিজ্ঞান বিনিময় এবং প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশ মিশন গত আগস্টে কোর গ্রুপের পক্ষে প্রস্তাবটি মানবাধিকার পরিষদের প্রাক-অধিবেশন সভায় উপস্থাপন করে। এরপর বিভিন্ন প্রতিনিধিদল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে প্রস্তাবটির খসড়া চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।

প্রস্তাবটি উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এআইয়ের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও ব্যবহারকে মানবাধিকার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ মিশনের মতে, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটির সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়া বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতিফলন। একইসঙ্গে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রূপান্তরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এআইয়ের সুযোগের ন্যায়সঙ্গত সুফল নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকারও এতে পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।#

 

পার্সটুডে/পার্সটুডে/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।