ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা: তালিকায় রয়েছে চীনা ও বেলজিয়ামের কোম্পানি
-
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ৮ মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে দুই দফায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবসহ আন্তর্জাতিক সব আইনের লঙ্ঘন।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হলেও আমেরিকা ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি ধ্বংসের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে আমেরিকা পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অজুহাতে নতুন করে ইরানের আরো কিছু ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের পাঁচ ব্যক্তি ও সাত কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিবৃতিতে তারা আরো দাবি করেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছিল এবং ওই পাঁচ ব্যক্তিই ইরানি। আর যে সব কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার মধ্যে দুটি ইরানি, চারটি চীনা এবং একটি বেলজিয়ামের কোম্পানি রয়েছে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ার এবং দেশটির ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির জন্য আমেরিকা ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক স্থাপনকারীদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমেরিকার এ পদক্ষেপ পরমাণু সমঝোতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আমেরিকা কেবল গায়ের জোরে ইরানের সঙ্গে অন্য দেশের পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক বন্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত বছর ইরানকে ১২ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং সেই প্রস্তাব মেনে নেয়ার জন্য তিনি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। ওই প্রস্তাবের মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। পম্পেও দাবি করেছেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সে জন্যই দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। অথচ আইএইএর প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার এবং আমেরিকার ইচ্ছামতো নতুন করে চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার জন্য কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আমেরিকা চায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব খর্ব করতে।
কিন্তু ইরান কোনোভাবে মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শেষ সীমায় পৌঁছেছে উল্লেখ করে ব্লুমবার্গ টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, "ইরানের অর্থনীতির ক্ষতিসাধন করা ছাড়া আমেরিকার আর কিছু করার বাকি নেই।" কিন্তু ইরান নিজস্ব শক্তির ওপর ভর করে আমেরিকার সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯