ট্রাম্পের হামলার পায়তারা: সিরিয়ার পাশে থাকবে ইরান ও রাশিয়া
ইরাক ও সিরিয়ায় উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসীদের একের পর এক পরাজয় এবং প্রতিরোধ সংগ্রামীদের বিজয়ের ধারা অব্যাহত থাকায় আমেরিকা মিথ্যা অজুহাতে এখন সিরিয়ায় নতুন করে সামরিক হামলার পায়তারা করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন বিষয়ক একটি সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে দামেস্কে অবস্থান করছেন। গতকাল (বুধবার) সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় গৌতার দুমা শহরে রাসায়নিক অস্ত্র হামলার মার্কিন অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, সিরিয়ার সেনা বাহিনী গৌতায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বড় ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে এবং সাত বছর পর রাজধানী দামেস্কের নিকটবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করেছে। এ কারণে আমেরিকা ও তার মিত্ররা সিরিয়ায় নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাসায়নিক অস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলে সিরিয়ার হোমস প্রদেশের আশ্-শেইরাত বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি খ্যাতনামা মার্কিন লেখক সিমুর হারশ্ এ কথা ফাঁশ করে দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশের একই সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ট্রাম্পকে জানিয়েছিল ওই রাসায়নিক হামলার সঙ্গে সিরিয়া সরকারের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্পুতনিককে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, "সিরিয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় গৌতায় আমেরিকা ও সৌদি আরবের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা চরমভাবে পরাজিত হওয়ার পর আমেরিকা ও ইসরাইল এখন সিরিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এ লক্ষ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা রাসায়নিক অস্ত্র হামলার কল্পকাহিনী প্রচার করে সরাসরি সিরিয়ায় হামলার পায়তারা করছে।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়েও আমেরিকা কোনো লক্ষ্যই এখন পর্যন্ত অর্জন করতে না পেরে যেভাবেই হোক সিরিয়া সংকট জিইয়ে রাখার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা এবং সিরিয়া সংকট জিইয়ে রেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই দেশটিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন। আরবের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল বারি আতাওয়ান রাই আল ইয়াওমে এক প্রতিবেদনে লিখেছেন, "আমেরিকা ও তার মিত্ররা সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার যে অভিযোগ তুলেছে তা বানোয়াট হতে পারে। এ ধরণের অজুহাতে সিরিয়ায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বা সামরিক আগ্রাসন বিশ্ববাসীকে বড় ধরণের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্বযুদ্ধেরও আশঙ্কা রয়েছে। কারণ রাশিয়া মার্কিন হামলার হুমকিকে অবমাননাকর বলে মনে করছে।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি আমেরিকার যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপ এবং সিরিয়ার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের পরিণত ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, "সিরিয়ায় আমেরিকার আগ্রাসন ও বোকামি পদক্ষেপ হবে আগুন নিয়ে খেলা করার শামিল।"
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকা ও তার মিত্ররা সিরিয়ায় যুদ্ধের হুমকি দেয়ায় রাশিয়া ও ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়েছে। পরিস্থিতি ঠিক কোনদিকে যাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আমেরিকা যদি সত্যিই কোনো বোকামি করে বসে তাহলে এর জন্য তাদেরকে চরম মূল্য দিতে হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১২